মোটা দম্পতি থেকে সুখী দম্পতি

লেক্সি ও ড্যানি রিডের প্রিয় জায়গা ছিল চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। দেশ বিদেশ ভ্রমনের চেয়ে এক গাদা রেস্টুরেন্টে বুফ্যে খেতে স্বাচ্ছন্দবোধ করতো ওরা। এক বসায় আট-দশ প্লেট খেয়ে ফেলতো।

ফাস্ট ফুড, পিজা, বার্গার, চিপস, ক্যান্ডি, সোডা – কিছুই বাদ থাকতো না। লেক্সি-ড্যানির শরীরও তাই ফুলে-ফেঁপে উঠতে থাকেন। সেটা এতটাই যে, দু’জনকে ক্যামেরার একই ফ্রেমে নিয়ে আসা মুশকিল হয়ে পড়েছিল।

২০১৬ সালের প্রথম দিনে এসে তারা সিদ্ধান্ত নেয় – আর নয়। ওজন কমানোর মিশনে নামলো ওরা। এর বাকি গল্পটা স্রেফ ইতিহাস।

ওয়ার্ক আউট আর নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাসের মধ্য দিয়ে যেন নতুন জীবন ফিরে পেলেঅ এই দম্পতি। ড্যানি কমিয়ে ফেললো ৬২ পাউন্ড। স্ত্রী লেক্সি ছিল আরো এক ধাপ ওপরে। তিনি কমান ২৩৬ পাউন্ড।

২৬ বছর বয়সী লেক্সি বললো, ‘আমি এর চেয়ে বেশি আনন্দিত কোনো ভাবেই হতে পারতাম না। নিজেকে নিয়ে খুব গর্ব হয়। এটা একটা মিশনের মত ছিল আমাদের জন্য। অবশেষে, একটা কিছু তো করতে পারলাম।’

লেক্সির চেয়ে দু’বছরের বড় ড্যানি। তারা আমেরিকার ইন্ডিয়ানার বাসিন্দার। ২০০৭ সাল থেকেই প্রেম করছিল। ২০১৫ সালের অক্টোবরে এসে বিয়ের পিঁড়িতে বসে।

বিয়ের পর সন্তান নেওয়ার কথা ভাবে তারা। লেক্সি বলে, ‘আমি জানতাম, এই ওজন নিয়ে আমার পক্ষে মা হওয়া অসম্ভব। সেটাই ছিল আমার ওজন কমিয়ে ফেলার অনুপ্রেরণা।’

তখন এক বন্ধু বলেছিল – ‘তোমরা অ্যালকোহল আর মাংস না খেয়ে এক মাসও থাকতে পারবে না’। এমন চ্যালেঞ্জ পূরণের সাথে সাথে লেক্সি-ড্যানি জিমে যাওয়াও শুরু করে।

আস্তে আস্তে শারিরীক কসরতের পরিমান বাড়তে থাকে। খাদ্যাভাসে আসে পরিবর্তন। ফাস্ট ফুডের জায়গা নেয় স্বাস্থ্য সম্মত খাবার। সবজি, সালাদ, স্যালমন মাছ যোগ হয় খাবারের তালিকায়।

পুরোপুরি ‘শেপ’-এ আসতে তাদের বছর দুয়েকের মত সময় লাগে। এরপর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার সাথে সাথে ইন্টারনেটেও রীতিমত সেলিব্রিটি বনে যায় তারা।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।