শাকিব অপুর জন্য কি করেছেন?

শাকিব খানকে আগে কেউ যখন কেউ গালমন্দ করতো, তখন সত্যি বলতে আমি তার সাথে তর্ক করতাম৷ না আমি তার ফ্যান বা এমন কিছু না৷ বাট আমি বাংলা সিনেমার খরা থেকে উপরে উঠাতে কতগুলো বছর শাকিবের অবদান ছিলো, সেটা নিয়ে তর্ক করতাম৷

মিডিয়া পাড়ায় স্বামী স্ত্রীদের সংসার ভাঙা নতুন না৷ এসব নিয়ে তাই কথা বলতেও ইচ্ছে করে না৷ কিন্তু আজ শাকিব অপুর বিষয় নিয়ে কিছু কারণে কথা বলতেই হচ্ছে৷

বেশ কয়েক মাস আগে শাকিব আর অপুর বিয়ের খবর মিডিয়া পাড়ায় খুব তোলপাড় হয়৷ একটা সময় দেখা যায় শাকিব বাচ্চা স্বীকার করবে কিন্তু অপুকে না তারপর তার মত বদলে সে বললো, অপুকেও সে মেনে নেবে৷ সেভাবেই চলতে ছিলো কিন্তু এই মেনে নেওয়ার পেছনে যে এতো ছলনা থাকবে তা কেউ বুঝতে পারেনি৷ আসলে বুঝবে কি করে? টেলিভিশন পর্দার মত বাস্তবেও অভিনয়টা ভালই করেছেন শাকিব।

আমি বলবো না অপু বিশ্বাস ধোয়া তুলসী পাতা কিন্তু অপু বিশ্বাস এমন একজন নারী যিনি শাকিবের জন্যে নিজেদের প্রায় দীর্ঘ ৯ বছরের একটা বৈবাহিক জীবন গোপন রেখেছেন৷

কিন্তু শাকিব তার জন্যে কি করেছেন?

শাকিব চায়নি অপু এখন বাচ্চা নিক৷ শাকিবের এই বারবার মানা শুনে অপু তিন তিনবার গর্ভপাত করে৷ একজন মা তার বাচ্চা কখন নেবে, নেবে কি নেবে না! সেটা কি তার স্বামী ডিসিশন নেবে? বাচ্চাটা তো শাকিব পটে ধরবে না তাহলে তার কিসের এতো অসহ্য?

তারপর অপু জয়ের জন্ম দেয়৷ আর এতেই শাকিব বেশি ক্ষেপেছে কারণ সে চাচ্ছিল বাচ্চা আর তার বিয়ের খবর যেন মিডিয়ার কেউ না জানে এতে করে নাকি তার ক্যারিয়ার ধ্বংস হবে৷ বাহ একজন মা, একজন নারী যিনি ৯ বছর সব গোপন রেখেছেন, তিনবার গর্ভপাত করিয়েছেন, সেখানে সাকিব একজন স্বামী হয়ে মিডিয়ার দোহায় দিচ্ছে৷ মিডিয়া তার কাছে এতো বড় হয়ে গেলো?

আমি তো জানতাম বিবাহের খবর নারীরা গোপন করে। তাহলে শাকিব কেন করলেন? জনপ্রিয়তা কমে যাবার ভয়ে? আর এখন হলো আধুনিক যুগ, বিবাহ এসব জীবনেরই অংশ, গোপনের কিছু নেই৷ অহরহ নায়ক নায়িকা বিয়ে করার পরেও মিডিয়ায় যাদের তুমুল জনপ্রিয়তা৷

অপু শাকিবের জন্যে নিজের ধর্ম ত্যাগ করেছে৷ মিডিয়া থেকে অনেক বছর নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল৷ দেশ ছেড়ে গোপনে কলকাতায় থেকেছে৷

সেখানে শাকিব অপুর জন্যে কি করেছেন?

অপু চেয়েছিল নিজের নাম পাল্টে ভালোবাসার মানুষের নামে মিল রেখে নাম রাখবেন, অপু বিশ্বাস খান কিন্তু শাকিব তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পাসপোর্ট থেকে শুরু করে সব জায়গায় ‘অপু বিশ্বাস’ নাম রাখতে বলেছে যাতে কেউ না জানতে পারে৷

তাহলে শাকিব অপুর জন্যে কি করেছেন?

আমি অপু বিশ্বাসকে একজন নায়িকা হিসেবে দেখছি না তাকে আমি একজন নারী আর একজন মায়ের ভূমিকায় রাখলাম৷ আমাদের সমাজে এখনও নারীদের ঠিক এভাবে পদে পদে ভুগতে হয়৷ সেটা কোনো মধ্যবিত্ত নারী বা কোনো বস্তির গরীব নারী হোক বা কোনো টিভি পর্দার সেলিব্রিটি৷

তারা নিজেদের এতোটুকু ত্যাগ করেও পোহাতে হয় নানান যন্ত্রণা, হয়রানী, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার৷ শাকিবের মতন স্বামীরা এদের উঠতে বসতে খেতে শুতে অত্যাচার করে যা সবসময়ই এরা মুখ বুঝে সহ্য করে নেয়৷ নিতে হয়৷ একজন নারী নিজের বাচ্চা যদি নিজের ইচ্ছায় প্রসব করতে না পারে তাহলে সমাজে সভ্যতা বলতে কিছু থাকলো না৷

নারী যদি তার নিজস্ব স্বাধীনতা, তার সন্তানের আদর যত্নের স্বাধীনতা, বিয়ের স্বাধীনতা, তার নিজের কিছু নিজ ইচ্ছে ঠিকমত পূরণ করতে না পারে৷ সেখানে যদি সাকিবদের মতন স্বামীরা যুগে যুগে অত্যাচার আর পরাধীনতা শেকল পরিয়ে রাখে, তাহলে এমন সমাজ আমরা চাই না৷ এ সমাজ জানোয়ারদের কোনো সভ্য মানুষের হতে পারে না৷

একটা সংসারে রাগ, অভিমান, জেদ থাকতেই পারে তাই বলে সংসার ভেঙে দেবে কেন! দুটো পাতিল একসাথে থাকলে আওয়াজ হবেই তাই বলে পাতিল রাস্তায় ছুড়ে ফেলতে হয় না৷ অপু নিজেই বলেছে, ডিভোর্স দিবে ঠিক আছে কিন্তু কারণ কি? আর সংসারের ঝগড়া পারিবারিকভাবে বসে ঠিক করতে হয় হুট করে তালাক দিয়ে না৷

শাকিব খান টিভির পর্দার নায়ক ঠিকই কিন্তু বাস্তব জীবনে তা নন৷ তাকে যদি কেউ কাপুরুষও বলে তাতে আমি আপত্তি করবো না। অপরদিকে অপু একজন সাহসী নারী৷ একজন সাহসী মা৷ টিভির পর্দার নয় তিনি একজন বাস্তব জীবনের নায়িকা৷

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।