ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পাওয়া মিঠুনের সেই মেয়েটি

পিতৃতান্ত্রিকতা আমাদের ‍উপমহাদেশের সমাজকে পুরোপুরি ভাবে আবদ্ধ করে রেখেছে। কন্যাশিশুর প্রতি সমাজের, এমনকি বাবা-মার বৈষম্যমূলক আচরণের খবর আমরা রোজই পাই। রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি আমরা প্রতিনিয়তই হয়ে থাকি। ভারতও এর বাইরে নয়ভ

বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গে রাস্তার পাশে একটি কন্যাশিশুকে আবর্জনার ভাগাড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেল। জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী শিশুটির দুর্দশার কথা জানার পর তাকে উদ্ধারের কথা ভাবলেন।

জানা যায়, দিশানি চক্রবর্তীকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজন পথচারী। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল ডাস্টবিনের পাশে। খুবই দুর্বল এবং এক টানা কান্না করে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এরপর তুলে দেওয়া হয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দায়িত্বে।

এ ঘটনা জানার পর উদার মানসিকতা ও সরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী মিঠুন চক্রবর্তী এগিয়ে আসলেন। শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যেতে চান তিনি।

মিঠুন তাকে দত্তক নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তার স্ত্রী যোগিতা বালিও এমন মহৎ কাজে সমর্থন দিলেন। শিশুটিকে দত্তক নিতে গিয়ে সেদিন সারা রাত আইনি জটিলতা মিটাতে হয়েছিল যোগিতা আর মিঠুনকে। সব বাধা পেরিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

নাম রাখা রাখেন— দিশানী চক্রবর্তী। এরপর থেকে দিশানী সেখানেই পরম যত্ন ও ভালোবাসায় বেড়ে ওঠতে থাকেন।

মিঠুন ও যোগিতা তাদের অন্য তিন সন্তান— মহাক্ষয়, উষ্মে, নমশীর সঙ্গে তাকেও সব সময় আগলে রেখে বড় করেছেন। এনটিডি নিউজ অনুযায়ী, বাড়িতে এসে খুব সহজেই সবার প্রিয় হয়ে ওঠেন ছোট্ট দিশানী। বাবা-মায়ের স্নেহও পেয়েছেন, তার প্রতি কখনো কোন বৈষম্য করা হয়নি।

সদ্য যৌবনে পা দেয়া মিঠুন চক্রবর্তীর ওই পালিত কন্যা সম্প্রতি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এবং নিউইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমিতে অভিনয় শিখছেন।

নিরবে নিভৃতে সমাজকল্যাণমূলক কাজের জন্য মিঠুনের আলাদা ডাক-নাম রয়েছে। তার পরিচালনায় অনেক হসপিটাল এবং ট্রাস্ট আছে, যেগুলো অসংখ্য মানুষের জীবন উন্নয়নে সহায়তা করে যাচ্ছে।

ইওরস্টোরি.কম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।