‘মাশরাফির মত একজন অলরাউন্ডার যদি ভারতে থাকতো…’

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চলছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচ। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১৭ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে সবাইকে চমকে দিলেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক।

তখন থেকেই বলাবলি হচ্ছে, লেখালিখি হচ্ছে – এবারই নাকি প্রথমবারের মত তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামলেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ খ্যাত এই ক্রিকেটার। তবে, এই তথ্যটা সঠিক নয়।

এর আগে রীতিমত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তিন নম্বরে খেলেছেন মাশরাফি। সেটাও আবার টেস্টে, প্রতাপশালী দল ভারতের বিপক্ষে।

সেটা এই চট্টগ্রামেই। ২০০৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর শুরু হয় টেস্ট। মাশরাফি দ্বিতীয় দিনের শেষ বেলায় দলী ৪৮ রানে ওপেনার জাভেদ ওমর বেলিম ১০ রান করে ফিরে গেলে ‘নাইটওয়াচম্যান’ হিসেবে ক্রিজে আসেন মাশরাফি।

সেদিনে আর কোনো বিপদ আসতে না দিলেও ভারতের বিপক্ষে সেবার অবশ্য ইনিংসটা খুব বেশি লম্বা হয়নি। পরদিন সকালেই শেষ হয় মাশরাফির ইনিংস।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৩ মিনিট উইকেটে থেকে ১৫ বল খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। হাঁকিয়েছিলেন একটি বাউন্ডারি। রানও ওই চারটিই। কুম্বলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছিলেন।

এর বাদে টেস্টে তিনি নয় ইনিংসে আট নম্বরে, ২৮ ইনিংসে নয় নম্বরে, ১৯ ইনিংসে ১০ নম্বরে ও ১০ ইনিংস ১১ নম্বরে ব্যাট করেন। এর মধ্যে তিনটি হাফসেঞ্চুরিও ছিল। রাহুল দ্রাবিড় অধিনায়ক হয়ে বাংলাদেশে বসে একবার আফসোস করে বলেছিলেন, ‘ইশ! মাশরাফির মত একজন অলরাউন্ডার যদি ভারতে থাকতো!’

এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসানও বলেছিলেন, বড় অলরাউন্ডার হওয়ার সকল যোগ্যতাই ছিল মাশরাফির। এখনো মাঝে মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফির ব্যাটিং ঝলক দেখা যায়। একই সাথে বেড়ে যায় সমর্থকদের আক্ষেপ!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।