ললিতা থেকে সিল্ক স্মিতা কিংবা সুলু

শরৎ বাবুর ‘ললিতা’ থেকে ‘সিল্ক স্মিতা’ – সব চরিত্রেই তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেন। বলিউডের নারীকেন্দ্রিক সিনেমার ইতিহাসে নতুন ‘কাহানি’ সৃষ্টি করেছিলেন। ‘পিউ বোলে’ গানে যেমন রোমান্টিকতা ছড়ান, তেমন ‘উ লা লা’ গানে ঠোঁট মিলিয়ে উন্মাদনাও ছড়ান। নায়িকাদের প্রচলিত ধারা ভেঙ্গে প্রতিষ্টিত এই তারকা,বলিউডে ‘ফিমেল হিরো’ খ্যাত অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা বালান।

শুরুটা মোটেই প্রশস্ত ছিলো না, ছোট পর্দায় সফল হবার পর সিনেমা জগতের দিকে পা বাড়ান। মালায়লাম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির কিংবদন্তি নায়ক মোহনলালের বিপরীতে ‘চক্রম’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন। সাথে আরো বারোটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন। দূর্ভাগ্যবশত, চক্রম ছবিটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু মোহনলালের কোনো সিনেমা এইরকমভাবে বন্ধ হবার নজির নেই।

সবাই বিদ্যাকে ‘অলক্ষুনীয়া’ বলে বাকি সিনেমাগুলি থেকেও বাদ দিয়ে দেন,এরপর আসেন তামিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে। এখানেও বিধিবাম, একে একে বাদ পড়েন রান, মানাসিলাম ছবি থেকে। যাও একটি মালায়লাম সিনেমার শুটিং সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু সেটি আজো মুক্তি পায়নি। অবশেষে, ২০০৩ সালে গৌতম হালদারের বাংলা সিনেমা ‘ভালো থেকো’ তে অভিনয় করেন, মুক্তি পাবার পর বেশ প্রশংসাও জুটেছিল, অর্জন করে নিয়েছিলেন আনন্দলোক পুরস্কার।

একের পর এক সিনেমা থেকে বাদ পড়ার পর বেশ সংখ্যক বিজ্ঞাপন ও মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেন, যেগুলির নির্মাতা ছিলেন প্রদীপ সরকার। সেই সুবাদেই বলিউডে আগমন, বিধু বিনোদ চোপড়ার প্রযোজনা সংস্থায় প্রদীপ সরকারের ছবি ‘পরিনীতা’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক বিদ্যা বালানের। প্রথমেই সুযোগ পেয়েছিলেন শরৎ সাহিত্যের জনপ্রিয় চরিত্র ‘ললিতা’ দিয়ে, সুযোগ টাও কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি।

ছবিটির সাফল্য আহামরি সাফল্য না এলেও বেশ প্রশংসিত জুটেছিল। বিদ্যা নিজেও পান প্রশংসা। এরপর একে একে লাগো রাহো মুন্নাভাই, ভুল ভুলাইয়া, হেয় বেবি, গুরুর মত বাণিজ্যিক সফল ছবির অভিনেত্রী হয়েছিলেন। অন্যদিকে সালাম ই ইশক, একলব্য, হাল্লা বোল, কিসমত কানেকশন পেয়েছিল ফ্লপের তকমা।

২০০৯-২০১২ ছিল বিদ্যার ক্যারিয়ারের বর্নিল সময়। আর বালকির ‘প’ সিনেমায় একজন সিঙ্গেল মাদারের ভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান। ছবিটিও পায় বাণিজ্যিক সফলতা। ব্ল্যাক কমেডি ‘ইশকিয়া’র পর ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, দুইটি ছবিতেই বিদ্যার অভিনয় গুন সবাইকে মুগ্ধ করেছিল।

বিতর্কিত নায়িকা সিল্ক স্মিতার জীবনী নির্ভর ছবি ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় করে অর্জন করে নিয়েছিলেন অধরা জাতীয় পুরস্কার। ছবিটি সমালোচনার মুখে পড়লেও, বাণিজ্যিক সফলতায় ছিল সেই বছরের অন্যতম সফল ছবি। সিল্ক স্মিতার রেশ কাটার আগেই সুজয় ঘোষের দুর্দান্ত থ্রিল ‘কাহানি’ তে সম্পূর্ন ভিন্নরুপে আবির্ভূত হন। সমালোচক থেকে বক্স অফিস দুইটাতে প্রচুর সাড়া ফেলেছিল, জাতীয় পুরস্কার পাবার ও কথা উঠেছিল। কিন্তু এই ছবি দিয়ে ভাগ্য সহায় হয় নি।

বলিউডে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার পর যেইভাবে ক্যারিয়ার চলার কথা ছিল, সেভাবে আর চলেনি। ছবি করেছেন ঠিকই, তবে সাড়া ফেলেনি। একে একে ঘনচক্কর, শাদি কি সাইড ইফেক্টস, ববি জাসুস, হামারি আধুরি কাহানি, কাহানি ২ সব ছবিই বাণিজ্যিক ভাবে ধরাশায়ী, সেভাবে প্রশংসাও আসেনি।

২০১৭ সালটা ছিল বিদ্যার ফিরে আসার বছর। বছরের শুরুতে মুক্তি পাওয়া ভাট ফিল্মসের ‘বেগমজান’-এর সেইভাবে সাফল্য না আসলেও, হতাশ করেনি। আর বছরের শেষে, ‘তুমহারি সুলু’ পেয়েছে বাণিজ্যিক সফলতা।

প্রত্যাশা রইলো, বিদ্যার এই প্রত্যাবর্তনের ধারা যেন ধরে রাখতে পারেন। সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করা এই অভিনেত্রী, অভিনয় জগতে এসেছেন শাবানা আজমী ও মাধুরী দীক্ষিত থেকে অনুপ্রানিত হয়ে। বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারে জাতীয় পুরস্কার ছাড়াও পেয়েছেন পাঁচটি ফিল্মফেয়ার, ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে এই বছরে আরেকটি পুরস্কার যুক্ত হবে। ব্যক্তিজীবনে বিয়ে করেছেন স্বনামধন্য প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরকে। নিজেকে যুক্ত করেছেন নানান সমাজ সেবায়।

১৯৭৮ সালের এক জানুয়ারি জন্ম নেন বিদ্যা বালান। ইতিহাস বলে, বলিউডে এই বয়সে নায়িকারা সাধারণত ফুরিয়ে যান। যদিও, বিদ্যা নিজের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ফেলেছেন। তাঁর জন্য রইলো শুভকামনা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।