গহীন বালুচর: সত্যিকারের বাংলাদেশি ছবি

‘গহীন বালুচর’- এর গল্প নতুন একটা চর জাগাকে কেন্দ্র করে। দুই এলাকার দুইটি পরিবারের মধ্যে সেই নতুন চরকে কেন্দ্র করে তাদের পুরনো শত্রুতা আবার দানা বেঁধে উঠে। গল্পটা বানিজ্যিক ছবি হিসেবে ভাল। খুব অসাধারণ না হলেও একেবারেই বোরিং বা অযৌক্তিক কিছু না। চিত্রনাট্যটাও মোটামুটি ভাল। রোমান্টিক দৃশ্য গুলো খুব সুন্দর ভাবে লেখা হয়েছে। তবে অন্য রোমান্টিক ছবির মত এ ছবিটি কেবলমাত্র নায়ক-নায়িকাকে কেন্দ্র করে না। বরং অনেক গুলো চরিত্র আছে ছবিতে। যার মধ্যে কিছু কিছু চরিত্র ভাল ছিলো আবার কিছু কিছু চরিত্র প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লম্বা।

তবে বদরুল আনাম সৌদ ছবিটা বেশ ভাল ভাবেই বানিয়েছেন। অসম্ভব সুন্দর লোকেশন। গ্রামের নদী, মাঠ, ঘাট খুব সুন্দর ভাবে চিত্রায়ন করা হয়েছে। নির্মাতা হিসেবে তাঁর কাজ এই প্রথম দেখলাম। আমার কাছে তার কাজ ভাল লেগেছে। সাধ্যের মধ্যে খুব গোছানো সুন্দর একটা চলচ্চিত্র নির্মান করেছেন তিনি।

ছবির খুব ভাল একটি দিক হচ্ছে এর কাস্টিং। হুরায়রা তানভীর চমৎকার অভিনয় করেছে। প্রথম ছবিতেই সে মন জয় করেছে। প্রত্যেকটা দৃশ্যে সে ন্যাচারাল। ছবিতে দুইজন নতুন নায়িকা অভিনয় করেছেন। জান্নাতুন নূর মুন ছবির প্রধান নায়িকা এবং সে গ্রামের মেয়ের চরিত্রে খুবই ন্যাচারাল অভিনয় করেছে। ছবির দ্বিতীয় নায়িকা নীলাঞ্জনা নীলা দেখতে অসম্ভব মিষ্টি। তার চরিত্রটি দৈর্ঘ্যে ছোট। কিন্তু সে যতটুকু স্পেস পেয়েছে প্রতিটা জায়গায় সে মন কেড়ে নিয়েছে। আর ফজলুর রহমান বাবু খুবই ইন্টারেস্টিং একটা চরিত্র করেছে।

যারা তাঁর অভিনয়ের ভক্ত এ ছবিতে তারা তাকে দেখে বেশ মজা পাবে। আমার কাছে তার অভিনয় বরাবরই ভাল লাগে। এ ছবিতেও সে দারুন করেছে। ভিলেইন চরিত্রে জিতু আহসান ভাল করেছে। তবে সুবর্না মুস্তফা একটু বেশী ড্রামাটিক ছিলো। আমার কাছে তাকে তেমন ভাল লাগেনি। বাকিরা সবাই নিজ নিজ জায়গায় ভাল ছিলো। ছবিতে পাঁচটি গান আছে। ভালবাসায় বুক ভাসাইলা, আমি দেখি তারে রোদ্দুরে এবং স্যাড সং টা শুনতেও খুব ভাল লেগেছে, দেখেও মন ভরেছে। তবে বাকি গান দু’টো অপ্রয়োজনীয় এবং আমার ভাল লাগেনি।

ছবির লোকেশন এবং সিনেমাটোগ্রাফি খুব সুন্দর। বাংলার গ্রামীন পরিবেশ, নদী, মাঠ, ঘাট দেখে চোখ, মন দুটোই জুড়িয়েছে। বিশেষ করে রোমান্টিক দৃশ্যগুলো খুব সুন্দর ভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। এডিটিং ভালই ছিলো। তবে সাপোর্টিং কাস্টদের দীর্ঘ দীর্ঘ দৃশ্য আরেকটু ছোট করলে ছবিটা গতিশীল হতো।

আর ছবির ডায়লগও ন্যাচারাল ছিলো। বিশেষ করে তানভীর-মুন জুটির রোমান্টিক ডায়লগ গুলো খুব ন্যাচারাল। আর ফজলুর রহমান বাবুর ডায়লগ গুলো উপভোগ্য ছিলো।

সবমিলিয়ে, গহীন বালুচর- এর রোমান্টিক দৃশ্য গুলো খুব সুন্দর। খুব সুন্দর লোকেশনে খুব সুন্দর ভাবে ছবিটা চিত্রায়িত হয়েছে। গল্প ও চিত্রনাট্য বানিজ্যিক ছবি হিসেবে বেশ ভাল। শুধু শেষটা একটু বেশি গতানুগতিক। আর সুবর্না মুস্তফার চরিত্রটা আননেসেসারিলি ড্রামাটিক।

তানভীর আর নীলা মুগ্ধ করেছে তাদের প্রতিটা শটে। মুনও দারুণ ন্যাচারাল। ফজলুর রহমান বাবু মাতালের চরিত্র খুব খুব উপভোগ্য।বদরুল আনাম সৌদ নির্মাতা হিসেবে দারুন কাজ দেখিয়েছে। একেবারে পিউর বাংলাদেশী ছবি হয়েছে।

আমি ছবিটিকে দিচ্ছি ৩.৫ দিচ্ছি। অর্থাৎ ৭০% মার্কস বা এ গ্রেড।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।