যেসব দেশে আসবে না ২০১৯ সাল

এখন কোন সাল চলে? প্রশ্নটা শুনতে সহজ মনে হলেও আসলে এতটা সহজ নয়। কারণ, প্রতিটা ব্যাপারই তো আপেক্ষিক। এক দেশের সাথে আরেক দেশের ক্যালেন্ডারে যে মিল আছে – এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।

আমাদের এবারের আয়োজনটা বিভিন্ন দেশের বিচিত্র সব ক্যালেন্ডার নিয়ে।  এদের মধ্যে অধিকাংশই অনেক কাল হল টিকে আছে। তারপরও তো সময় ক্ষণস্থায়ী।

রাশিয়া

পৃথিবী জুড়ে অধিকাংশ দেশেই জর্জিয়া ক্যালেন্ডার মেনে চলা হয়। জুলিয়ান ক্যালেন্ডরের পোপ ত্রয়োদশ পোপ এর প্রচলন করেন। ১৫৮২ সাল থেকে ক্যাথলিক দেশগুলোতে চালু হয় এই ক্যালেন্ডার। জর্জিয়ান ক্যালেন্ডারের সাথে এর পার্থক্য হল ১৩ দিনের। প্রতি ৪০০ বছর পর পর জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে তিন দিন করে যোগ হয়। রাশিয়ায় মেনে চলা হয় এই জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। তবে, গোটা বিশ্বের জন্য নিয়মিত ‘নিউ ইয়ার’ উদযাপনে সেখানে কোনো বাঁধা নেই।

থাইল্যান্ড

দেশটিতে আসন্ন ২০১৮ সালকে ধরা হয়েছিল ২৫৬১ সাল। কারণ, তারা বুদ্ধিস্ট লুনার ক্যালেন্ডার অনুসরণ করেন। সেই ক্যালেন্ডারের সূচনা ধরা হয় গৌতম বুদ্ধের নির্বান প্রাপ্তির দিন থেকে।

যদিও, দেশটিতে জর্জিয়ান ক্যালেন্ডারও অনুসরণ করা হয়, তবে সেটা কেবলই বিদেশিদের ক্ষেত্রে। এমন বুদ্ধিস্ট ক্যালেন্ডার শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, লাওস ও মায়ানমারেও আছে।

ইথিওপিয়া

‘রেগুলার’ ক্যালেন্ডার থেকে ইথিওপিয়া আট বছর পেছনে। সেকারণে ওদের আগামী বছর হল ২০১১ সাল। কারণ, তাদের প্রতিবছরে ১২ নয়, ১৩ টি মাস। এর মধ্যে ১২ টি মাসে ৩০ টি করে দিন, শেষ মাসে খুব কম মানে ৫-৬ টি করে দিন। এটা নির্ভর করে লিপ ইয়ারের ওপর। ওই মাসে ইথিওপিয়ানরা পুরো মাসের বেতন পান কি না সেটা অবশ্য জানা যায়নি। তাদের দিন বাঙালি রীতির মত রাত ১২ টা থেকে নয়, শুরু হয় সুর্য্য ওঠার সাথে সাথে। এটা মূলত প্রাচীন আলেকজ্যান্ডার ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

ইরান ও আফগানিস্তান

পারসিয়ান ক্যালেন্ডার কিংবাদ সোলার হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে ইরান ও আফগানিস্তান। এই অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোলার ক্যালেন্ডারটি তৈরি করেন এক দল জ্যোতির্বিজ্ঞানী, এদের মধ্যে ছিলেন বিখ্যাত কবি ওমার খৈয়ামও। এটা অনেকটা হিজরী ক্যালেন্ডারেরর মতই, কিন্তু বানানো হয়েছে সৌরবর্ষের ওপর ভিত্তি করে। এখানে সপ্তাহ শুরু হয় শনিবারে, শেষ হয় শুক্রবারে। এই হিসান বলছে এই দেশদু’টিতে আগামী বছর হল ১৩৯৭ সাল।

ভারত

ভারতের কেন্দ্রীয় ক্যালেন্ডারের বয়স অবশ্য খুব বেশিদিনে নয়। তাদের হিসেবে আগামী বছরটা হল ১৯৫৭ সাল। তারা এই বছর গণনাটা করে সাকা এরা নামের এক প্রাচীন কালগণনা-বিদ্যার সাহায্যে। এই বিদ্যার প্রচলন ছিল ভারত ও কম্বোডিয়ায়।

তবে, গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে অনেক রকম ক্যালেন্ডার আছে। অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বী ‍শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যুর সময় (খ্রিষ্টপূর্ব ৩১০২) থেকে সাল গণনা করে। কেউ আবার গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর সময় (৫৪৩ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে বছর গণনা করে।

জাপান

জাপানে দু’রকম পঞ্জিকা বিদ্যমান। একটা খ্রিষ্টের জন্মানুসারে, আরেকটা হল জাপানের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুসরণ করে। জাপানের ঐতিহ্যবাহী ক্যালেন্ডারটি জাপান সম্রাটদের রাজত্ব ও রাজক্ষমতা ধরে রাখার সময় – ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়।

যেমন জর্জিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয়েছে জাপানের ‘শান্তি ও প্রশান্তির যুগ। আর এই সময়টা সম্রাট আকিহিতো’র। এর আগের যুগ ‘আলোকিত বিশ্ব’ ছিল ৬৪ বছরের।  দাপ্তরিক কাগজপত্রে জর্জিয়ান ও নিজেদের এতিহ্যবাহী – দুটো তারিখই অনুসরণ করে জাপান। জাপানের আগামী বছরটা মোটে ৩০ সাল!

চীনা

চীনা ক্যালেন্ডার চীন ছাড়াও কম্বোডিয়া, মঙ্গোলিয়া, ভিয়েতনাম ও আরো কিছু এশিয়ান দেশে ব্যবহৃত হয়। খ্রিস্টপূর্ব ২৬৩৭ সালে, যেদিন সম্রাট হুয়াঙদি নিজের রাজত্ব শুরু করেন সেদিন থেকে এই সাল গণনা করা হয়।

এটা জ্যোতির্বিদ্যার জুপিটার চক্র মনে করা হয়েছে। ৬০ বছরে জুপিটার সুর্য্যকে পাঁচবার প্রদক্ষিণ করে। আর এই পাঁচটিই হচ্ছে চীনা ক্যালেন্ডারের অংশ। প্রতিটি অংশে থাকে ১২ টি করে বছর। এর প্রতিটিরই ভিন্ন ভিন্ন নাম আছে, আর সেগুলো করা হয় নানা রকম পশুর নামে। জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে ২০১৮ সালের নাম যেমন ছিল ‘কুকুরের বছর’। তবে চীনে এই বছরটা হচ্ছে ৪৭১৭ সাল।

উত্তর কোরিয়া

১৯৯৭ সালের আট জুলাই থেকে উত্তর কোরিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে জিউচি ক্যালেন্ডার। একই সাথে অনুসরন করা হয় জর্জিয়ান ক্যালেন্ডারও। জিউচি ক্যালেন্ডার শুরু হয়েছে উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সাংয়ের জন্ম সাল মানে ১৯১২ সাল থেকে। সে বছরটাকে ধরা হয় প্রথম বছর, এই ক্যালেন্ডারের শুণ্যের কোনো অস্তিত্ব নেই। দাপ্তরিক কাজে দু’টো তারিখেরই উল্লেখ থাকে। সেই হিসেবে আগামী বছরটা তাদের ১০৮ সাল।

– ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।