সংকটাপন্ন জার্মান মেশিন?

ব্রিটিশ কিংবদন্তি ফুটবলার গ্যারি লিনেকার একবার বলেছিলেন, ‘ফুটবল খুব সাধারণ একটা খেলা। ২২ জন মানুষ ৯০ মিনিট ধরে একটা বলের পেছনে ছোটে, আর শেষে এখানে সব সময় জার্মানি জেতে।’ জার্মান ফুটবলের প্রতিপত্তি বোঝাতে আসলে এর চেয়ে বড় সার্টিফিকেট আর হতে পারে না।

সেই জার্মান ফুটবল আজ দাঁড়িয়ে আছে অস্তিত্বের সংকটে। আজ সুইডেনের বিপক্ষে একটু ওলট-পালট হলেই ৮০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মত গ্রুপ পর্বের বাঁধা টপকানোর আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হবে জার্মানদের।

প্রতিপক্ষও খুব সহজ নয় – সুইডেন। দল দু’টো মুখোমুখি হয়েছে মোট ৩৬ বার। এর মধ্যে জার্মানরা জিতেছে ১৫টি ম্যাচ, আর সুইডেন জিতেছে ১২ বার। ফলে, আজকে সুইডেন জিতে গেলে তাকে মোটেই অঘটন বলার কোনো উপায় নেই।

তবে, বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফরম্যান্সের দিক থেকে একটু হলেও এগিয়ে থাকবে জার্মানি। কারণ, চারবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে তিনবারই এখানে জিতেছে জার্মানি। আর সুইডেন বিশ্বকাপে জার্মানদের বিপক্ষে একমাত্র জয়টি পেয়েছে ১৯৫৮ সালে, নিজেদের দেশে। সেবার ফাইনাল খেলেছিল সুইডেন, ফাইনালে হারে পেলে-গারিঞ্চাদের ব্রাজিলের কাছে।

জার্মানির জন্য আরেকটি সুসংবাদ হলো আজ একাদশে ফিরতে পারেন লেফট ব্যাক জোনাস হেক্টর। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে ফ্লু জনিত কারণে তাকে বিবেচনায় রাখতে পারেননি জোয়াকিম লো। সেই ম্যাচে জার্মানি মেক্সিকান তরুণ হার্ভিং লোজানোর গোলে ১-০ ব্যবধানে হারে।

সুসংবাদ আছে সুইডিশ শিবিরেও। দেশটির ডিফেন্ডার ভিক্টর লিন্ডেলোফ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেননি। তবে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফুটবলার সুস্থ জয়ে ফিরেছেন অনুশীলনে।

বাছাইপর্বে ফ্রান্সের গ্রুপে ফরাসিদের ঠিক পেছনেই ছিল সুইডেন। সেখানে নেদারল্যান্ডসকে টপকেছে তারা। একই সাথে প্লে-অফে ইতালিকে দুই লেগ মিলে ১-০ গোলে হারানোর পরই নিশ্চিত হয়েছে সুইডেনের বিশ্বকাপ খেলা। বোঝাই যাচ্ছে, নার্ভ শক্ত রেখে বড় দলের বিপক্ষে কিভাবে জিততে হয় সেটা সুইডিশদের ভালো ভাবেই জানা আছে

জার্মানির বাছাইপর্বটা ছিল খুবই স্বাচ্ছন্দ্যময়। বাছাইপর্বের ১০ খেলার সবগুলোতেই জিতেছে তারা। তবে, ম্যানুয়েল নয়্যারের দলের বড় সমস্যা সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। শেষ সাতটি ম্যাচের মধ্যে কেবল একটিতে জিতেছে তারা। সেই ২-১ ব্যবধানে জয় আবার এসেছে দুর্বল দল সৌদি আরবের বিপক্ষে।

ওজিলের খেলা নিয়ে আছে সংশয়

গত ৮০ বছরের মধ্যে জার্মান কেবল নিষেধাজ্ঞার কারণে ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি। এর বাদে আর কোনোবারই প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়ার কোনো নজির নেই। বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই তাঁরা বাদ পড়েছিল কেবল একবার, সেটা ১৯৩৮ সালের ঘটনা। ফলে, আজ কোনো বিপদ হলেই সেটা জার্মান ফুটবলের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।