মাশরাফিকে নিয়ে মিথ্যাচার নয়

আমি মাশরাফির ভক্ত। কেমন ভক্ত সেটার একটা উদাহারণ দেই। ২০১১ বিশ্বকাপের আগে তিনি ইনজুরিতে পড়লেন, বিশ্বকাপ অনিশ্চিত। পত্রিকায় পড়লাম তার লিগামেন্ট সার্জারির জন্য তারই শরীরের একটা অংশ কেটে এনে সেখানে লাগিয়ে সার্জারি করতে হয়। অলরেডি তার এত বার সার্জারি হয়েছে যে যে অংশ থেকে কেটে আনা লাগে, সেটা নাকি আর অবশিষ্ট নাই! আমি মনস্থির করলাম যদি আমার সাথে ম্যাচ করে তাহলে আমি তাকে আমার শরীর থেকে সেই অংশটা দেবো!

২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে আমার প্রিয় খেলোয়াড় হাবিবুল বাশার সুমন ভাইয়ের সাথে দেখা। সেখানে অনেক কথা হলো তার সাথে। তাকে আমার মনের ইচ্ছার কথাটা জানালাম। সে হেসে ফেললো। আমাকে বললো, অন্যের শরীর থেকে বোধহয় নেয়া যায় না! যাই হোক পরে আমার আর দেয়া লাগে নাই, বা লাগলেও মাশরাফি ভাই নিতেন বলে মনে হয় না! তবে আমি সেবার বিশ্ব ইজতেমায় ছিলাম তিন দিন। সারাদিন শুধু তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছি। এই প্রার্থনা অবশ্য কমবেশি সবাই করি আমরা। কিন্তু আমি সেবার শুধু গিয়েছিলামই এটা ভেবে যে আমি গেলে বোধহয় ভাই বিশ্বকাপ খেলবে!

একান্ত ব্যাক্তিগত এই গল্প আমি কখনো বলি নাই। মাশরাফির কত বড় ভক্ত সেটা বোঝাতেও আমি এখন বলছি না। জাষ্ট এজন্য বললাম এরপর আমি যা বলবো সেটা শুনে অনেক মাশরাফির উগ্রপন্হী ভক্ত গালি দিতে পারে!

কাল থেকে আমাদের মিডিয়া (ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অনলাইন বিশেষ করে) খুব ঢালাওভাবে একটা কথা প্রচার করছে, ‘পাঁচ কোটি টাকা দামের রেঞ্জ রোভার না নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিচ্ছেন মাশরাফি!’ ব্যক্তি মাশরাফিকে মহান বানানোর কি সস্তা চেষ্টা! মাশরাফিকে মহান বানাতে তথ্য বিভ্রাটের কি দরকার? এ্যাম্বুলেন্স মাশরাফি বিপিএল শুরুর আগেই বসুন্ধরা গ্রুপের কাছে চেয়ে রেখেছিলেন। সেই কথা অনুযায়ীই টুর্নামেন্ট শেষে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা গ্রুপ নড়াইল ডায়েবেটিস হাসপাতালের জন্য আনুমানিক পঁচিশ লাখ টাকা দামের একটা এ্যাম্বুলেন্স নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের নামে বরাদ্দ করেন। (তথ্যসুত্র :বিডিক্রিকটাইম.কম)। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, রংপুর চ্যাম্পিয়ন না হলেও মাশরাফির চাওয়ার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ অ্যাম্বুলেন্স অবশ্যই দিতেন!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মাশরাফিকে গাড়ি দিচ্ছে -এই মহামূল্যবান তথ্যখানা আমাদের গুটিকয়েক মিডিয়া কই পেলো? মাশরাফি ভাই কোথাও এই কথা বলেছেন? বসুন্ধরা গ্রুপ বলেছে? তাহলে ‘গাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে হাসপাতালের জন্য অ্যাম্বুলেন্স নিচ্ছেন মাশরাফি’ বলে তাকে নতুন করে মহান বানানোর কি দরকার? তাকে মহান বানাতে যেয়ে যে অনুমানভিত্তিক গল্প আমরা ফাঁদি, তাতে মাশরাফি ভাই খুশি হওয়ার চেয়ে বিরক্ত বেশি হন বলেই আমার ধারণা! ব্যাক্তিগতভাবে মাশরাফিকে যারা চেনেন তারা সবাই জানেন, সে কেমন মানুষ! সুতরাং মিথ্যা বলে তার প্রতি ভালোবাসা দেখানোর প্রয়োজন নাই।

এই মহান বানানোর উগ্রবাদী মনোভাবই ‘মাশরাফির সাথে সাকিবের দ্বন্দ্ব’ নামক আষাঢ়ে গল্পও আমাদের সামনে নিয়ে আসে! মহান মাশরাফিকে এক দল উগ্র সাকিবপন্থীরা গালি দেয়, আবার দেশের সেরা খেলোয়াড়টাকে গালি দেয় উগ্র মাশরাফিয়ান না! অথচ আমাদের ক্রিকেট দলের জন্য সাকিবিয়ান মাশরাফিয়ান হওয়ার চেয়েও বেশি হওয়ার কথা ছিলো বাংলাদেশিয়ান!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।