রুপালি পর্দার প্রত্যাবর্তন ও কিছু বিতর্ক

মহাকালের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেলো আরও একটি বছর। ইতোমধ্যে হারিয়ে যাওয়া বছরের জের টানাও শুরু হয়ে গেছে। পুরোনো সব হিসেবে নিকেশ কষে নতুন বছরকে ঢেলে সাজাতেই যেন ব্যতিব্যস্ত সবাই। হাওয়া লেগেছে বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনেও। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব কষছেন প্রযোজক, পরিচালক থেকে শুরু করে অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং টেকনিশিয়ানরা পর্যন্ত।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলা সিনেমা এক রকম সংকটময় মুহূর্ত পার করছে। ভালো কন্টেন্টের অভাবে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিনেমা হল। হতাশা কমেনি চলতি বছরেও। এ বছরের এপ্রিলেই ঢাকার কাওরান বাজারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী পুরানো সিনেমা হল ‘পূর্ণিমা’ বন্ধ হয়ে যায়। হতাশার ভূত যেন কিছুতেই নামতে চাইছে না। নতুন নতুন প্রত্যাশা আর অঙ্গীকার নিয়ে বছর আরম্ভ করলেও দেখা যায়— বছর শেষ হয় মূলত ব্যর্থতার পাল্লার ওপর ভর করেই। যাই হোক, চলুন চলতি বছরের ঢাকাই চলচ্চিত্রের হাল-হকিকত জেনে আসা যাক।

এ বছর এখন পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছে ৬২টি সিনেমা। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বছরের শেষ সিনেমা ‘গহীন বালুচর’। বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত এ ছবিটি ২৯ ডিসেম্বর আসার কথা রয়েছে। ফলে,  সর্বসাকুল্যে সিনেমার সংখ্যাটা দাঁড়াবে ৬৩ তে গিয়ে। যা গত বছরের চেয়ে ৬ টি বেশি। গত বছর মুক্তি পেয়েছিলো ৫৭ টি ছবি। একটু পেছনে ফিরলে দেখা যায় ২০১৫ সালে মুক্তি পায় ৬৩ টি ছবি, এ সংখ্যাটা ২০১৪ সালে ছিলো ৭৬, ২০১৩ সালে ৫৩, ২০১২ সালে ৫১ ও ২০১১ সালে সর্বমোট মুক্তি পেয়েছিল ৪৮ টি ছবি।

 

সিনেমা-সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের প্রত্যাশার পারদ অনেক উঁচুতে থাকলেও খুব কম সংখ্যক চলচ্চিত্রের জন্যই দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করতে দেখা গেছে। চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন— অধিকাংশ প্রযোজক লাভ তো দূরের কথা, তাদের লগ্নিকৃত পুঁজিই ফেরত পাননি। তবে বরাবরের মতো চলতি বছরও সফল প্রযোজনা সংস্থার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আবদুল আজিজের জাজ মাল্টিমিডিয়া।

এ বছরে পুরো ইন্ডাস্ট্রিজুড়ে এক ধরণের অস্থিতিশীলতা দেখা গেছে। যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা নির্মাণের বিপক্ষে মিছিল-মিটিং, শিল্পী সমিতির নির্বাচন, সেন্সর বোর্ড সদস্য ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের ওপর হামলা, শাকিব-অপু সম্পর্কের মোড়ক উন্মোচন, শাকিব খানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সেলুলয়েডে হুমায়ুন আহমেদের জীবনী বিতর্ক-সহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্যদিয়ে গোটা বছর চলচ্চিত্রাঙ্গনে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছিলো।

তবে, চলতি বছর সিনেমার ব্যবসাটা ওই অর্থে আহামরি না হলেও গত কয়েক বছরের তুলনায় কিছুটা সন্তোষজনক বলা যায়। কিছু কিছু ছবি হতাশার মাঝে আলো জ্বালিয়েছে, যা দর্শক এবং ক্রিটিক, উভয় মহলেই বেশ সাড়া জাগিয়েছে। অপরদিকে কিছু চলচ্চিত্র ব্যবসায়িকভাবে সফলতার মুখ না দেখলেও বোদ্ধা-মহলে সুনাম কুড়িয়েছে।

সর্বোপরি, দর্শকরা বুঝিয়ে দিয়েছেন ভাল গল্প, ভাল লোকেশন ও ভালো মেকিং হলে তারা সিনেমা হলে যেতে এক পায়ে খাড়া। উদাহরণ হিসেবে দীপঙ্কর দীপনের—‘ঢাকা অ্যাটাক’ আর জয়দেব মুখার্জির পরিচালনায় জাজ মাল্টিমিডিয়ার—‘নবাব’কে টানা যায়। জানা গেছে, বাংলা সিনেমা ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যবসা সফল ৫ ছবির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এ ছবি দুটি। দেশীয় চলচ্চিত্রের এই মন্দার দিনে এ ব্যাপারটা বড় এক সুখবর-ই বলা যেতে পারে।

আলোচিত যতো তারকা

নায়কদের মধ্যে এ বছর সর্বাধিক আলোচনায় ছিলেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। গত বছর ‘শিকারি’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি ভিন্ন অবতারে হাজির হয়েছিলেন। সেই ধারা অব্যাহত ছিল ‘নবাব’ ছবিতেও। এ বছর তার অভিনীত ৫ টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ছবিগুলো হলো— ‘সত্তা’ ‘রাজনীতি’ ‘নবাব’ ‘রংবাজ’ ও ‘অহংকার’। সবক’টি ছবি ভালো হলেও জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘নবাব’ বুলবুল বিশ্বাসের ‘রাজনীতি’ ও হাসিবুর রেজা কল্লোলের ‘সত্তা’র কারণে তিনি বেশি আলোচনায় ছিলেন।

ঢাকা অ্যাটাক

চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত ও প্রশংসিত নায়ক হলেন আরিফিন শুভ। তার অভিনীত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিটি পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরী করতে সক্ষম হয়। এ বছর তার অন্য দুটি ছবি হচ্ছে ‘ধেৎতেরিকি’ ও ‘প্রেমী ও প্রেমী’। এ ছবি দুটিও মোটামুটি ব্যবসা করেছে।

এরপর আসে সাইমন সাদিকের কথা। ‘কত স্বপ্ন কত আশা’ ‘মায়াবীনি’ ‘ষোলআনা প্রেম’ ‘তুই আমার’ ও ‘খাসজমিন’ নামে তারও পাঁচটি ছবি মুক্তি পায়। তবে ছবিগুলো সে অর্থে আলোচনায় আসেনি। ব্যবসায়ীকভাবেও সুবিধা করতে পারেনি। চিত্রনায়ক বাপ্পি চৌধুরীর ৪ টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এরমধ্যে কেবল একটি ছবি নিয়েই অল্পবিস্তর আলোচনা হয়েছে। সেটা হচ্ছে হিমেল আশরাফের ‘সুলতানা বিবিয়ানা’

এ ছাড়া শাহরিয়াজের ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ ‘ক্রাইম রোড’ ও ‘চল পালাই’ নামে তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এরমধ্যে ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ নিয়ে তিনি কিছুটা আলোচনায় ছিলেন। ইমনের ‘পরবাসিনী’ মুখ তুলে দাঁড়াতে পারেনি। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নির্ভর এ ছবিটি আশাহত করেছে তাকে। নিরবের ‘গেইম রিটানর্স’র ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এদিকে কাজী মারুফের ‘মাস্তান পুলিশ’ ও শিপন মিত্রের ‘চল পালাই’ এবং আনিসুর রহমান মিলনের ‘ক্রাইম রোড’ ও ‘রাজনীতি’ ছবি মুক্তি পায়। ছবিগুলো ব্যবসায়ীক সাফল্য কিংবা ক্রিটিক প্রশংসা না পাওয়ায় তারা আলোচনার বাইরেই ছিলেন।

নুসরাত ইমরোজ তিশার কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। নায়িকার মধ্যে তিনিই ছিলেন এ বছরের সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ‘ডুব’ ও ‘হালদা’ নামে তার দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। দুটো ছবিই পুরো ইন্ডাস্ট্রিজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরী করেছিলো। এরপরেই আছেন পরিমনি। তার ৫টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এগুলো হলো— ‘কত স্বপ্ন কত আশা’ ‘আপন মানুষ’ ‘অন্তর জ্বালা’ ‘সোনা বন্ধু’ এবং ‘ইনোসেন্ট লাভ’। এরমধ্যে জায়েদ খানের সঙ্গে ‘অন্তর জ্বালা’ নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলাপ আলোচনা হয়েছে। অপু বিশ্বাসের ‘রাজনীতি’ নামের একটিমাত্র ছবি মুক্তি পেয়েছে। এটা দিয়েই তিনি বাজিমাৎ করেছেন।

তমা মির্জার ‘অহংকার’ ‘গ্রাস’ ‘গেইম রিটানর্স’ ও ‘চল পালাই’ নামে চারটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত ‘ভালোবাসা এমনই হয়’ ‘ইয়েতি অভিযান’ ও ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ নামে তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। শাকিব-অপু ইস্যুতে শবনম বুবলীও সারা বছর ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। তার অভিনীত ‘অহংকার’ ‘রংবাজ’ নামে দুটি ছবি মুক্তি পায়।

নুসরাত ফারিয়াও অল্পবিস্তর আলোচনায় ছিলেন, জীতের সঙ্গে ‘বস টু’ দিয়েই তিনি মূলত বাজিমাত করেছেন। গুণী অভিনেত্রী জয়া আহসান অভিনীত ‘খাঁচা’ ও ‘পুত্র’ নামের দুটি ছবি মুক্তি পায়। এ ছাড়া মাহিয়া মাহির ‘ঢাকা অ্যাটাক’, পূর্ণিমার ‘টু বি কন্টিনিউড’, মৌসুমীর ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’, আঁচলের ‘সুলতানা বিবিয়ানা’, আইরিনের ‘মায়াবীনি’, জলির ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’, মিষ্টি জান্নাতের ‘তুই আমার’, অর্পণার ‘ভুবন মাঝি’ ও বিপাশা কবিরের ‘খাসজমিন’ নামে একটি করে ছবি মুক্তি পায়। একমাত্র মাহি ছাড়া অন্যরা লাইমলাইটে আসতে পারেনি।

ব্যবসাসফল যতো সিনেমা

বছরের প্রথম ছবি হিসেবে ৬ জানুয়ারি মুক্তি পায় রকিবুল আলম রকিবের ‘পুলিশ মাস্তান’। এর পরের সপ্তাহে আসে ওয়াকিল আহমেদের ‘কত আশা কত ভালবাসা’। কিন্তু কোনো ছবিই আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি। চলতি বছরে ঢাকাই চলচ্চিত্রে সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল তিনটি সিনেমা হচ্ছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ‘নবাব’ ও ‘বস টু’।

৬ অক্টোবর সারা দেশের ১২৭ টি সিনেমা হলে মুক্তি পায় দীপঙ্কর দীপনের পরিচালনায় বাংলাদেশের প্রথম কপ থ্রিলার ‘ঢাকা অ্যাটাক’। আরিফিন শুভ, মাহিয়া মাহি ও সুমনের অসাধারণ অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমাটি প্রচারের অভিনবত্ব পুরো দেশকে কাঁপিয়ে দেয়। বাংলাদেশ পুলিশের সহায়তায় নির্মিত এ ছবিটি দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। জানা গেছে, এই ছবিটিই চলতি বছরের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা।

শাকিব খান ও শুভশ্রীর যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘নবাব’ গত রোজার ঈদে ১২০ টি সিনেমাহলে মুক্তি পায়। বরাবরের মতো শাকিব ওই ঈদেও ছক্কা হাকিয়েছেন। বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ভারতের এসকে ফিল্মস প্রযোজিত এ ছবিটি দেশ ও দেশের বাইরে ভালো সাড়া জাগায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও মালোয়শিয়ার বাংলাভাষীদের মনে শাকিব-শুভশ্রীর রসায়ন দারুণভাবে গেঁথে যায়।

‘নবাব’র সঙ্গে গত ঈদে মুক্তি পায় বাবা যাদবের পরিচালনায় ‘বস টু’। এ ছবিটিরও প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন জাজ মাল্টিমিডিয়া ও এসকে ফিল্মস। ছবিতে জিৎ এর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন গ্ল্যামার কুইন নুসরাত ফারিয়া। ঈদের বাকি দুটি সিনেমার সঙ্গে এ ছবিটিও পাল্লা দিয়ে সাফল্য পেয়েছে।

এ ছাড়াও চলতি মোটামুটি ব্যবসা করেছে এমন তালিকায় রয়েছে বুলবুল বিশ্বাসের ‘রাজনীতি’, জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘ধ্যাততেরিকি’ ‘প্রেমী ও প্রেমী’ তৌকীর আহমেদের ‘হালদা’ হাসিবুর রেজা কল্লোলের ‘সত্তা’, মালেক আফসারীর ‘অন্তর জ্বালা’ আবদুল মান্নানের ‘রংবাজ’ এবং শাহাদাত হোসেনের ‘অহংকার’-সহ আরও কয়েকটি ছবি।

আলোচিত যতো সিনেমা

সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল ৩ সিনেমা বাদে এবারের আলোচিত সিনেমার তালিকাও গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশ চওড়া। যা ঢাকাই সিনেমার জন্য এক ইতিবাচক দিক-ই বটে।

প্রথমেই বলতে হবে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সিনেমা ‘ডুব: নো বেড অব রোজেস’ এর কথা। ছবিটি কি নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বায়োপিক—এমন বিতর্কে ইন্ডাস্ট্রিজুড়ে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়। শেষ অবধি সিনেমাটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সেন্সর বোর্ডও সিনেমাটি আটকে দেয়। অবশেষে সব কল্পনা জল্পনা পেরিয়ে ছবিটি মুক্তি পেলেও বিগ বাজেটের এই সিনেমাটি ওই অর্থে সাফল্যের মুখ দেখেনি। ছবিটির মূল আকর্ষণ ছিল বলিউডের গুণী অভিনেতা ইরফান খান। কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হয়নি নির্মাতার। তবে এটি দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি ফেস্টিভ্যালে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং পুরস্কৃত হয়েছে।

এরপরই আসে তৌকির আহমেদের ‘হালদা’র কথা। এই ছবিটি মুক্তি পায় ৮১ টি সিনেমা হলে। যা ভিন্নধারার সিনেমা হিসেবে অনেকটা অবাক করার মতোই ছিলো। কারণ তৌকিরের আগের সিনেমা ‘অজ্ঞাতনামা’ ব্যাপক প্রশংসিত  হলেও থিয়েটার সংকটে ভুগছিলো। যাই হোক, হালদা পাড়ের হতদরিদ্র নিষিক্ত ডিম সংগ্রহকারী জেলের জীবনবৈচিত্র্য নিয়ে তৌকিরের এই সিনেমা ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। আর, এ বছরের শেষের দিকে কিছুটা আলোচনায় আসে মালেক আফসারীর ‘অন্তর জ্বালা’। জায়েদ খানের প্রথম প্রযোজিত ছবিতে তার অভিনয়ও দর্শক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

এ ছাড়া অনিমেষ আইচের ‘ভয়ংকর সুন্দর’, ফাকরুল আরিফিনের ‘ভুবন মাঝি’, আকরাম হোসেনের ‘খাঁচা’, আবদুল মান্নানের ‘রংবাজ’, শাহ আলম মণ্ডলের ‘আপন মানুষ’ নিয়েও অল্পবিস্তর আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা

এ বছর যৌথ প্রযোজনার পাশাপাশি ভারত থেকে ৭ টির মতো সিনেমা আমদানি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এ বছর সর্বমোট ৬৩ টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সেগুলো হচ্ছে—

১. মাস্তান পুলিশ— রকিবুল আলম রকিব, ২. কত স্বপ্ন কত আশা— ওয়াকিল আহমেদ, ৩. তুখোড়— মিজানুর রহমান লাবু, ৪. রীনা ব্রাউন— শামীম আখতার, ৫. ভালোবাসা এমনই হয়— তানিয়া আহমেদ, ৬. মায়াবীনি— আকাশ আচার্য, ৭. মেয়েটি এখন কোথায় যাবে— নাদের চৌধুরী, ৮. প্রেমী ও প্রেমী— জাকির হোসেন রাজু, ৯. ভুবন মাঝি— ফখরুল আরেফিন, ১০. যে গল্পে ভালোবাসা নেই— রয়েল খান, ১১. সত্যিকারের মানুষ— বদরুল আমিন, ১২. মিসডকল— সাফিউদ্দিন সাফি, ১৩. ভালোবাসা ষোলোআনা— মনির হোসেন মিঠু, ১৪. তোমাকে চাই— রাজীব কুমার, ১৫. ক্রাইম রোড— সায়মন তারিক, ১৬. শূন্য—বন্ধন বিশ্বাস, ১৭. নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার— মিজানুর রহমান লাবু, ১৮. সুলতানা বিবিয়ানা— হিমেল আশরাফ, ১৯. হঠাৎ দেখা— রেশমি মিত্র, ২০. সত্তা— হাসিবুর রেজা কল্লোল, ২১. হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা— পথিকৃৎ বসু, ২২. ধেৎতেরিকি— শামীম আহমেদ রনী, ২৩. তুই আমার— সজল আহমেদ, ২৪. আপন মানুষ— শাহ আলম মন্ডল, ২৫. ওয়ান— বিরসা দাসগুপ্ত, ২৬. পরবাসিনী— স্বপন আহমেদ, ২৭. মিলন সেতু— মিজানুর রহমান, ২৮. তুমি রবে নীরবে— মাহবুবা ইসলাম সুমী, ২৯. রাজনীতি— বুলবুল বিশ্বাস, ৩০. ড্রেসিং টেবিল— আবু সাইয়ীদ, ৩১. গ্রাস— মারিয়া তুষার, ৩২. নবাব— জয়দ্বীপ মুখার্জি, ৩৩. বস টু— বাবা যাদব, ৩৪. মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা— জসিম উদ্দিন জাকির, ৩৫. ভয়ংকর সুন্দর— অনিমেষ আইচ, ৩৬. মার ছক্কা— মঈন বিশ্বাস, ৩৭. রাইয়ান— মাশরুর পারভেজ ওরফে ইউল রাইয়ান, ৩৮. এক পলকের দেখা— এ আর রহমান, ৩৯. রংবাজ— আবদুল মান্নান, ৪০. অহংকার— শাহাদৎ হোসেন লিটন, ৪১. সোনাবন্ধু— জাহাঙ্গীর আলম সুমন, ৪২. ডুব— মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ৪৩. পোস্ত— নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখার্জি, ৪৪. খাচা— আকরাম খান, ৪৫. ষোলোআনা প্রেম— আলী আজাদ, ৪৬. টু বি কন্টিনিউড— ইফতেখার আহমেদ ফাহমি, ৪৭. ঢাকা অ্যাটাক— দীপংকর দীপন, ৪৮. দুলাভাই জিন্দাবাদ— মনতাজুর রহমান আকবর, ৪৯. কপালের লিখন— জুয়েল ফারসি, ৫০. গেইম রিটানর্স— রয়েল খান, ৫১. খাসজমিন— সরোয়ার হোসেন, ৫২. বলো দু্‌গ্গা মাঈকি— রাজ চক্রবর্তী, ৫৩. ইয়েতি অভিযান— সৃজিত মুখার্জি, ৫৪. ছিটকিনি— সাজেদুল আওয়াল, ৫৫. হালদা— তৌকির আহমেদ,  ৫৬. শেষ চুম্বন— মুনতাহিদুল লিটন, ৫৭. চল পালাই— দেবাশীষ বিশ্বাস, ৫৮. ককপিট— কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, ৫৯. আসবো না ফিরে— আবু সাঈদ খান, ৬০. অন্তর জ্বালা— মালেক আফসারী, ৬১. ইনোসেন্ট লাভ— অপূর্ব রানা, ৬২. আঁখি ও তার বন্ধুরা— মোরশেদুল ইসলাম এবং ৬৩. গহীন বালুচর— বদরুল আনাম সৌদ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।