এখনো মায়ের পা টিপেই ঘুমাতে যান ধর্মেন্দ্র

পাঞ্জাবের এক সাধারণ ঘরের ছেলে। মাকে অনেক বেশি ভালোবাসতো। সারাটাদিন কাটতো মায়ের সেবাযত্ন করেই। মায়ের সেবায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতেই পছন্দ করতো বেশি।

কিন্তু বাবাকে ভয় পেতো খুব।আর তাই সকল আবদারগুলো ছিলো মাকে কেন্দ্র করেই। আর একটি বিষয় ছেলেটিকে খুব ভাবাতো, সেটা হলো গ্রামের নতুন সিনেমা হলের বড় পর্দাটা। কিশোর ছেলেটি কিছুতেই বুঝতো না এতো বড় পর্দায় বড় বড় সাদা কালো মানুষগুলো কিভাবে নড়াচড়া করছে।

সত্যিই কি মানুষগুলো পর্দার ভেতরে এতো সুন্দর কাহিনী রচনা করেছে কিনা তাই জানতে চাইতো সকলের কাছে। অগাধ ভালোবাসা, আগ্রহ আর কৌতুহল নিয়ে এক ছবি নব্বই বারের মতো দেখা শেষ করে ফেললো সে।

প্রশ্নের উত্তর খুজতে খুজতে কবে যে মনের কোণে নায়ক হবার বাসনা জেগে উঠেছে খেয়ালই হলোনা। বাবার সামনে দাড়িয়ে কথাটা বলার মতো সাহস ছিলনা। তাই, মায়ের কাছে গিয়ে বললো তাঁর মনের কথা।

মা জানতেন না নায়ক কি জিনিস, ভেবেছিলেন হবে হয়তো ছোটো-খাটো কোনো চাকুরি। মা বললেন, ‘চাকরি করবি তো কর। দেখ, স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেট ছাড়া আর কি কি কাগজপত্র জমা দিতে হবে সেগুলো মনে করে ঠিক মতো দিয়ে রাখ। আর ভয় পাসনে, তোর বাবাকে আমি ঠিক বুঝিয়ে নেবো।’

তারপর মাস পেরোলো বছর পেরোলো, কিশোর হয়ে উঠলো যুবক। একদিন সুযোগ সত্যিই এলো। বাজার থেকে কিনে নিয়মিত পড়া ফিল্মফেয়ার পত্রিকায় একদিন নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগীতার আয়োজন করে বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছিলো।

সুযোগ হাতছাড়া করলো না যুবক। কোনো রকম বাড়ি থেকে সামান্য টাকা আর মায়ের এক বুকভর্তি ভালোবাসা পকেটে নিয়ে পাড়ি জমালো বম্বের উদ্দেশে। ফিরল প্রতিযোগীতায় প্রথম হয়ে। এরপর ছবির অফার আসতেই থাকল। একসময় হয়ে উঠলো

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। হলেন পৃথিবীর সেরা দশজন সুদর্শন যুবকদের একজন। বলিউডের ড্রিম গার্ল হেমা মালিনির স্বামী তিনি। সানি দেওল, ববি দেওল, এশা দেওলদের বাবা তিনি।

রূপালি পর্দায় এখনো পছন্দের কোনো চরিত্র হলে কাজ করেন এই চিরসবুজ ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’। রাজনীতিতে জড়িয়েছেন, পদ্মভূষণ পুরস্কার পেয়েছেন।

আজো এতোগুলো বছর কেটে গেলেও তিনি সাদামাটা। গ্রামের বাড়িতে গেলে কিছুক্ষণ মায়ের পা না টিপে দিয়ে ঘুমাতে যান না তিনি। সেটা আজই ৮২ বছর বয়সে পা দেওয়ার পারও। সত্যি, কেবল পর্দায় নয়, বাস্তবেও তিনি নায়ক।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।