মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে বৌমা

‘বৌমা ডিটেকটিভ’ পরিচালক  শ্রী সৃজিত রায় – এরকম একটা ছবির নাম দেখে মনের মধ্যে খুব আগ্রহ হয়েছিল এই ছবিটি দেখার। বেশ উদ্ভাবনী নাম। বিশেষ করে ‘ডিটেকটিভ’ শব্দটা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে কারণ থ্রীলার ছবি দেখতে আমি বড় ভালোবাসি। তবে ছবিটি দেখার পর আমি এটাই বলবো যে দর্শকরা রহস্যের ঘেরাটোপ থেকে বেড়িয়ে একটা সুন্দর ফ্যামিলি ড্রামাও অনুভব করতে পারবেন।

একটা লিপলক সিনের শুটিং চলাকালীন বাংলা ছবির সুপারস্টার রণজয় স্যানালের এর সঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে হঠাৎই তাঁর কো-স্টার আভেরী বসু মারা যান। পোস্ট-মর্টেমের রিপোর্টে দেখা যায় যে, ‘সেরিন’ নামে কোন বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাস প্রয়োগ করে অভিনেত্রীকে মারা হয়েছে। যদিও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে যদি রণজয় লিপলক করতে গিয়ে সেই গ্যাস প্রয়োগ করে মেরেও থাকেন তাহলে তাঁর কিছু হল না কেন?

তবুও প্রাথমিক সন্দেহ রণজয়ের উপরেই থেকে যায়। সনাতন ধর্মের প্রাচীন সাহিত্য অনুযায়ী ঠিক যেমন সাবিত্রী স্বয়ং যমদূতের হাত থেকে তাঁর স্বামী সত্যবানের প্রাণ ফিরিয়ে আনেন ঠিক তেমনিই রোহিনী স্যানাল, রণজয়ের স্ত্রী, একজন অত্যন্ত সাধারণ গৃহবধূ, রহস্যর উদ্ঘাটনে নেমে পরেন তাঁর স্বামীকে খুনের দোষ থেকে মুক্ত করার জন্য যে স্বামী তাঁর স্ত্রীকে স্ত্রী হিসেবে মর্যাদাটুকুও দেন না।

ছবির শুরু থেকে উপস্থাপনা চমৎকার। রণজয়ের ভূমিকায় রোহিত রয় খুব সুন্দর ও সাবলীল অভিনয় করেছেন। ছোটবেলায় ‘স্বভিমান’ টিভি সিরিয়াল দেখার পর থেকেই আমার রোহিতদার অভিনয় দারুণ লাগে। রোহিনীর চরিত্রে অপরাজিতা দির অভিনয় দুর্দান্ত। বারবারই ইমোশনাল সিনে অপরাজিতা দি দারুণ অভিনয় করেন তা বলাই বাহুল্য । বাকি সকলেই ভালো অভিনয় করেছেন । তবে অতনুর চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তিনি কিন্তু বেশ নজর কাড়েন আমার।

ছবির অবশ্য কিছু জায়গা ভালো লাগেনি। যখন ছোট বাচ্চাটা বলে উঠলো ‘মা হচ্ছে ডিটেকটিভ’ তখন পুলিশের মনে সন্দেহ হল না এমনকি প্রশ্নও করল না, কার মা কার স্ত্রী ইত্যাদি । রোহিত রায়ের সত্যিকারের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলে ভালো লাগত। ছবির কিছু কিছু জায়গা মনে হচ্ছিল যেন অকারণে একটু বেশি টানা হয়েছে।

তবে যাই হোক পরবর্তী সিজন দেখার অপেক্ষায় থাকলাম তার। কারণ প্রথম সিজন কিন্তু ভালোই লাগল। অপেক্ষার প্রহর যেন খুব দীর্ঘ না হয়।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।