সত্যজিতের শেষ সৃষ্টি

উপমহাদেশের সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্র পরিচালক কে? কোনো হিন্দি সিনেমার পরিচালক নন, এই তালিকায় ওপরের দিকে থাকবেন বাংলা ভাষার কিংবদন্তিতুল্য পরিচালক, আমাদের সবার প্রিয় সত্যজিৎ রায়।

সর্বকালের সেরা ২০ পরিচালকদের মধ্যে ১২ নম্বর স্থানে থাকা জাপানের আকিরা কুরোসাওয়া সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘রায়ের সিনেমা না দেখা মানে হল চাঁদ ও সূর্য্য ছাড়া পৃথিবীকে দেখা।’

সত্যজিৎ রায়ের পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা হচ্ছে ‘আগন্তুক’। ১৯৯১ সালে নির্মিত এই সিনেমার আইএমডিবি রেটিং ৮.১ এবং রোটেন টমেটোর স্কোর ১০০ তে ৯৭!

আগন্তুক সিনেমার শুরু একটি চিঠি থেকে। মিডলক্লাস কলকাতার ফ্যামিলির নারী অনিলার কাছে একটি চিঠি আসে। সেখানে লিখা থাকে যে, একজন বয়স্ক লোক যিনি নিজেকে অনিলার মামা বলে দাবি করছেন, তিনি ৩৫ বছর পর পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে নিজ জন্মভূমি কলকাতায় এসেছেন।

এখন নিজের ভাগ্নীর কাছে কিছুদিন বেড়াতে আসবেন। শুনে তার সন্তান উৎফুল্ল হলেও তার স্বামী সুধিন ব্যপারটা সহজভাবে নিতে পারে না। কারণ ৩৫ বছর আগের সেই হারানো মামার কোনো পরিচয়ই অনিলা জানে না। কাজেই তার স্বামী ব্যপারটাকে একজন প্রতারকের আগমন বলে সন্দেহ করে।

এক নজরে আগন্তুক

জেনার: ড্রামা

পরিচালনা, প্রযোজনা ও চিত্রনাট্য: সত্যজিৎ রায়

উৎস: সত্যজিত রায়ের অতিথি নামের ছোট গল্প অবলম্বনে

মুক্তি: ১৯৯১ (ভারত), ২২ মে ১৯৯২ (আমেরিকা), ১৯ নভেম্বর ১৯৯৩ (যুক্তরাজ্য)

দৈর্ঘ্য: ১২০ মিনিট

অনিলা মানবিক জায়গা থেকে তার অপরিচিত মামাকে না বলতে পারে না। মামা বাড়িতে আসেন। তাঁর সমস্ত কার্যকলাপ অত্যন্ত শিক্ষাদীক্ষা ও বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ দেয়। নানান জাতি, ধর্ম ও অদ্ভুত সব মানুষদের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে পরিপূর্ণ।

অনিলার মন সরল বলে তেমন সন্দেহ করে না অপরিচিত সেই মামাকে। কিন্তু তার স্বামীর সন্দেহ যায় না। তাই সুধিন নিজের অভিনেতা বন্ধু ও পরিচিত উকিলকে ব্যপারটা জানায় যাতে তারা এসে সেই অনাহুত আগন্তুকের সত্য পরিচয় বের করে ফেলতে পারে।

ঘটনা জোড়ালো উত্তেজনাকর হয়ে উঠে। আগন্তুকের সমস্ত কার্যক্রম ঘিরে জমতে থাকে ফিলোসফিক্যাল কমেডি, বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের সেন্টিমেন্ট, স্যাটায়ার ও আতিথেয়তার বাহুল্য সংক্রান্ত ঘটনা।

সেই সাথে সিনেমার নানা জায়গায় আগন্তুকের অর্জিত অভিজ্ঞতার বর্ণনায় উঠে আসে মানবতা, সভ্যতা, অহঙ্কার ও লোভের উচ্চমার্গীয় দার্শনিক অভিব্যক্তি। বাঙালি হয়ে সিনেমা দেখার অভ্যাস থাকলে সত্যজিতের সিনেমা না দেখা মহা অন্যায়। এক্ষেত্রে আকিরা কুরোসাওয়া সম্পূর্ণ সঠিক।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।