রাজ্জাক, নেহরা হবেন?

আনপ্রেডিক্টেবল এক ডেলিভারিতে দিনেশ চান্দিমাল বোল্ড হয়ে হতবিহবল হয়ে রইলেন, কিংবা যে বলটাতে একেবারেই সেট ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিস কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বোল্ড হয়ে গেলেন – কি বলবেন একে?  – চার বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে নেমে এক বুড়ো বাঁ-হাতির অতিমানব হয়ে ওঠার গল্প? – এটাই হয়তো বলা উচিৎ।

কি করে এই খান আবদুর রাজ্জাক অতিমানব হয়ে উঠলেন? উত্তরটা সহজ, পরিশ্রম, পরিশ্রম আর পরিশ্রম। একটু ভেঙে বলা যাক। গত চারটা বছর আবদুর রাজ্জাক কি করেছেন? মূলত ফোকাস করেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। খেলেছেন বিস্তর প্রথম শ্রেণির ম্যাচ।

যতটা অভিজ্ঞতা থাকার পরও তাকে ছিটকে ফেলা হয়েছিল, তাঁর থেকে আরো বেশি অভিজ্ঞতা তিনি পেয়ে গেছেন এই সময়ে। দেশের উইকেটে কখন কিভাবে কোথায় কি করতে হয় – সবই এখন রাজ্জাকের নখদর্পণে। তাই তো জাতীয় দলে তার ফেরাটাই হল টেস্টে তাঁর অন্যতম স্মরণীয় বোলিং দিয়ে।

১২ টেস্টে ২৩ উইকেটের সাদামাটা ক্যারিয়ার ছিল। সেখান থেকে ফিরে প্রথম ইনিংসেই ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। ৩৬ ছুঁই ছুঁই বয়সে এই ঘটনায় স্রেফ ভাগ্য কিংবা প্রতিভা হলে চলে না, জোর লাগে পরিশ্রমেরও। সেটাই করে দেখালেন রাজ্জাক।

মানুন আর নাই মানুন, আমাদের উপমহাদেশের ক্রিকেট কালচারটা এমনই। এখানে ৩০-এর ওপর গেলেই আমরা ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের যপনিকাপাত করে দিতে অভ্যস্ত। আর সেই সময়ে যদি দু:সময় চলে আসে তাহলে সেই কাজটা খোদ নির্বাচকরাই করে দেন।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে আশা-ভরসা নেই মেনে নিয়ে হাল ছেড়ে দেন ক্রিকেটাররাও। তাই তো এখানে মাইক হাসি কিংবা ক্রিস রজার্সের মত চরিত্রগুলোকে প্রায়ই দেখা যায় না। আশিষ নেহরার মত মানুষরা হয় খুব বেশি পরিশ্রমী না হয় খুব বেশি ভাগ্যবান। আবদুর রাজ্জাক কোন পথে হাঁটবেন? সিদ্ধান্তটা তাঁরই।

মিরপুর টেস্টের মোড় ঘুরে গেছে। মাত্র ৫৫ রান তুলতে না তুলতেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। হয়তো বাংলাদেশ ম্যাচটায় হারবে, নয়তো জিতবে। দ্বিতীয় ইনিংসে হয় রাজ্জাক আবারো অতিমানবীয় কিছু করবেন, কিংবা কিছুই করতে পারবেন না। টেস্ট শেষ হওয়ার পর বেশ অনেকদিন সীমিত ওভারেই থাকবে বাংলাদেশের মিশন। সেখানে রাজ্জাকের বিবেচিত হওয়ার কথা নয়।

সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের আগামী টেস্ট হবে জুনে। সেটাও ওযেস্ট ইন্ডিজের বাউন্সি কন্ডিশনে। কন্ডিশন মাথায় রেখে রাজ্জাক বিবেচিত না হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। নভেম্বর-ডিসেম্বরের আগে দেশের মাটিতে কোনো টেস্ট নেই। রাজ্জাক কোন পথে হাঁটবেন, আরো পরিশ্রম করে নেহরা হয়ে উঠবেন। নাকি হাল ছেড়ে দিয়ে বিদায় বলে দেবেন? নেহরাও ঠিক একই ভাবে জায়গা হারিয়েছেন, আবারো পরিশ্রম কর ফেরেছেন। কোন পথে হাঁটবেন রাজ্জাক? – সিদ্ধান্তটা তাঁকেই নিতে হবে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।