রুপালী দুনিয়ার অলরাউন্ডার

যিনি একাধারে পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্লে-ব্যাক সিঙ্গার – তাকে তো নিঃসন্দেহে অলরাউন্ডার বলাই যায়! তবে ফারহান-এর নামের পাশে শুধু অলরাউন্ডার না, সেরা অলরাউন্ডার খেতাবটি-ই বেশি শোভা পাবে! অন্তত আমার চোখে তিনি বলিউডের সেরা অলরাউন্ডার!

বলিউডে ফারহানের মতো বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হয়তো আরো আছেন তবে তাঁর মতো প্রত্যেকটা বিভাগে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছেন খুব কম জন-ই! চাইলে তাঁকে একালের সত্যজিৎ রায় বলে দেওয়া যায়।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে যশ রাজ পরিচালিত ‘লামহে’ মুভিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন ফারহান। পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় ২০০১ সালে রিলিজ হওয়া ‘দিল চাহতা হ্যাঁয়’-র মাধ্যমে। বলা হয়ে থাকে, বিংশ শতকের হিন্দি সিনেমা নব্বইয়ের দশক পেরিয়ে নিজের আলাদা অস্তিস্ত্ব তৈরি করেছিল এটার মাধ্যমেই!

‘দিল চাহতা হ্যাঁয়’ দর্শক-সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি বক্স অফিসেও বাজিমাত করেছিল। জিতেছিল একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং দু’টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। তিন বছর বিরতির পর হৃতিক রোশন-প্রীতি জিনতাকে নিয়ে ফারহার নির্মান করেন তাঁর দ্বিতীয় সিনেমা ‘লক্ষ্য’। তবে এবার আর আগের মতো ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না।

সমালোচক দ্বারা প্রসংসিত হলেও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিলো মুভিটি। ২০০৬ সালে বাবার লেখা বিখ্যাত ‘ডন’-এর রিমেক করেন এবং এখানেও তিনি সফল। ২০১১ সালে ‘ডন’-এর সিক্যুয়েল ‘ডন টু’ পরিচালনা করেন। তবে এবার আর রিমেক নয়, মৌলিক গল্পের ‘ডন টু’ সে বছরের ব্যবসা সফল মুভি গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলো।

অভিনেতা ফারহান-এর পথচলা শুরু ২০০৮ সালে রিলিজ হওয়া মিউজিক্যাল-ড্রামা ‘রক অন’ দিয়ে! অথচ অভিষেক কাপুর যখন এই মুভির স্ক্রিপ্ট শোনাচ্ছিলেন তখনও তিনি জানতেন না যে, তাকে প্রযোজক নয় অভিনেতা হিসেবে চাচ্ছেন পরিচালক! প্রথম বারের মতো প্লে-ব্যাকও করেন এই মুভিতে। ‘রক অন’ বক্স অফিস সফলতা পাওয়ার পাশাপাশি জিতেছিলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ফারহান পেয়েছিলেন সেরা নবাগত হিসেবে ফিল্মফেয়ার!

পরের বছর রিলিজ হওয়া ‘কার্তিক কলিং কার্তিক’-কে বলিউডের অন্যতম সেরা সাইকোলজিকাল থ্রিলার হিসেবে ধরা হয়। ২০১১ সালে ফারহান অভিনয় করেন বোন জোয়া আখতার পরিচালিত ক্রিটিক্যাল-কমার্শিয়াল সাকসেস ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’-তে, যেটার জন্য সেরা পার্শ্বঅভিনেতা হিসেবে জিতেছেন ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড।

রাকেশ ওম প্রকাশ মেহরার পরিচালনায় ২০১৩ সালে ভারতীয় জীবন্ত কিংবদন্তি অ্যাথলেট মিলখা সিং রূপে দর্শকদের সামনে হাজির হন এবং এবারও তিনি সফল। স্বয়ং মিলখা সিং তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘ফারহান-কে দেখে আমার একবারও মনে হয়নি তিনি আসল মিলখা নন। আমি পর্দায় যেন নিজেকে নিজে দেখছি!’

মিলখা সিংয়ের মতো দর্শক-সমালোচকদের মনও জয় করতে সক্ষম হন ফারহান। ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ বক্স অফিসে সুপার হিট হয় এবং ৫৯ তম ফিল্মফেয়ারে সেরা সিনেমা, পরিচালক, অভিনেতা সহ মোট ছয়টি ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়।

‘ভাগ মিলখা ভাগ’-এর পর ফারহান অভিনীত সর্বশেষ পাঁচটি মুভির কোনোটিই ব্যবসায়িক সফলতা না পেলেও তাঁর অভিনয় বরাবরের মতোই প্রশংসিত হচ্ছে। আশা করি খুব শীঘ্রই তিনি আগের চেনা রূপে ফিরে আসবেন হোক সেটা পরিচালক হিসেবে কিংবা অভিনেতা হিসেবে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।