যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে…

বিশ্বকাপের মঞ্চে ‘জোড়া সেঞ্চুরি’ – এই কথাটা বহুবার তাঁর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে করতে ক্লিশে হয়ে গেছে। কখনো সেটা প্রশংসাসূচক, কখনো লোকে খোঁচা দিতেও কথাটা ব্যবহার করতো। যদিও, গত বছরই তিনি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চে আবারো সেঞ্চুরি করে অন্তত ওই জোড়া সেঞ্চুরির চাপটা মুছে ফেলেছিলেন।

তবে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সেই ম্যাচে যে সবটুকু আলো কেড়ে নিলেন সাকিব আল হাসান। এটাই হয়তো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্যারিয়ারের সার-সংক্ষেপ। বরাবরই নীরবে-নিভৃতে পার্শ্বনায়কের ভূমিকায় থেকে তিনি পারফর্ম করে গেছেন। তিনি পারফর্ম করলে যতটা না আলোচনা হয়, তার চেয়েও বেশি আলোচনা হয় তিনি অফ-ফর্মে থাকলে।

সব ছাপিয়ে তিনি তাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের আনসাং হিরো। এবার অবশ্য তাঁর সামনে সত্যিকারের ‘হিরো নাম্বার ওয়ান’ হওয়ার সুযোগ ছিল। তার সামনে সুযোগ ছিল প্রথমবারের মত বাংলাদেশকে বহুজাতিক কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা এনে দেওয়ার। কিন্তু, পারেননি। পারেননি স্রেফ একজন ‘মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ’ অভাবে।

রিয়াদ যেদিন প্রথম নায়ক বনে যাবেন, তখন পার্শ্বনায়কের ভূমিকাটা কাউকে না কাউকে তো পালন করতে হতো। সেটাই হয়নি।

চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না রিয়াদের। ২২২ রানের সাদামাটা লক্ষ্যে ব্যাট করতে এলোমেলো বাংলাদেশের টপ অর্ডারের বিপর্যয়ের পর হাল ধরেছিলেন, সঙ্গী ছিলেন মুশফিকুর রহিম। ২২ রানে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দু’জনে চতুর্থ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৫৮ রান।

এর বাইরে সব অন্ধকার। পরের ব্যাটসম্যানরা, মানে মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন কিংবা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা – সবাই ব্যর্থ। টেনে টুনে বাংলাদেশ ১৪২ অবধি যায়। সাকিব আল হাসানের ইনজুরিজনিত অনুপস্থিতি এর একটা কারণ নি:সন্দেহে, এই শাক দিয়ে পুরোটা মাছ ঢাকা যায় না।

রিয়াদ একাই করেন ৭৬ রান। অতিরিক্ত খাত থেকে আসা ১১ রান বাদ দিলে দলের বাকি ব্যাটসম্যানরা মিলে করেন মাত্র ৫৫ রান, ফাইনালের মত গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে!

রিয়াদের ইনিংসে কি ছিল না। ছোট স্কোর তাড়া করতে নেমে স্ট্রাইক রেট ৮০-এর ওপর রেখে রান তুলেছেন। নিয়মিত স্ট্রাইক রোটেট করেছেন, প্রয়োজনের সময় শট খেলেছেন। তবে, এর সবই অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায় ৭৯ রানের বিশাল পরাজয়ে।

স্রেফ আর একজন ব্যাটসম্যান যদি, দায়িত্বশীল একটা ইনিংস খেলতে পারতেন, তাহলেই হয়তো চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো। সেটা হয়নি, রিয়াদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। বরাবরই যিনি সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এবার প্রয়োজনের সময় তিনি কাউকে পাননি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।