মাহফুজুর রহমানের গান ও রুপকথার টুকরো গল্প

১.

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া চলছে। স্বামী স্ত্রীকে বললো, ‘তুই একটা তেলাপোকা!’

স্ত্রীও কম যায় না। সেও স্বামীর চেয়ে গলায় দ্বিগুণ জোর এনে বললো, ‘তুই একটা নেংটি ইদুর!’

‘বললে শুধু ইদুর বল! নেংটি বলিস কেন?’

‘একশবার বলবো! নেংটি! নেংটি! নেংটি! তুই একটা নেংটি!’

‘খবরদার বল্টুর মা! আমারে রাগাইস না!’

‘দূরে গিয়া মুড়ি খা!’

ঝগড়ার এই পর্যায়ের পাশের রুম থেকে হঠাৎ ভেসে এলো মাহফুজের মনভুলানো সুরের সুমধুর কন্ঠের গান- তোমাকে দেখে মন ভালো হয়ে যায় ! স্বামী স্ত্রী আর রাগ ধরে রাখতে পারলো না। হো হো করে হেসে দিলো দুজনেই। তাদের সমস্ত রাগ পানি হয়ে গেল! বন্ধ হয়ে গেল তাদের ঝগড়া। একজন আরেকজনকে দেখে মন ভালো করে ফেললো!

তারপর ঘরে আজ শান্তির ছোঁয়া। দুজন আয়েশ করে পায়েশ খেতে খেতে মাহফুজুরের গান দেখতে লাগলো। আর সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো।

২.

এবারের ঈদে ‘কাদের’ কাদের বাড়ি খায়নি? খুঁজলে এমন একটা বাড়ির পাওয়া যাবে না কাদেরের মহল্লায়। সব বাড়িতে কাদের সমানে কুপিয়েছে। ফলাফল ঈদের দিন থেকে কাদেরের আউটগোয়িং বন্ধ। অনেক চেষ্টা করেও কাদের তার আউটগোয়িং চালু করতে পারেনি।

মাঝে মাঝে বেশি চেষ্টার ফলে দু একবার মিস ফায়ার হয়েছিলো। তাতে দম আটকে মরতে বসেছিলো কাদের নিজেই। তারপর থেকে কাদের চেষ্টা করাও বাদ দিয়েছে। খুবই অশান্তিতে দিন কাটছিলো তার।

আজও কাদের অশান্তি নিয়েই ঈদের টিভি অনুষ্ঠান দেখছিলো। হঠাৎ চ্যানেল ঘুরাতে ঘুরাতে সামনে চলে এলো মাহফুজুর রহমানের গান- বেঁচে থাকা বড় কঠিন…..

গানের প্রথম লাইন শুনেই কাদেরের জীবন সহজ হয়ে গেল। কোনরকমে গিয়ে কমোডে বসতেই মহল্লার সব গরু ছাগল তার সরু পথ দিয়ে নেমে গেল! পরম সুখে হারিয়ে গেল কাদের। ওদিকে টিভিতে তখন বাজছে সেই মাহফুজুরের আরেকটি জীবনধর্মী গান- সুখ পাখি….

তারপর থেকে কাদের সুখে শান্তিতে বাস করতে লাগলো।

৩.

কুরবানির চামড়া ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকার ছামচু গ্রুপ ও কালা গ্রুপের মধ্যে গন্ডগোল চলছে। আজ রাতে দুই গ্রপের মধ্যে মারামারি হবে।

ছামচু গ্রুপ কাটা মেশিনে (রাইফেল) বিচি ভরে রেডি। চাপাতি গুলোও ধার করা হয়ে গেছে। দুটো রাম’দা আর বিশটার মত হকিস্টিকও যোগাড় করা হয়েছে। আর আছে পার হেড করে ককটেল! এগুলো ভয় দেখাতে খুব কাজে আসবে।

ওদিকে কালা গ্রুপও পিছিয়ে নেই। চারটা নাইন এম এম, ত্রিশ হ্যান্ড গ্রেনেড, আর একটা একে ফরটি সেভেন রেডি করা আছে। এছাড়া সবার হাতে থাকবে লোহার রড়! আজ ছামচু গ্রুপরে একদম তামাতামা করে দিতে হবে!

নির্দিষ্ট সময় দুই গ্রুপ এক হলো খোলা ময়দানে। বিপদের আশংকায় পুরো এলাকা খালি। রাস্তা ঘাটে কেউ কোথাও নেই। ছামচু গ্রুপের প্রধান ছামচু ও কালা গ্রুপের প্রধান কাল একটা তৃপ্তির নিঃশ্বাস নেয়। আজ তাহলে আরাম করে মারামারি করা যাবে।

ছামচু ও কালা গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে আসে। ছামচু গ্রুপের হাতে ককটেল আর কালা গ্রুপের হাতে গ্রেনেড। তারা যেই গ্রেনেড ও ককটেল ফাটাবে তার আগেই পাশের একটা বিল্ডিং থেকে ভেসে এলো সুমধুর কন্ঠের এক গান- এ জীবনের অর্থ কী…….

গান শুনে দুগ্রুপই থমকে গেল। কিছুক্ষণ ভালো করে শুনলো। তারপর দুই গ্রুপই একসাথে বলে উঠলো, আরে এইটা তো সেই ভীন গ্রহের শিল্পী! মাহফুজুর রহমান!

কিছুক্ষণপর দেখা গেল দুই গ্রুপ তন্ময় হয়ে মাহফুজুর রহমানের গান শুনছে আর হাসাহাসি করছে! মারামারি করার কথা তাদের আর মনেই থাকলো না।

ব্যস এভাবেই এলাকায় শান্তি ফিরে এলো!

ওনার গানে সুরে ও সুমধুর গলায় শান্তি ফিরে আসার এমন হাজার হাজার গল্প রয়েছে। সব বলতে গেলে হাজার হাজার রাত পেরিয়ে যাবে। তবে একটা কথা বলতে চাই, অশান্তিতে ভরা এই দেশে এভাবে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দেয়ার জন্য ওনাকে কী শান্তিতে একটা নোবেল দেয়া যায় না? ভেবে দেখবেন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।