রাহুল কাট চেনেন, রাহুল রয়কে কি চেনেন?

বাঘের ভূমিকায় অভিনয়, কিংবা মহেশ ভাটের পরিচালনায় কোনো সিনেমায় কাজ করা – নি:সন্দেহে একজন অভিনেতার সিভিতে এই দু’টো ব্যাপার জুড়ে দিলেই তিনি আজীবনের জন্য নিশ্চিত হয়ে যান। যদিও, সেই রাহুল রয়কে আর এখনকার প্রেক্ষাপটে তারকা বলা যায় না।

সেকালের এই হারিয়ে যাওয়া নায়ককে এখনকার তরুণ প্রজন্মের অনেকেই চেনেন না। যদিও, তার কেশবিন্যাসের অনুকরণে করা চুলের ছাট ‘রাহুল কাট’ এখনো বেশ চলে। নব্বই দশকে যারা বেড়ে উঠেছেন তাঁদের কম বেশি সবাই এই ‘রাহুল কাট’-এর সাথে পরিচিত।

যদিও, ১৯৬৮ সালের নয় ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া রাহুলের বলিউডে অবদানটা একেবারে কম নয়। আজ থেকে ২৮ বছর আগে মুক্তি পায় তাঁর অভিষেক সিনেমা। সেটাও আবার রোমান্টিক মিউজিক্যাল হিট সিনেমা ‘আশিকি’। সিনেমাটির ‘জানে জিগার জানেমান’, ‘মেয় দুনিয়া ভুলা দুঙ্গা’, ‘নাজার কে সামনে, জিগারকে পাস’, ‘আব তেরে বিন’ গান গুলো বলিউডের চিরসবুজ হিট হিসেবে পরিচিত।সুরকার জুটি নাদিম-শ্রাবন কিংবা গায়ক কুমার শানুর বলিউডে প্রতিষ্ঠা পান এই সিনেমা দিয়েই।

আশিকি সিনেমায় সহ-অভিনেত্রী আনু আগারওয়ালের সাথে রাহুলের রসায়ন বেশ জমেছিল। সাহসী, বোল্ড দৃশ্যে অভিনয়ের কল্যানে আবেদনময় পুরুষের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন রাহুল।

রাহুল রয়কে নব্বই দশকের ইমরান হাশমি বললেও ভুর বলা হবে না। ওই সময়ে রাহুলই ছিলেন মহেশ ভাট ও তাঁর প্রোডাকশন হাউজের পোস্টার বয়। এই জুটি এক সাথে মিলে আশিকি, ফির তেরি কাহানি ইয়াদ আয়ে, জানাম, জুনুনের মত চুম্বন দৃশ্যে ভরপুর সিনেমা করেন।

এর মধ্যে ‘জুনুন’ সিনেমায় আক্ষরিক অর্থেই বাঘের চরিত্রে কাজ করেন রাহুল। সেখানে দেখানো হয় এক পুরোদস্তর মানুষ কি করে পূর্ণিমা রাতে বাঘে রুপান্তরিত হন। বলা হয়, সেটাই রাহুলের অভিনয় জীবনের সেরা কাজ।

রাহুল রয়কে পরিচালক মহেশ ভাট খুব পছন্দ করতেন। তাই তিনি রীতিমত নিজের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য রাহুলকে সুযোগ করে দেন। আত্মজীবনীমূলক সিনেমা ‘ফির দেরি কাহানি ইয়াদ আয়ে’ সিনেমায় পূজা ভাট করেছিলেন তাঁরই বাবার সাবেক প্রেমিক পারভীন ববির চরিত্র।

রাহুলের সাথে মহেশ ভাটের পরিচয় হওয়ার পেছনে রয়েছে মজার এক গল্প। আশির দশকে মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন রাহুল। তখন তাঁর মা একটা ফ্যাশন ম্যাগাজিনে লিখতেন। সেই ম্যাগাজিনের লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়ে মহেশ ভাটের সাথে রাহুলের মায়ের দেখা হয়। সেখান থেকেই রাহুলের কিছু ছবি হাতে পান মহেশ ভাট।

মহেশ ভাট যেন আকাশের চাঁদ হাতে পান। ওই তরুণকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন। শুরু হয় আশিকি সিনেমার শুটিং। এরপর দূর আকাশের তারা বনে যান রাহুল। খুব দ্রুত তাঁর পতনও হয়।

তিনি একটু অলস প্রজাতির ছিলেন। আশিকির সাফল্যের পর তিনি এক সাথে ১৮ টি সিনেমার প্রস্তাব পান। অধিকাংশ প্রস্তাবই তিনি ফিরিয়ে দেন। কারণ, দিনের ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে অনীহা ছিল তাঁর।

ফলাফল,  ১৯৯৯ সালে মাত্র ১৮ টি সিনেমা করার পরই তাকে বাধ্য হয়ে নির্বাসনে যেতে হয়!

ভারতে রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’ আবির্ভাবের পর তার প্রথম আসরের শিরোপা জিতেছিলেন রাহুল রয়। সেটা ২০০৬ সালের ঘটনা। জিতেছিলেন এক কোটি টাকার অর্থপুরস্কার। এখান থেকে শুরু হয় রাহুল রয়ের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অধ্যায়। ২০০৬ সালে সাত বছর বাদে তিনি তৃতীয় শ্রেণির কমেডি সিনেমা ‘নটি বয়’ করেন। এটা করতে গিয়ে অবশিষ্ট যা ভাবমূর্তি ছিল সেটাও খুঁইয়েছেন।

রাহুলের ব্যক্তিগত জীবনেও বিতর্কের শেষ নেই। ‘জাব জাব দিল মিলে’ সিনেমার একটি অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয়ের সময় রাহুলের জিপ গাড়ি ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে। এই সময়ে শুটিং দেখতে আসা এক লোক মারাত্মক ভাবে আহত হন।

বিপদে পড়েন রাহুল। এর জন্য স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে রাহলের বিরুদ্ধে এফআইআরও করা হয়। ঘটনাটা নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়।

রাহুলের সাথে মনিষা কৈরালা ও সুমান রঙ্গনাথের সম্পর্ক ছিল বলে গুজব শোনা যায়। যদিও, কোনো সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ীয় হয়নি। মডেল রাজলক্ষ্মী খানভিলকারের সাথে ২০০০ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ ১৪ বছর সংসার করার পর তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

খুব কম মানুষই জানেন যে, রাহুলের ধিকি ধিকি করে হলেও চলতে থাকা একটা প্রোডাকশন হাউজ আছে। নাম – ‘রাহুল রয় প্রোডাকশন্স’।

– ইন্ডিয়া.কম ও ফ্রিপ্রেস জার্নাল অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।