যস্মিন দেশে ডিমের যদাচার

ডিমের মত বহুমুখী খাদ্যদ্রব্য খুব কমই আছে। নানান ভাবে, নানান উপায়ে ডিম দিয়ে খাবারের মূল পদ রান্না করা যায়। আবার অন্য বেশিরভাগ রান্নার স্বাদই বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে পারে সেই খাবারের সাথে ডিমের ব্যবহার। শুধু সুস্বাদুই নয় বরং উত্তম প্রোটিনের উৎস ডিম। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ বিশেষ উপায়ে ডিম রান্না করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ডিমের নানান পদ নিয়ে থাকছে এবারের আয়োজন।

এগ হুপার (শ্রীলঙ্কা)

শ্রীলঙ্কার স্ট্রিট ফুডের মধ্যে অন্যতম এই এগ হপার। চালের আটা আর নারকেলের দুধ দিয়ে তৈরি প্যানকেক বোলের মধ্যে ডিম রান্না করে পরিবেশন করা হয় এই এগ হপার।

স্কচ এগ (যুক্তরাজ্য)

সমগ্র যুক্তরাজ্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার হল স্কচ এগ। তবে নামের সাথে এই জনপ্রিয় নাস্তাটির ঠিক মিল খুজে পাওয়া যাবে না। সসেজ দিয়ে ভাল করে সেদ্ধ করা ডিম মুড়ে তার উপর পাউরুটির গুড়ো দিয়ে ঢেকে ভেজে বা রান্না করে বানানো হয় স্কচ এগ।

অ্যাভগোলেমনো স্যুপ (গ্রীস)

এই গ্রীক খাবারে ডিম প্রয়োজনীয় মনে না হতে পারে, তবে এই স্যুপ তৈরির জন্য ডিম কিন্তু অপরিহার্য। অ্যাভগোলেমনো হল মুরগীর ঝোল জাতীয় স্যুপ যা ফেটানো ডিম, চাল এবং লেবুর রস দিয়ে তৈরি হয়। এটি সাধারণত কুচি করা মুরগীর মাংসের সাথে পরিবেশন করা হয়।

সেঞ্চুরি এগ (চায়না)

সেঞ্চুরি এগ চায়নার একটি ঐতিহ্যবাহী সুখাদ্য। মূলত লবণ,কলিচুন,চটচটে মাটি,ধানের তুষ এবং ছাই দিয়ে কিছুদিন বা সপ্তাহের জন্য সংরক্ষিত ডিম সেঞ্চুরি এগ নামে পরিচিত। এটি তৈরি করতে সাধারণত মুরগী, হাঁস বা ছোট পাখির ডিম ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

তামাগোইয়াকি (জাপান)

তামাগোইয়াকি হল অমলেটের জাপানি সংস্করণ যার স্বাদ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। এটি খেতে সামান্য মিষ্টি জাতীয়। সবচেয়ে সাধারণ ধরণ টি হল রান্না করা ডিম কয়েক স্তরে গুটিয়ে রোল করা। সাধারণত চারকোণা প্যানে তৈরি হয় বলে এটি দেখতে চারকোণা হয়ে থাকে।

শাকশউকা (ইসরাইল)

চরম সুস্বাদু সকালের নাস্তা হল শাকশউকা। টমেটো, পিঁয়াজ, মরিচ এবং নানান ধরণের মসলা দিয়ে তৈরি সসের উপর ডিম পোচ ছেড়ে দিয়ে এই নাস্তাটি তৈরি করা হয়।

এগস এন ককট (ফ্রান্স)

ডিম ভাজি, পোচ বা রান্নার মত জনপ্রিয় না হলেও এটি অপেক্ষাকৃত তৈরি করা সহজতর। শুধু চাই রামেকিন নামক সিরামিকের তৈরি গোলাকার পাত্র এবং পানি। এই গোলাকার পাত্রে ভাপে ডিম রান্না করলেই তৈরি হয়ে যায় ছোট গোলাকার ডিমের তৈরি এগস এন ককট। রুটি বা পাউরুটির সাথে পরিবেশিত হয় এই নাস্তা।

ব্রিক (তিউনিসিয়া)

এই ব্রিককে আমাদের দেশের সমুচার সাথে তুলনা করা যায়। সমুচার মতই এটি হালকা, মুচমুচে এবং ভেতরে বিভিন্ন জিনিস এর পুর দিয়ে কড়া করে ভেজে তৈরি করা হয়। ব্রিকের এই পুরটি সাধারণত একটি সম্পূর্ণ ডিমের সাথে টুনা মাছ, পিঁয়াজ, হারিসা ( উত্তর আফ্রিকাতে ব্যবহৃত মরিচসহ বিভিন্ন মশলা থেকে তৈরি এক ধরণের সস) ইত্যাদির মিশ্রণে বানানো হয়। সবশেষে চিজ দিয়ে একে আবৃত করা হয়।

হুয়েভস র‌্যাঞ্চেরস (মেক্সিকো)

হুয়েভরস র‌্যাঞ্চেরস অর্থ খামারবাড়ির ডিম। নামটি যথার্থই কারণ গ্রামীণ মেক্সিকান খামারবাড়িগুলোতেই এই খাবারের উৎপত্তি। শস্যের টরটিলা ( চিকন, পাতলা প্যানকেক জাতীয় ) -এর উপর ডিম ভাজি, মটরশুটি, অ্যাভোকেডো আর সালসা সস দিয়ে এটি বানানো হয়।

কুয়েক কুয়েক (ফিলিপাইন)

কুয়েক কুয়েক, যা কোথাও কোথাও টকনেনেং নামেও পরিচিত- একটি অত্যন্ত পরিচিত ফিলিপিনো স্ট্রিট ফুড। এটি সহজভাবে বেকিং পাউডার,ময়দা,পানি ও অ্যানাট পাউডার এর মিশ্রণ দিয়ে ভাজা ছোট পাখির ডিম।

মেনেমেন (তুরস্ক)

এটি স্ক্র্যামবেলড ডিমের উচ্চতর সংস্করণ। মেনেমেন মূলত স্ক্র্যামবেলড ডিমই যাকে সবুজ মরিচ, টমেটো, লাল মরিচের গুড়ো এবং থাইম পাতার সাথে রান্না করে পরিবেশন করা হয়। এই খাবারটি দিনের যেকোন সময় খাওয়া যায়।

ডরো ওয়াট (ইথিওপিয়া)

এটি ভাপে সিদ্ধ করা ঝাল জাতীয় খাবার। যা সবজি এবং মুরগী বা গরু বা ভেড়ার মাংস দিয়ে তৈরি করা হয় এবং কড়া সেদ্ধ করা ডিমের সাথে পরিবেশিত হয়।

এগ সালাদ (আমেরিকা)

এগ সালাদ বহু যুগ ধরে স্যান্ডউইচের প্রধান উপকরণ গুলোর একটি। ডিম সিদ্ধ কে কুচি কুচি করে কেটে তার সাথে মেয়নিজ, পিঁয়াজ, ও সাধারণ সালাদ তৈরির অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দিয়ে তৈরি করা হয় এই আমেরিকান সালাদ।

ডিমের তরকারি (উপমহাদেশীয়)

নামের মতই এটি সুস্বাদু, সবজি, পেঁয়াজ এবং টমেটো দিয়ে তৈরি সিদ্ধ ডিমের ঝাল তরকারি বিশেষ। ভারত ও বাংলাদেশে এটি বহুল পরিচিত তরকারি। তবে, দু’দেশে মসলার ব্যবহারে ভিন্নতা আছে।

ডেভিলড এগ (ইতালি)

এটি অনেক দেশের প্রচলিত খাবার হলেও এর উৎপত্তি ইতালিতে। সিদ্ধ ডিমে কেটে এর কুসুম বের করে সেই কুসুমের সাথে মেয়নিজ,সরিষা ইত্যাদি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আবার ডিমের ভেতর পুরে দিয়ে এই খাবার প্রস্তুত করা হয়। প্রচুর ঝাল থাকার কারণেই এর নাম ডেভিলড এগ।

দ্য ইনসাইডার অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।