রোনালদো ও রিয়াল: দ্য ব্রেক আপ স্টোরি

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ছেন, প্রতি মৌসুমেই এমন গুঞ্জন ওঠে। কিংবা তিনি কয়েকটা মাঠ গোলশূণ্য থাকলেই, কে তাঁর জায়গা নেবে মাদ্রিদে সেই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। কয়েকটা গোল করলে সেই আলোচনা থেমেও যায়।

এবারও যেমন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ফেলার পর সি আর সেভেনের রিয়াল ছাড়ার গুঞ্জন উঠবে সেটা অননুমেয়ই ছিল। সব আলোচনার সূত্রপাত রোনালদোর একটা ছোট্ট, শিশুসুলভ কথা থেকে। রোনালদো ম্যাচ শেষে বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের সময়টা দারুন কেটেছে।’ ‘অতিতকালে’ বলা তার এই কথাতেই যত গুঞ্জনের সূচনা। কারণ রোনালদোর সাপ্তাহিক পারিশ্রমিক মেসি ও নেইমারের চেয়ে কম। নেইমার পান ছয় লাখ পাউন্ড, মেসি পান সাড়ে সাত লাখ পাউন্ড। অন্যদিকে রোনালদোর পারিশ্রমিক সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড।

তখন বোঝা যাচ্ছিল, শিগগিরই নতুন চুক্তি করে রোনালদোর পারিশ্রমিকটাও বাড়িয়ে দেবে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু সেটা হওয়ার আর আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। বরং, দলবদলের বাজারে তীব্র গুঞ্জন ১০০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফারি ফি’র বিনিময়ে ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসে চলে যাচ্ছেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।

রোনালদো হলেন রিয়াল মাদ্রিদের দ্বিতীয় স্বর্ণালী অধ্যায়ের কাণ্ডারী। কিন্তু, সব কিছুর মায়া ত্যাগ করে, নয় বছরের বন্ধন ছিন্ন করে তিনি হয়তো জুভেন্টাসেই চলে যাবেন। কিন্তু, সম্পর্কের সুতোটা ছিড়লো কেন?

রোনালদো বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রিয়াল মাদ্রিদ কতৃপক্ষ ধারণা করেছিল, নেইমার ইস্যু থেকে মনোযোগ সরাতেই হয়তো এই কৌশল অবলম্বন করছেন রোনালদো। আসলে, রোনালদো কি ভাবেন? তিনি কেনই বা সেই কথা বলতে গেলেন?

রোনালদো মনে করছেন, রিয়াল মাদ্রিদ তাঁর প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। এখনই তাঁরা রোনালদোর উত্তরসূরী খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে গেছে, মনে মনে ক্লাবটি চাইছে রোনালদো দ্রুতই খেঁই হারিয়ে ফেলে যেন অবসর নিয়ে ফেলেন।

যেখানে রোনালদো টানা তিনটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ফেলেছেন, ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, সেখানেও তাঁর বিকল্প হিসেবে নেইমারকে নিয়ে ভাবছে রিয়াল। এই পর্তুগিজের সাথে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার, সেরা নম্বর নাইন আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর প্রায়ই তুলনা হয়। কিন্তু, ক্লাবের ভেতরের লোকটা রোনালদোর ‘ইগো’কে সহ্য করতে পারেননা।

কার্ডিফের জয়ের পর রোনালদো ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনা পেরেজের কাছ থেকে একটা ফোন পান। সেখানে পেরেজ তাঁকে নতুন চুক্তির আওতায় আনার ব্যাপারে পাকা কথাও দিয়ে ফেলেন। কিন্তু, কথা রাখেননি পেরেজ। রোনালদোর পরিকল্পনা এখন তাই পরিস্কার, ডিসেম্বর অবধি মাদ্রিদে কাটিয়ে জানুয়ারিতে তুরিনে নতুন ঘরের সন্ধানে পাড়ি জমানো।

স্প্যানিশ সুপার কোপার প্রথম লেগ খেলার সময় লাল কার্ড পেয়েছিলেন রোনালদো। সেসময় তিনি এতটাই ক্ষেপে গিয়েছিলেন যে, রেফারিকে ধাক্কা মেরে বসেন। এর জন্য তাঁকে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধও করা হয়। সেই সময় ক্লাব সাজা কমানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করলেও প্রকাশ্যে রোনালদোর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন কেবল তৎকালীন কোচ জিনেদিন জিদান।

রিয়ালের ক্ষোভের কারণটা স্পষ্ট। নিজেদের সবচেয়ে বড় তারকার নিষ্প্রভতার কারণে তাঁরা লিগে শিরোপার দৌঁড় থেকে ছিটকে গেছে। অথচ, আগের ডিসেম্বরেই তিনি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।

রোনালদো আর রিয়ালের সম্পর্কের আরো অবনতি হয় যখন দৃশ্যপটে হাজির হন নেইমার। কারণ, পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে যে, ক্লাবের নেইমারকে কেনার মত অর্থ আছে ঠিকই, কিন্তু রোনালদোকে আরো বড় ও ভাল ‍চুক্তির আওতায় আনার সদিচ্ছা নেই।

এছাড়া স্প্যানিশ কর অধিদপ্তরর মামলার কারণেও আলোচিত ছিলেন। যদিও সেটা ১৮.৮ ইউরো জরিমানা ও দু’বছরের জেলের সাজা পাওয়ার মধ্য দিয়ে সেটার সমাপ্তি ঘটেছে। এর অর্থ হল, এমন ঘটনা আবারো ঘটলে রোনালদোকে জেলে যেতে হবে।

মামলা শুরু হয় ২০১৬ সালে মে-তে। এর তিন সপ্তাহ পর মাদ্রিদ রোনালদোকে সমর্থন করার বার্তা দেয়। এই ঘটনা রোনালদোর মন আরো বিষিয়ে তোলে। ট্যাক্স মামলায় লিওনেল মেসি যেভাবে ক্লাব বার্সেলোনাকে পাশে পেয়েছেন, রোনালদো সেটা কখনোই পাননি। রোনালদো আর পেরেজের সম্পর্কের অবনতি তাই হওয়ারই ছিল। তাই তো স্পেনে পা রাখার পর এবারই প্রথমবারের মত জোরেসোরেই রোনালদোকে বিক্রি করে দেওয়ার কথা ভাবছে রিয়াল মাদ্রিদ।

– মার্কা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।