লিটন, আপনার মুখে ফুলচন্দন পড়ুক

ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা, অনিশ্চিত সৌন্দর্য্যের খেলা। তো এখানে যে কেউ যে কোনো মুহূর্তে ভেলার হাল ধরতে পারেন, অকূল পাথারে পথ হারানো অভিযাত্রীদের পথ দেখাতে পারেন, দক্ষ নাবিকের ন্যায় শক্ত হাতে সামাল দিতে পারেন পরিস্থিতি, কাটিয়ে উঠতে পারেন বিপদ, দূর্যোগ ও ভয়াবহ সংকট। প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে পারেন যে কেউ।

তাই শ’ছয়েক রান করে বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য রুপকথার জন্ম দিতেই পারে, এতে এতটা আশ্চর্য্যের কিছু নেই। কিংবা এক ফুৎকারে উড়িয়ে দেয়ারও কিছু নেই। কিন্তু কথা হচ্ছে, বিপদ-সংকুল সমুদ্র যাত্রায় সে যব অভিযাত্রীদের আমরা দেখছি, তাদের মধ্যে সময়ের তাগিদে দক্ষ নাবিক হওয়ার মতো যোগ্য আছেন কি কেউ? অভিযাত্রীদের ক’জনের মনেই বা সেই বিশ্বাস সত্যিই আছে?

লিটন, আপনার কথায় ফুলচন্দন পড়ুক। ক্রিকেট আরো একবার হাজির হোক, গৌরবময় অনিশ্চয়তার সৌন্দর্য্যের পসরা সাজিয়ে। আপাতত, এ ছাড়া আর কিছু বলার মতো বা ভাবার মতো অবস্থায় আপনারা আমাদের রাখেননি। আমরা সত্যি চাই, আপনার কথা ও বিশ্বাসে যেন ফুলচন্দন পড়ে। লিটন, হাসির পাত্র না হয়ে আপনি এই ম্যাচের ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা হোন। জ্যোতিষ বনে যান, আপনি! আপাতত এই আমাদের কামনা।

মুশফিকের বিকল্প নাকি খুঁজছে বিসিবি! সত্যি?

ফারুক আহমেদ দারুণ বলেছেন, সফরের মাঝপথে এই আলোচনা করা একদম উচিৎ নয়। সাফল্যের ভার যেমন গদগদ হয়ে ম্যানেজমেন্ট নেন, ঠিক তেমনি ব্যর্থতার দায়ভারও মুখ চুন করে, ম্যানেজমেন্টকেও নিতে হবে। আগেও বলেছি, এখনও বলছি, বাংলাদেশ ক্রিকেটের মূল সমস্যাটা ম্যানেজমেন্ট। এখানে ক্যাপ্টেন সরালেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে না।

মুশফিক রাতারাতি এতটা বাজে অধিনায়ক বনে যাননি। তিনি আগে ‘ভালো অধিনায়ক’ ছিলেন না, ‘আক্রমণাত্নক’ ছিলেন না, তাই বলে এতটা বাজে অধিনায়কও তিনি ছিলেন না। মনে হচ্ছে, যেন মুশফিক ইচ্ছে করেই এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন, যাতে ম্যানেজমেন্ট তাঁকে বাদ দিতে বাধ্য হয়। এবং তাতে তিনি প্রায় সফল বলা যায়!

মুশফিকের বিকল্প যদি সাকিবকে বাছাই করে বোর্ড, তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন, ম্যানেজমেন্টেও আসবে পরিবর্তন। সাকিব যে ধরণের মানুষ, পূর্ণ স্বাধীনতা না পেলে, তিনি কিছুতেই নেতৃত্ব নেবেন না হয়তো। এবং সেরকম হলেই হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেট এই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠার দিশা পাবে। নয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেটে শনি গ্রহের উপস্থিতি একদম সুনিশ্চিত, ইতিমধ্যেই শনির ছায়া পড়তে শুরু করেছে। এই শনির দশা কাটাতে বড়সড় রদবদলের বিকল্প নেই।

এবারকার বাজি কি তবে হেরেই যাবো?

এক বন্ধুর সাথে শততম টেস্টে মোগলাই পরোটার বাজি ধরেছিলাম। বাংলাদেশ জিতলে তাঁর খাওয়ানোর কথা ছিল। বদের হাড্ডি রেজাল্টের পর তিনশ ষাট ডিগ্রী উলটে গিয়ে, ‘বাজি হারাম’ ফতোয়া দেয়া শুরু করেছিল এবং মোগলাইও আর খাওয়ায়নি।

এবারকার বাজিটা ছিল, তাঁর ভাষ্যমতে বাংলাদেশ হয় ইনিংস ব্যবধানে হারবে নয়তো প্রথম টেস্টের মতো বিশাল মার্জিনে পরাজিত হবে। আমি বলেছিলাম, নাহ অমনটা হবে না। হারবে তবে রয়েসয়ে। কিছুটা উন্নতির ছাপ দেখা যাবে।

কিন্তু কালকে যে খেল দেখলাম, তাতে তো মনে হচ্ছে, এবার বাজি হারছিই। সমস্যা নেই, ‘বাজি হারাম’ এটাতো জানিই।  তবে প্রবল আশাবাদী বলেই হয়তো, ০.১ সম্ভাবনাকেও আঁকড়ে ধরার ইচ্ছে থেকেই যায়। তাই আশা রাখি, লিটনের কথায়। বিশ্বাস রাখি, লিটনের আত্নবিশ্বাসে।

লিটন, আপনার মুখে ফুলচন্দন পড়ুক।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।