মালাইকা ‘এভারগ্রিন’ অরোরা

‘চাল ছাঁইয়া ছাঁইয়া’ কিংবা ‘মুন্নি বদনাম হুয়ি’ পর্দায় দেখার পর যখন অডিও প্লেয়ারে শুনবেন তখন শাহরুখ সালমান নয়, বরং ছিপছিপে গড়নের শুধু একটা মুখই চোখের সামনে ভেসে ওঠবে, তিনি মালাইকা আরোরা খান। স্বেচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক, তার এ গান দু’টি শোনেনি এমন লোক ভারতীয় উপমহাদেশে খুঁজে না পাওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি। অভিনয়ে বিশেষ কোনো সুবিধা করতে না পারলেও কেবল মাত্র ‘আইটেম সং’ দিয়েই বলিউডে নিজস্ব আসন তৈরী করে নেন! এছাড়া ফ্যাশন আইকন ও টিভি উপস্থাপিকা হিসেবেও ইন্ডাস্ট্রিতে তার একটা আলাদা খ্যাতি রয়েছে।

এমটিভির ভারতীয় ভার্সন চালু হওয়ার পর মালাইকা আরোরা খান ভিডিও জকি বা ভিজে হিসেবে কাজ শুরু করেন। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে অতিদ্রুত তিনি চ্যানেলটির সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আকর্ষণীয় উপস্থাপিকায় পরিণত হন। একই সাথে র‍্যাম্পমডেলিং ও বিজ্ঞাপনেও অভিনয় শুরু করেন।

এরপর ১৯৯৮ সালে কিছুটা আকস্মিকভাবেই শাহরুখের ছবিতে আইটেম কন্যা হিসেবে ডাক পান। ‘দিল সে’ ছবির ‘চল ছাঁইয়া ছাঁইয়া’। গানটি সর্বত্র হিট হয় এবং প্রশংসার জোয়ারে ভাসে। ব্যস, তার আর পেছনে ফেরার দরকার পড়েনি।

কিছুদিন পর অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দেন তিনি। কয়েকটি ছবিতে কম সময়ের জন্য উপস্থিত হলেও ২০০৮ সালে ‘ইএমআই— ইজি মান্থলি ইন্সটেলমেন্ট’ ছবিতে প্রথমবারের মতো বড় চরিত্রে আসেন। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে মোটেও সাফল্য পায়নি, চুড়ান্তভাবে হতাশ করে। ফলে, অভিনয় থেকে নজর সরিয়ে নেন এই আইটেম কন্যা।

২০১০ সালে স্বামী আরবাজ খান প্রযোজিত ‘দাবাঙ’ ছবির আইটেম সং ‘মুন্নি বদনাম হুয়ি’তে সালমান খানের সঙ্গে কোমরের বেশ ভালোই ঝলক দেখিয়েছেন তিনি। দারুণ নাচ আর অসাধারণ এক্সপ্রেশনের অনেক দিন জাদুতে মেতে ছিলো গোটা ভারতবর্ষ।

বলা যায়, মালাইকা অরোরা খান একাই বলিউডের আইটেম গানকে একটা বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছেন, এটা অস্বীকারের আসলে কোনো উপায় নাই।

যাই হোক, আধুনিক বলিউডের শ্রেষ্ঠ ‘আইটেম গার্ল’র আরও উল্লেখযোগ্য আইটেম নাম্বার হচ্ছে— ২০১২ সালের ‘হাউজফুল টু’ ছবির ‘আনারকলি ডিসকো চালি’, ‘ডলি কি ডোলি’ ছবির ‘ফ্যাশন খতম মুঝপে’, ‘কান্তে’ ছবির ‘মাহি বে’, ‘কাল’ ছবির ‘কাল ধামাল’, সানি দেওল আর শিল্পা শেট্টির ‘ইন্ডিয়ান’ ছবির ‘ইয়ে পেয়ার হ্যায় এক নেশা জিন্দেগী কা’, অক্ষয় কুমারের ‘ওয়েলকাম’ ছবির ‘হন্ট রেসিলে’ ও ‘ইএমআই’র ‘চুরি চুরি দেখে মুঝ কো’ ইত্যাদি।

টিভি শো-তেও তার ভালো দক্ষতা রয়েছে। স্টার ওয়ানের ‘নাচ বালিয়ে’ নামের একটি নাচের অনুষ্ঠানে তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন বেশ কিছুদিন। এরপর ‘জারা নাচকে দেখা’ ও ‘ঝলক দেখলা যা’-সহ বেশ কয়েকটি টিভি রিয়েলিটি শো-তেও বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বলিউডের বিখ্যাত প্রযোজক ও সালমান খানের ছোট ভাই ‘আরবাজ খান’-এর সাথে গাঁটছড়া বাঁধেন ১৯৯৮ সালে। আরহান নামে ১৪ বছর বয়সী তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন একসাথে থাকার পর কিছুদিন আগে মালাইকা-আরবাজ প্রায় ১৯ বছরের বিবাহিত জীবনের ইতি টেনেছেন। ‌

তাদের এ বিচ্ছেদের খবরে চমকে গিয়েছিলো গোটা বোম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। ‌যদিও এই ডিভোর্স আটকানোর জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন বড় ভাই সালমান খান। কিন্তু কোনো ফলপ্রসূ হয়নি। ২০১৬ সালের ১১ মে তাদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

ভালো উপস্থাপনা কিংবা আইটেম ড্যান্সের পাশাপাশি একজন আদর্শ মা হিসেবে কোনো অংশে কম যান না মালাইকা আরোরা খান। গুগলে যদি ‘স্টাইলিশ’ বা ‘আদর্শ মম’ লিখে সার্চ দেওয়া হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবে মালাইকার নাম পাওয়া যাবে।

১৯৭৩ সালের ২৩ আগস্ট ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা এই আইটেম কন্যার মা ‘জয়েস পলিকার্প’ মালায়লী ক্যাথলিক, এবং বাবা অনিল অরোরা পাঞ্জাবের অধিবাসী। তার ১১ বছর বয়সে বাবা-মার মাঝে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে তিনি তার মা এবং বোন অমৃতার সাথে চেম্বুরে চলে আসেন। একে একে জীবনের ৪৩ টি বসন্ত পার করে আসলেও নিয়মিত শরীরচর্চা ও যোগাসনে নিজেকে এতটাই ফিট রেখেছেন যে, তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই। সত্যিই তিনি এক চির সবুজ তারকা!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।