যানজট নিরসনের পাঁচ কৌশল

আমি মাত্র ২২ মিনিটে অফিসে এসেছি। কারণ আমি এখন সাইকেল চালিয়ে অফিসে আসি। বাসা অফিসের দূরত্ব সাড়ে ৫ কিলোমিটার। চার মাস ধরে সাইকেল চালানোর অভিজ্ঞতা বলছে, ৫-৬ কিলোমিটার দূরত্বে অনায়াসে সাইকেল চালানো যায়। ১০-১২ হাজার টাকার মধ্যে ভালো সাইকেল পাওয়া যায়, চালাতে তেমন বেগ পেতে হয় না। দেখে-শুনে চালালে ঢাকার মূল রাস্তাতেও (গাড়ির চাপে বেশির ভাগ সময় সেখানে বাস-কারের গতি তেমন থাকে না) নিরাপদে চালানো সম্ভব।

সাইকেল চালানোর কিছু সমস্যা আছে। গা ঘেমে যায়। সেটা বাসে চলাচল করলে বা ফুটপাতে হাঁটলেও হয়। বিকল্প জামা সঙ্গে রাখলে ঝামেলা মিটে যায়। ভেবে দেখতে পারেন।

বর্ষাকালে প্রাইভেট কারগুলো রোস্টার করে চালানো যায় কি? একদিন জোড় সংখ্যা, আরেক দিন বেজোড় সংখ্যার (নম্বর প্লেটের শেষ দুই সংখ্যা অনুযায়ী) গাড়ি চলবে এই ঘোষণা করে দিতে পারে কর্তৃপক্ষ। জানি এতে কষ্ট হবে অনেকের। কিন্তু জ্যামে যাওয়া আসার পথে ৫ ঘণ্টা সময় ব্যয় করার বিকল্প হতে পারে এটি। সবার জন্য দুর্ভোগ কমবে বলে আমার অনুমান। ভেবে দেখতে পারেন।

যে ৪ হাজার বাস ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ২ হাজার বাস ডাবল ডেকার বা দোতলা করা বাধ্যতামূলক করা যায় কি? বাস মালিকেরা মিনি বাসের পক্ষে থাকেন সব সময়, তাতে বাস উপচে যাত্রী নেওয়া নিশ্চিত হয়। বড় বাস, দোতলা বাসে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কম। ফাঁকা ট্রিপে লস হয় বলে। এমনটাই শুনেছি। কিন্তু এর নিশ্চয়ই সমাধান আছে। ভেবে দেখতে পারেন।

অফিস টাইম আরও বৈচিত্র্য আনা যায় কি? সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ঠিক করা? একেক দিন একেক মার্কেট বন্ধ থাকবে এর সুফল পাওয়া গেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন অদল-বদল করা গেলে এর সুফল মিলবে। অন্তত কর্মীদের সাপ্তাহিক ছুটি রোস্টার করা যায়, অনেক বেসরকারি অফিসে। সংবাদমাধ্যমগুলো এভাবেই চলে। ভেবে দেখতে পারেন।

একই পরিমান গাড়ির লোড নিয়ে অনেক সময় ঢাকা শহর ঠিকভাবেই চলে। সমস্যা হলো, আমরা একদম কলাপসের প্রান্তে দাঁড়িয়ে। ফলে একটু এদিক-ওদিক হলে আর সামলানো যায় না। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে বিশেষ টাস্ক ফোর্স করে, সিসি ক্যাম, জিপিএস, গুগল ম্যাপ, নিজেরা কোনো সফটওয়্যার ডেভলপ করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও স্মার্ট করা যায় কি?

ছোট মানুষ, ভাবনায় ভুল থাকতেই পারে। আসুন সবাই মিলে ভেবে দেখি। সবার উপলব্ধি থেকে এখনই একটা পরিত্রাণের পথ খুঁজি। দীর্ঘমেয়দী আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। আপাতত শর্ট টার্ম সমাধান বেশি জরুরী।

– ফেসবুক থেকে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।