মাহফুজুর রহমান যে কারণে ‘অপমানিত’ হলেন

অনুমান করছি, মাহফুজুর রহমান যে এত অপমানিত হলেন, তার পেছনের কারণ তিনি নিজে নন। বরং তাঁর চারদিকে ঘিরে থাকা চাটুকারের দল।

‘স্যারে’র সংগীতপ্রীতির খবর তারা জানে। হয়তো স্যার একদিন আপন মনে গুনগুন করে উঠেছিল। অমনি মধ্যপ্রাচ্যের চেয়েও বেশি তেলসম্পদ ধারণ করা চলমান তেলের খনিগুলোর কেউ বলে উঠেছিল, ‘স্যার একটা কথা বলি? আপনার গলায় স্যার দরদ আছে। এমন দরদ দিয়ে গাইতে আমি কাউকে দেখিনি!’

কয়েক সেকেন্ডে পজ দিয়ে অভিমান ভরা গলায় তারপর বলেছিল, ‘স্যার আপনি টিভিতে গান করেন না কেন? এটা কিন্তু স্যার ঠিক না। সবার জানা উচিত আপনি কতটা সংগীতপ্রেমী। কী দরদ আপনার গলায়।’

______

রাজা হবুচন্দ্রের একবার শখ হলো, এমন রাজপোশাক পরবেন, সারা পৃথিবীতে আর কেউ পরেনি। এমন সুতো দিয়ে বানাতে হবে, যে সুতো দিয়ে আর কেউ কখনো কোনো জামা বানায়নি। ভবিষ্যতেও বানাবে না।

কিন্তু কে বানাবে এমন পোশাক?

যারাই অপারগতা প্রকাশ করে, সেই তাঁতিদের রাজা ঝুলিয়ে দেন ফাঁসিতে। আশপাশে যারা রাজাকে বোঝানোর চেষ্টা করে, সেই বন্ধু-পারিষদদের কপালে জোটে ফাঁসি, জেল। নয়তো ৫৭ ধারা।

শেষে এক তাঁতি রাজি হলো। একুশ দিন অন্ধকার ঘরে খুটখুট তাঁত চালিয়ে বানাল সেই পোশাক। তারপর নিয়ে এল রাজসভায়।

দু হাতে মেলে ধরে তাঁতি বলল, রাজামশাই, এই নিন আপনার পোশাক। এ এমন এক জাদুকরী পোশাক, যারা সৎ, স্বভাবচরিত্র ভালো, মানুষের জন্য মন কাঁদে; শুধু তারাই দেখতে পায়। কিন্তু তারা ভালো না, পাপী, লোভী; তারা এই পোশাক দেখতে পায় না।

রাজসভায় বাহবা উঠল। আহা কী সেই পোশাক! কী তার কারুকাজ!

সেই পোশাক গায়ে চড়িয়ে রাজা বের হলেন রাজ্য পরিদর্শনে। হাতির পিঠে রাজা চলছেন। সবাই ধন্য ধন্য করছে। এমন পোশাক কে আর পরেছে কবে! অবশেষে একটা ছোট্ট ছেলে বলে উঠল, এ মা, রাজা তো দেখি নেংটু!

রাজার হুঁশ হলো। কচুপাতায় নিজেকে আড়াল করে ফিরলেন রাজসভায়।

_____

সমালোচকদের, আপনার বিরোধীদের, আপনার মতের সঙ্গে মেলে না এমন মানুষদের ফাঁসিতে ঝোলালে শেষ পর্যন্ত আশপাশে শুধু ভ্রাম্যমান তেলের খনিই থাকবে শেষে। সবার ভাগ্যে চরম সংকটের মুহূর্তে কচুপাতাও জোটে না।

– ফেসবুক থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।