রক্তখুন || ছোটগল্প

রক্তের গন্ধটা ইদানিং নেশার মতো হয়ে গেছে, রক্তে যে একটা পৈচাশিক আনন্দ আছে সেটা আগে অনুভব করিনি, যেই খুনটায় প্রথম বুঝতে পারি আমার রক্তের নেশা আছে সেই খুনটা করেছিলাম শ্বাসরোধ করে, এরপরও দেখি মনটা তৃপ্ত না, জলদি করে মেয়েটার হাতের রগটা কেটে দিই, রক্তের অদ্ভূত লাল রং টা দেখে সেদিন অদ্ভূতভাবে তৃপ্তি এসেছিলো, এরপরে যতোবার খুন করেছি সবগুলা ছিলো ‘রক্তখুন’।

ছোটোবেলায় বইতে যখন কোনো সাইকো চরিত্রের মানুষের মৃত্যুকষ্ট দেখে উল্লাস করে পড়েছি তখন খুব অদ্ভুত লাগতো, মানুষের কষ্ট দেখে আনন্দের কি আছে? কিন্তু এখন যখন খুন করি মেয়েগুলোর কষ্ট, নিজেকে বাচানের আকুতিমাখা চোখ, ফুলে যাওয়া গলা, ঘেমে যাওয়া কপাল, রক্তিমা মুখ দেখে একটা পৈচাশিক আনন্দ পাই, আমি নিজেই অবাক হই, কেনো এতো আনন্দ?

ভেবে দেখেছি, এই পৈচাশিক আনন্দটা ছোটো বড় সবাইই কমবেশ পায়, ছোট্ট বাচ্চাটা কাঁদবে জেনেও তাকে চিমটি কাটে, বাচ্চাটি কাঁদে, চিমটিদাতা হাসে, বন্ধুটা ব্যথা পাবে জেনেও দুষ্টমির ছলে জোরে একটা কিক মারে, বন্ধুটি ব্যথায় কোঁকড়ায়, কিকমারা বন্ধুটি হাসে – এটাই পৈচাশিক আনন্দ।

কখনো কি মায়া হয়না? নাহ! কখনো মায়া জিনিসটা উপলব্ধিতে আসেনি, বরং মেয়েগুলোর আর্তচিৎকার আকুতি, বিভৎস আকৃতি, যন্ত্রণাময় অবয় আমাকে আরো আনন্দিত করে, তবে সেদিন…

সেদিন…

একটা গোছালো ফ্ল্যাট, পরিচ্ছন্ন ফ্লোর, সদ্য টুকরো হওয়া ফুলদানি, একপাশে ১টা চেয়ার কম সাজানো ডাইনিং টেবিল, আর মেঝের ঠিক মাঝখানে সেই চেয়ারে শক্ত হাতে বাঁধা ২৮শে এক তরুনী, বেঁধে ফেলার আগে বাচার জন্যে উত্তেজিত চেহারাটা বেঁধে ফেলার পর সান্ত, চিন্তাহীন,ও নির্ভয় দেখাচ্ছে, একটু বিব্রতকর লাগছিলো আমার, এমন ডিফরেন্ট পরিস্থিতি আসেনি কখনো!

– কে আপনি? (তাঁর শান্ত প্রশ্ন)

– কেউ না!

– আমাকে বাঁধলেন কেনো? মেরে ফেলবেন?

– এটাই মনে কর!

– কেনো? ক্ষোভ নাকি আনন্দ?

প্রশ্নটা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিলো, আমি কেনো খুন করি? ক্ষোভের বসে? নাকি পৈচাশিক কোনো আনন্দের জন্যে? কিছুক্ষণ চুপ থেকে তাঁর দিকে তাকিয়ে…

– শুরুটা ছিলো ক্ষোভে!

– শুরুটা কিসের ক্ষোভে ছিলো?

– সেটা তোকে বলতে হবে? ভয় হচ্ছেনা?

– মরার আগের শেষ ইচ্ছে বলতে পারেন।

পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে দিলো মেয়েটি, চোখে জল, কখনো ভাবতে পারিনি আবার কখনো চোখ ভিজবে, আস্তে আস্তে স্মৃতিচারণ করলাম সেই কথা,ধনীর দুলালীকে বিয়ে করেছিলাম ৫ বছর প্রেমের পর, নিজের জীবনের চেয়েও বেশী ভালোবাসতাম তাকে, বাবার কোটি টাকার সম্পদ ছেড়ে চলে আসি ওকে নিয়ে পুরান ঢাকায়, চাকরি করে ভালো সুখের সংসারে দু’বছরের মাথায় একটা ফুটফুটে কণ্যা সন্তান আসে আমাদের, কিউট মামুনি আমার, গলার পিছনের সাইটে একটা জন্মদাগ ছিলো, ফর্সা ঘাড়ে মেটে রং এর দাগ, অদ্ভুতভাবে সেটা অনেকটা বাংলাদেশের মানচিত্রের মতো দেখাতো, ওর জন্যে জীবনটা দিয়ে দিতে পারতাম, তোতলা মুখে বাবা ডাকতে পারে তখন, পরান জুড়ানের মন্ত্র ছিলো মামুনীটা, কিন্তু ঠিক তখন সেই ৫বছর পাগলের মতো প্রেম করা মেয়েটি আমার কলিজার টুকরা মেয়েকে নিয়ে অন্য ছেলের সাথে চলে যায়, কি দিইনি আমি? ভালোবাসা? টাকা পয়সা? কিসের কমতি ছিলো?

– কেনো মারবো না তোদের? কেনো?

– ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মেয়ে খুনকেই কেনো বেছে নিলেন?

– কারণ আমার বাবা আমার মা’কে খুন করেছিলো।

– অন্য মেয়েদের তো কোনো দোষ নেই!

– আছে! কারণ সে মেয়ে জাতি, যে জাতিকে জীবন দিয়ে ভালোবেসেছিলাম।

– বেচে গেলা, নেশাটা কেঁটে গেছে। আজ আর মন টানছে না।

এ বলে মেয়েটির হাতের বাঁধনটা খুলে দিলাম, পুরোনো ভালোবাসাটার স্মৃতিগুলো নেশাটা দুর্বল করে দিয়েছে, মেয়েটির কাছে পানি চাইলাম, পান করলাম, বললাম- মনটা খারাপ চলে যাচ্ছি।

এ বলে ঘুরে যেই দরজা খোলার জন্য উদ্যত হই, ঠিক তখন মেয়েটি ছুরি নিয়ে হামলে পড়ে আমার উপর, কাঁধে ক্ষত হয়ে যায়, মিজাজটা তিতে হয়ে যায়, মাথাটা আবারো আউলা ঝাউলা হয়ে যায়, কি মনে করে এই বোকামী মেয়েটা করে কী জানি, রাগে মাথাটা ভো ভো করে উঠে, ইচ্ছে হচ্ছে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলি।

কোমড় থেকে ছুরিটা বের করে আঘাত করি পেটে, মেয়েটি হেরে যাওয়ার পাত্র নয়, আবারো আঘাত করে, এবার মাথায় আঘাত করি গ্লাসের উল্টো দিক দিয়ে, পড়ে যায়, কোকড়াতে থাকে, কাঁধের ক্ষতটা মেয়েটির উড়না দিয়ে পেঁচিয়ে রাখি। ওর গড়গড় শব্দে আমার চক্ষু আনন্দ উপলব্ধি করে, আমার বক্স থেকে চাপাতিটা বের করি, সে আকুতিমাখা কন্ঠে প্রান ভিক্ষা চায়, এটা আমার হিংস্রতাকে আরো বাড়ায়, পেটের রক্ত মেঝেতে ছড়াছড়ি, দুহাত ফ্লোরে রেখে টেনে টেনে পালাবার চেষ্টা করছে, চাপাতি দিয়ে দুইহাত আলাদা করে ফেলি, রান দুটোকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করি, মেয়েটির গলার গড়গড় আওয়াজ যেনো মধুর ঢেউ তুলছিলো আমার কানে, মাথাটা আলাদা করে দিতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, নাহ! সেটা করিনি। শেষে গলার রগটা কেটে দিই, রক্ত আর রক্ত, নিথর হয়ে যায় দেহ! খুব মায়া হইছিলো নিথর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন দেহ টুকরোগুলো দেখে, কেনো যে মেয়েটা ভুল করলো!

বিভিন্ন সাইকো মুভিতে খুনির কিছু বৈশিষ্ট্য দেখায়, তারা নাকি কিছু ক্লু রেখে যায়, তাদের সব খুনের ধরণ একই হয়, ব্লা ব্লা, আমার এসব বিরক্ত লাগে, সবাইকে একইভাবে খুন করলে ভিন্ন ভিন্ন ধরণের খুনের মজাটা আমি পাবো কই? এই রক্তখুন গুলি কয়েকদিন মিডিয়ায় খুব আলোচনা হয়, এই গতরাতে একটা মেয়েকে খুন করে এসে একঘুমে সকাল, সকালে রুমে বসে টিভির রিমোটটা দিয়ে চ্যানেল পাল্টাচ্ছিলাম, হঠাৎ একটা চ্যানেলে গত রাতের খুনের নিউজ দেখাচ্ছে!

গোয়েন্দা সংস্থা চিন্তিত, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট চৌকশ, হঠাৎ দেখলাম সাংবাদিকের স্পিকার মাউথ এক পুলিশের মুখের সামনে, অল্প বয়সী একটা মেয়ে, খুবই সুন্দরী, গালটা লাল, যেনো রক্তে টইটম্বুর, টোকা দিলেই রক্ত ছিটকে আসবে। অসাধারণ আত্মবিশ্বাসী মনে হলো, খুবই মায়াবী চেহারা।

প্রতিদিন মেয়েটি রাত ১০টা পর্যন্ত ডিউটি করে, খুবই চিন্তিত দেখায় তাকে, হয়তো খুনের তদন্তের কোনো ট্যানশন, বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়, সকাল ৯টার মধ্যে বাসা থেকে বের হয়, কলনী থেকে যতোটুকু ইনফরমেশন পেয়েছি তা হলো, মেয়েটি কলনীতে নতুন, দারোয়ান বললো ইন্ডিয়াতে বড় হয়েছে, সেখানে পড়ালেখা করে দেশের জন্যে কিছু করতে পুলিশের চাকরী নিয়েছে। এর বেশী কিছু জানতে পারিনি, আর জানার দরকারও নেই।

তদন্তের ৭দিন পর টিভিতে দেখি, সংবাদ সম্মেলনে মেয়েটি বলছে মোট ১৬টি খুনের মাঝে যোগসাজশ পেয়েছে সে, মৃত সবাই মেয়ে, সবাইকেই খুন করা হয়েছে বিভৎস আকৃতিতে, জীবিত থাকতেই তাদের শরীরকে খণ্ড খণ্ড করা হয়েছে, খুনগুলো করা হয়েছে মৃতের লাস্ট অবস্থানেই, অন্য কোথাও খুন করে ফেলে এসেছে এমন নয়, (ইত্যাদি) মোটকথা তার বক্তব্য হচ্ছে সবগুলো খুন এক জনেরই করা, বা কোনো একই সংগঠনের করা। মুচকি হাসলাম। বাহ মেয়েটি ভালোই এগিয়ে যাচ্ছে, এর আগে এতোটকুও তো আগাতে পারেনি কেউ। খুব হৈচৈ পড়ে গেছে এই তদন্তে।

বিকেল বেলা রোডের বাম পাশ দিয়ে হাটছি আনমনে, একটা বুকস্টলের টেবিলে টেলিফোনের প্রতি দৃষ্টি পরলো, কি ভাবতে ভাবতে যেনো থানায় ফোন করে বসি।

-হ্যালো! ইন্সপেক্টর আরিয়ানা বলছি।

-হ্যা চিনতে পেরেছি!

-কে বলছেন?

-গুড জব!

এ বলে ফোন কেটে দিই, আর দোকানীর অগোচরে টেলিফোন তাঁরটা লিক করে দিই, আজ সন্ধার দিকেই মেয়েটি থানা থেকে গাড়ী নিয়ে বের হয়, অবাক হই, এতো তাড়াতাড়ি কেনো বেরোলো? আমার সিএনজি তার গাড়ীর ঠিক পিছনে, সে বাসার রোড না ধরে অন্য রোড ধরে, ঘন্টা দুই ফলো করি, ঢাকার অনেক দূরে চলে এসেছি আমরা, হঠাৎ খুব স্পিডে গাড়ি নিয়ে হাওয়া হয়ে গেলো মেয়েটি, আশ্চর্য, একটু আগাতেই দেখি মেয়েটি গাড়ী থেকে নেমে আমাদের সিএনজির দিকে বন্দুক তাক করে দাড়িয়ে আছে, চালককে দূরত্ব বজায় রেখে থামাতে বলি, কোমরের চিপা থেকে প্রিয় ছুড়িটা ড্রাইভারের গলায় ধরে সিএনজি থেকে নামি। মেয়েটি খুব চালাক মানতে হবে, বাট বোকাও বটে, এখানে গাড়ী কেনো থামালো, লোকশুণ্য রোড, রাস্তার বামে বিস্তৃত এলাকা, ডানে বিশাল জঙ্গল মনে হচ্ছে, হঠাৎ মাথায় আসলো হয়তো মেয়েটি কোনো পুলিশের বহরকে আসতে বলছে। তাড়াতাড়ি কেটে পরতে হবে।

-স্যারেন্ডার করো,

-না করলে কি হবে?

-তোমার কারণে নিরপরাধ লোকটা ঝুকিতে পরবে।

-আমি তো নিরপরাধদেরই লক্ষবস্তু বানাই।

-সেটা মেয়েদের।

-এবার না হয় ভিন্ন হোক।

-এক পাও আগাবে না, এ বলে ড্রাইভারকে নিয়ে রাস্তার ডানে জঙ্গলে ঢুকে যাই, ভালো বড় জঙ্গলই মনে হলো, লুকোনোর উত্তম ব্যবস্থা, কি যে বোকামীই মেয়েটি করলো, মেয়েরা সবসময়ই বোকা হয়। আরেকটা বোকামী করলো সে ফিরে না গিয়ে ধারণা করা পুলিশ ফোর্স নিয়ে জঙ্গলে তল্লাশীতে নেমে গেলো, ভাবতেই আনন্দ লাগছে, তদন্তে থাকা পুলিশই যদি উধাও হয়ে যায়? হাসতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব।

আমার সামনে অজ্ঞান হওয়া পুলিশ মেয়েটি পরা, হাত পিছনে নিয়ে বেঁধে রেখেছি, মাথায় আঘাত করেছিলাম পিছন থেকে, মধ্যরাত এখন, পুলিশ ফোর্সের অবস্থান থেকে অনেক দূরে নিয়ে আসছি ওরে। জ্ঞান ফিরলো মেয়েটির, উঠিয়ে বসালাম, থুতু মারলো আমার মুখে, রক্তের নেশাটা প্রকট হতে লাগলো, যে জিহ্বার সাহায্যে থুতু মারলো সে জিহ্বা টেনে বের করে কেঁটে ফেলি, জিহ্বা ছাড়া আর্তচিৎকার, অন্ধকারে ওর দাপানি, ফোনের আলোটা জ্বালালাম দেখতে, বেশী দেরী করলাম না, মাথাটা গলা থেকে আলাদা করে ফেললাম। মাথাটার চুলগুলো ধরে বডি ওখানেই ফেলে এক দিকে হাটতে লাগলাম, চেতনা ছিলো না আমার… হঠাৎ! এরপরের কিছু মনে নেই।

সকালের রোদে চোখ খুলি, দেখি জঙ্গলেই আছি, অবচেতন অবস্থায় হয়তো সারারাত কেটেছে, পাশে একটা নালা, হাতে কর্তিত মাথাটা, রক্ত জমাট বেঁধে গাড়ো খয়েরি বর্নধারণ করছে। মাথাটা দেখে মুচকি হাসলাম, নালার পানির মধ্যে ডুবালাম, দুবার ডুবালাম, ডুবাচ্ছিলাম আর তৃপ্তির হাসি হাসছিলাম, হঠাৎ চোখ পরলো মাথার নিচে ঘাড়ের দিকে, সাদা চামড়ার মাঝে অর্ধেক দাগ, আর অর্ধের হয়তো বডির সাথে রয়ে গেছে, প্রথমে ভেবেছিলাম ট্যাটু করা, নাতো! পরিচিত দাগ মনে হচ্ছে, জন্মদাগ, যেনো বাংলাদেশের মানচিত্রের অর্ধেকটা, আকাশ ভেঙ্গে পড়লো আমার উপরে, বডির খোজে দৌড়াতে লাগলাম এলোপাতাড়ি, মাথাটি বডির গলায় রেখে দেখি এতো বাংলাদেশের মানচিত্রের মতো জন্মদাগ!

এ কি করলাম আমি? চোখে ঝাপসা দেখছি, দুনিয়াটা ঘুরছে যেনো, মাথাটা ঝিম হয়ে গেছে, আমার রক্ত চলাচল যেনো থমকে গেছে, বুকটা ফেটে যাচ্ছে যেনো, আর্তচিৎকার চতুর্পাশে বাড়ি খাচ্ছে, এ যে আমার কলিজার টুকরা মামনি….বাবা উঠ, এইযে আমি, তোর বাবা, দেখ! মা, ও…মা উঠনা….উঠ।

অচেতন হয়ে যাই আমি, বিকালে নিথর জঙ্গলে জ্ঞান ফিরে আমার, কোলে মামুনীর মাথাটা, এতোদিন খুন করেছি, আজ নিজেকে খুন করবো, সবচেয়ে বিভৎস হবে সে খুন, লোক দেখে আৎকে উঠবে, ভয়ে আর্তচিৎকার করবে আমার লাশ দেখে, শিশুদের ঘুম পাড়াবে আমার লাশের ভয় দেখিয়ে, সে হবে ভয়ঙ্কর রক্তখুন, নাহ! সে কোনো আত্মহত্যা নয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।