রক মিউজিক ও অকাল প্রয়াণের স্মৃতিচারণা

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। গত জুলাইয়ে পুরো মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। শোকের সাগরে ভেসেছিলেন ভক্তরা। দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে পরপারে পাড়ি জমান লিনকিন পার্কের ভোকাল চেস্টার বেনিংটন। সেই শোকের রেশ আছে এখনো। মাত্র ৪১ বছর বয়সে তার এই আত্মহত্যা মনে করিয়ে দেয় আরো বেশ কিছু জনপ্রিয় মিউজিশিয়ানের অকাল মৃত্যুকে।

জিম মরিসন

ষাটের দশকের ক্লাসিক রক ব্যান্ড দ্য ডুরস এর ভোকাল জিম মরিসন তার গায়কী ছাড়াও তার মাদকাসক্তি আর মদ্যপানের অভ্যাসের কারণে বিখ্যাত ছিলেন। ১৯৭১ সালে তার অকালমৃত্যু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত থাকলেও ধারণা করা হয় হেরোইন ওভারডোজের ফলে মৃত্যু ঘটেছে এ কিংবদন্তির।

বব মার্লে

‘বাফেলো সোলজার’, ‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’, ‘গেট আপ স্ট্যান্ড আপ’, ‘ব্ল্যাক প্রগ্রেস’ এর মতো ভুবনজয়ী গানের জনক বব মার্লে আরো পরিচিত ছিলেন তার জীবনদর্শনের জন্য। নিপীড়িত মানুষের মনের কথা গানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলে অল্পদিনেই খ্যাতির চুড়ায় উঠে আসেন বব মার্লে। ফুসফুস ও মস্তিষ্কের ক্যান্সারের কারণে তাঁর শিল্পীজীবন মাত্র ১৮ বছরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ১৯৮১ সালের ১১ মে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

পল গ্রে

আমেরিকান হেভি মেটাল ব্যান্ড স্লিপনটের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেম পল গ্রে। স্লিপনটের বেজ সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার ড্রাগ নেয়ার ইতিহাস ছিলো বেশ পুরনো। ২০০৩ সালে একবার অতিরিক্ত কোকেইন সেবন করে গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছিলেন তিনি। যার কারণে তাকে হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। ২০১০ সালের মে মাসে এক হোটেল থেকে তাকে মৃত উদ্ধার কর হয়। ময়নাতদন্তে বেরিয়ে আসে মরফিন আর ফেটানাইল ওভারডোজই ছিলো মৃত্যুর কারণ।

কার্ট কোবেইন

বিখ্যাত আমেরিকান রক ব্যান্ড নির্ভানার প্রধান ভোকাল আর গিটারিস্ট ছিলেন কার্ট ডোনাল্ড কোবেইন। মূলত, তাঁর হাত ধরেই শুরু হয়েছিলো নির্ভানার পথচলা। এ তালিকার বাকিদের মতো তিনিও অকালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯৪ সালের আনুমানিক ৫ এপ্রিলে কোবেইন আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর তিন দিন পর কোবেইনের লেক ওয়াশিংটন বুলেভার্দের বাড়িতে তার মৃত দেহ পাওয়া যায়।

ক্রিস কর্নেল

আমেরিকান রক ব্যান্ড সাউন্ডগার্ডেন আর অডিওস্লেভের প্রধান গায়ক হিসেবে কাজ করে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি পেয়ে গিয়েছিলেন ক্রিস কর্নেল। তবে তিনি তার একক কাজগুলোর জন্যেও সমানভাবে পরিচিতি পেয়ে গিয়েছিলেন। এবছর ১৮ মে যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত সোয়া ১২টায় ডেট্রয়েটের একটি হোটেলের এক রুম থেকে দেহরক্ষী তাকে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।