শিশু শিল্পী থেকে বলিউড ডিভা

‘ঘুমিয়ে আয়ে যে শিশুর পিতা সকল শিশুর অন্তরে’ – বহুল ব্যবহারে ক্লিশে হয়ে যাওয়া এই প্রবাদটি বলিউডের ক্ষেত্রে ‍খুব প্রযোজ্য। বিশেষ করে, এক গাদা নায়িকা আছেন, যাদের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল শিশু শিল্পী হিসেবে। আর আজ তাঁরা রীতিমত বলিউড ডিভা। তাঁদের নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

  • আলিয়া ভাট

১৯৯৯ সালের ক্রাইম থ্রিলার ‘সংঘর্ষ’-এ প্রীতি জিনতার শিশুকালের চরিত্রে ছিলেন আলিয়া ভাট। পরিচালক মহেশ ভাটের কন্যা ২০১২ সালে ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দিয়ে আসেন বলিউডে। এরপর ‘টু স্টেটস’, ‘হাই ওয়ে’. ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘রাজি’র মত সিনেমায় তিনি আলোচিত হন। এই সময় তিনি সেরাদের একজন।

  • হান্সিকা মোতওয়ানি

তিনি আসলে শিশুবেলাতেই বেশি জনপ্রিয় ছিলেন। ২০০৩ সালে হৃতিক রোশানের ‘কই… মিল গ্যায়া’তে কাজ করেন, ২০০৪ সালে ‘জাগো’ সিনেমায় শিশু রেপ ভিক্টিমের চরিত্র করেন। এছাড়া বিস্তর টেলিভিশন সিরিজে কাজ করেন। এরপর ‘আপ কা সুরুর’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে তার আবির্ভাব হয়। বলিউডে স্থায়ী না হলেও দক্ষিণী ছবিতে তিনি নিয়মিত মুখ।

  • সানা সাঈদ

২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ারের আবেদনময়ী তানিয়া ইসরানি চরিত্রটি সকলের নজর কেড়েছিল। কে এই মেয়েটি? তিনি হলেন ১৯৯৮ সালে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমায় শাহরুখ খান ও রানী মুখার্জীর মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করা সানা সাঈদ। এরপর ‘বাবুল কি আঙ্গান ছুটে না’. ‘লো হো গায়ি পুজা ইস ঘার কি’ সিরিয়ালে কাজ করেন। ‘ঝালাক দিখলাজার ষষ্ট সিজনেও ছিলেন তিনি। টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত তিনি।

  • পুজা রুপারেল

১৯৯৫ সালের বিখ্যাত সিনেমা ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমায় কাজলের বোন চুটকি চরিত্রের জন্য তিনি পরিচিতি পান। এরপর থিয়েটার ও টেলিভিশন সিরিয়ালে কাজ করেন। অনিল কাপুরের বিখ্যাত সিরিজ ‘২৪’-এর ভারতীয় ভার্সনেও কালার্স টেলিভিশনে তাঁকে দেখা যায়।

  • আয়েশা টাকিয়া

নব্বইয়ে দশকে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে ‘আই অ্যাম অ্যা কমপ্ল্যান গার্ল’ – এই কথাটি জনপ্রিয় হয়েছিল আয়েশা টাকিয়ার কল্যানে। পরবর্তীতে তিনি ‘বি-টাউন’-এর উজ্জ্বল তারায় পরিণত হন। যদিও, এখন সংসারে ব্যস্ত হয়ে বলিউড থেকে দূরে আছেন তিনি।

  • উর্মিলা মাতণ্ডকার

১৯৮৩ সালের সিনেমা ‘মাসুম’। ক্লাসিক এই সিনেমায় শাবানা আজমী ও নাসিরউদ্দিন শাহ’র মেয়ের চরিত্রে ছিলেন উর্মিলা। এর ১২ বছর পর ১৯৯৫ সালে ‘রঙ্গিলা’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে তিনি ঝড় তোলেন।

  • কঙ্কনা সেন শর্মা

১৯৮৩ সালের বাংলা সিনেমা ‘ইন্দিরা’য় কাজ করেন চার বছর বয়সী কঙ্কনা সেন শর্মা। সিনেমাটিতে তার মা অপর্ণা সেনও ছিলেন। মজার ব্যাপার হল, ছবিটিতে তিনি ক্ষুদে রাজকুমার-এর চরিত্র করে। আর এখন কঙ্কনা বলিউডের অন্যতম গুণী অভিনয় শিল্পীদের একজন।

  • মালভিকা রাজ

২০০১ সালের আলোচিত সিনেমা ‘কাভি খুশি কাভি গম’-এ কারিনা কাপুরের শৈশবের চরিত্রে দেখা যায় তাকে। এরপর মালভিকা ২০১০ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগীতায় অংশ নেন। এখন তিনি পুরোদস্তর মডেল ও জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলার।

  • টাবু

‘হাম নওজোয়ান’, ১৯৮৫ সালের সিনেমাটিতে কিংবদন্তি দেব আনন্দের তরুণ কন্যার চরিত্রে কাজ করেন টাবু। নব্বইয়ের দশক কিংবা এখনো টাবু বলিউডের ‘হাইলি রেটেড’ অভিনয় শিল্পীদের একজন।

  • শ্রুতি হাসান

কমল হাসানের মেয়ে শ্রুতি হাসান ২০০০ সালে বাবার বিতর্কিত সিনেমা ‘হে রাম’-এ সর্দার বল্লভভাইয়ের মেয়ের ছোট্ট একটা চরিত্র করেন। এরপর ২০০৯ সালে লাক সিনেমায় তার অভিষেক। এখন বলিউডের সাথে দক্ষিণী সিনেমাতেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়।

  • শ্বেতা প্রসাদ বসু

মাকড়ি ও ইকবাল – যথাক্রমে ২০০২ ও ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া দু’টি সিনেমা। এখানে শিশুশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করার সুবাদে রীতিমত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্ম ফেয়ার, আইফা, জি সিনে – সব জিতে যান শ্বেতা। এখন তিনি দক্ষিণী ছবি ও টেলিভিশনে কাজ করেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।