লোম খাড়া করা স্প্যানিশ থ্রিলার

আমার প্রিয় জেনার থ্রিলার, এর একটা বড় কারণ হয়তো আমার বেলায় সিনেমা দেখতে বসলে একটা মেন্টাল প্রেসার ক্রিয়েট করে। বিস্মিত হতে হয় সিনেমার শেষে। স্প্যানিশ থ্রিলার সম্পর্কে বললে প্রথমে বলতে হয় এরা যা বানায় হয়তো হলিউডি বাজেটের না। তকে, মুভির সাসপেন্স কিংবা গল্প বলার ধরন অভিনয় দেখলে মনে হবে এরা কোন অংশেই পিছিয়ে নেই। থ্রিলারের দিক থেকে স্পেনের সিনেমা ওপরের দিকেই থাকবে।

সেরকমই তিনটা স্প্যানিশ থ্রিলার নিয়ে কথা বলতে চাই যা দেখে মনে হয়েছিল একজন দর্শক কখন সিনেমা শেষে বলতে পারে কি দেখলাম! এই ধরনের থ্রিলার দেখলে আপনার কাছে হলিউডের থ্রিলার পানসে লাগার চান্স থাকতে পারে। সাধারন সিনেমাখোর হয়ে আজকে বলছি তিনটি ভিন্ন গল্পের থ্রিলার সিনেমার কথা যা আপনাকেও ভাবাতে পারার প্রবাবিলিটি থাকতে পারে।

দা ইনভিসিবল গেস্ট (২০১৬)

প্রিয় পরিচালক অরিওল পাউলওর থ্রিলারগুলির একটা ইনফেক্ট তার ম্যাক্সিমাম সিনেমা থ্রিলার। প্লট সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রথমে সিনেমার নামের দিকে খেয়াল করেন কে হতে পারে ইনভিসিবল গেস্ট শুধুমাত্র এইটা মাথায় নিয়ে সিনেমা দেখতে পারেন উত্তর এর মধ্যেই পাবেন। প্লট বলতে চারজনকে কেন্দ্র করে গল্পটা এগিয়েছে। একজন নব্য ধনী ব্যবসায়ী যার অঢেল টাকা ক্ষমতা সবকিছু তার কন্ট্রোলে থাকা চায় কিন্ত ঘঠনা শুরু হয় তার সাথে উঠতি মডেল সম্পর্কে থাকা অবস্থায় মার্ডার হয় এবং সে জড়িয়ে পরে তার ট্রায়াল শুরু হবে হাতে সময় তিনঘণ্টা।

এই তিন ঘন্টা সে সেরা আইনজীবীকে নিয়োগ করে মুক্তি পাওয়ার জন্য। তারপর একজোড়া বৃদ্ধ দম্পতি যারা তাদের নিখোঁজ ছেলে খুজতে খুজতে প্রশাসনের কাছে অসহায় হয়ে পরে ন্যায়বিচার পাই না। সিনেমা এই দুইটো ঘটনা প্যারালাল এবং একটা আরেকটা ঘটনার সাথে বেশ ভালোভাবে কানেকটেড। এই পরিমান টুইস্ট আমি আশা করি নাই দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল একটা সময়ে গিয়ে সিনেমা ঝুলে যাবে শেষপর্যন্ত কি হয় বৃদ্ধ দম্পতি কি ন্যায়বিচার পাই এই প্রশ্নের উত্তর পেতে দেখতে পারেন দা ইনভিসিবল গেস্ট বেশ উপভোগ্য সিনেমা।

ওয়াইল্ড টেইলস (২০১৪)

এটা আরেকটা মাথা খারাপ করা মুভি। ছয়টা ছোট গল্পের সমাহার এই মুভি এবং ছয়টা সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। ছোট গল্প পড়তে গিয়ে যেমন মনে হয় দ্যাত কাহিনী কি নাই কি নাই একটা আফসোস বিরাজ থাকে। এই সিনেমার বেলাই এই কথাগুলি প্রযোজ্য, ছয়টা গল্পের লেন্থ ১০-২৫ মিনিট কিন্ত প্রত্যেকটা গল্প আপনাকে চরম উত্তেজনা দিবে।

প্লটের ফ্লাকচুয়েশন এমন যে মনে হচ্ছিল শালার ছয়টা গল্প দিয়েই আলাদা আলাদা সিনেমা বানানো সম্ভব। মুভির পজিটিভ দিক পরিচালক দেখাতে চেয়েছে আসলে মানুষ স্ট্রেসে থাকলে কি ধরনের এক্সট্রিম বিহেভিয়ার করতে পারে। নেগেটিভ দিক গল্পগুলি ছয়টা না অর্ধেকে নিয়ে এসে কিছুটা ফার্নিশ করে একটা আরেকটার সাথে কানেক্ট করা যেত অবশ্য গল্পগুলি স্বতন্ত্র এইগুলির ক্যারাটারস্টিক আলাদা আলাদা। বেশ এন্টারটেইনিং সিনেমা।

নাইন কুইন্স (২০০০)

আসলে আমি বেশ ভালোই কমন থ্রিলারগুলি দেখেছি আমার কাছে মনে হয়েছে এই সিনেমার কাছে দা ইউজুয়েল সাসপেক্ট কিছুই না। এইটা মনে হয়েছে ওয়ান অফ দা বেস্ট থ্রিলার ইন স্প্যানিশ সিনেমা। দুইজন ছিচকে চোর জুয়ান এবং মার্কোস যারা একজন আরেকজনরে চিনেও না তারা একটা সুপার স্টোরে আবিষ্কার করে ছোট্ট একটা ইন্সিডেন্ট এর মধ্যে দিয়ে। তারা অনেক সিদ্ধান্তহীনতার পর সিদ্ধান্ত তারা আরো বড় কিছু করবে এইভাবে আগাচ্ছিল গল্প। ওয়েল কেন বললাম এইটা সেরা থ্রিলারগুলির একটা সেই প্রশ্নের উত্তরে বলছি এইখানে আসলে রিয়েল প্রটাগোনিস্ট কে, কাকে কে নিয়ে প্ল্যানিং করছে এইগুলি বিন্দুমাত্র সিনেমার মুভমেন্ট ক্যারাক্টারের প্রেজেন্টেশনে বোঝা যায় না। রাইটিং, এক্টিং, ডিরেকশন কোন সময় সিনেমার ডিস্ট্রাকশন ক্রিয়েট করেনি। আসলে প্লটের কনস্টেন্ট মুভমেন্টে গল্প কোন জায়গায় আপনাকে হতাশ করবে না। স্টোরিটেইলিং, ক্যারাক্টার প্রেজেন্টেশন, আর ডার্ক হিউমার সবকিছু আশা করা যায় এই সিনেমা।

কোরিয়ান থ্রিলারগুলিতে ভায়োলেন্স থাকে এই মুভি এই জনরার হয়েও মনে হচ্ছিল উইথ আউট এ সিঙেল এটাম্প দর্শক কিভাবে ব্যাফেল হতে পারে। দা ইউজুয়েল সাসপেক্ট এর সাথে এর মূল কিন্ট দুনিয়াকে দেখাতে সমর্থ হয় কাইজার সুজি নামে কেউ ছিলো না কিন্ত এই মুভিতে গ্রেটেস্ট ট্রিক এবং ইভিল ডেসক্রিপশনে সমতুল্য ভাবনা দর্শককে দিবে আসলে কে কত বড় রিং মাস্টার। দা উইজুয়েল সাস্পেক্ট যদি হয় ইন্টারোগেশন থ্রিলার তাহলে নাইন কুইন্স হল এ টোটাল প্যাকেজ অফ বিগ মিস্ট্রি কে কাকে সংঘায়িত করছে এইটা মুভি শেষে কিটোনের হেটে যাওয়ার মত বুঝতে পারবেন নিঃশব্দে। নন-এমেরিকান সিনেমা হিসেবে দুইহাজারে নির্মিত এই ধরনের সিনেমা কল্পনা করা যায় না। বেশ গুছানো প্লট,টুইস্ট, ডায়ালগ, আর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের কারণে আমি সবসময় আমি এই সিনেমাকে আলাদা করে রাখি, দেখতে পারেন ১১৪ মিনিটের সাসপেন্সে ভরপুর নয়জন কুইনের করা অসাধারণ প্রেজেন্টেশন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।