নামে মহেশ, কাজে দক্ষিণের প্রিন্স

মহেশ বাবু – ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্রের এক মহারথীর নাম। সুপারস্টার হওয়ার জন্যই যেনো তার জন্ম! আশ্চর্য অভিনয় প্রতিভা আর নিজস্ব ভঙ্গীমা তাকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আইকনে পরিণত করেছে। তেলেগু সিনেমা দেখে অথচ মহেশ বাবুর ভক্ত না কিংবা তাকে চিনে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া আসলেই দুস্কর। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ‘মোস্ট ডিজায়ারেবল ম্যান’ ২০১১ সালে তার অবস্থান ছিলো পঞ্চম, ২০১২ সালে দ্বিতীয়, এবং ২০১৩ তে হৃত্বিক, শাহরুখ, সালমানদের পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানে চলে আসেন দক্ষিণী ফিল্মের এই প্রিন্স।

বাবা কৃষ্ণ ঘাট্টামানেনি নামকরা অভিনেতা হওয়ার সুবাদে রঙিন দুনিয়ায় প্রবেশের মুখে তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি এই সুপারস্টারকে। ১৯৭৯ সালে মাত্র চার বছর বয়সে ‘নিদা’ নামক একটি ছবির মধ্যদিয়ে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। এরপর চাইল্ড আর্টিস্ট হিসেবে একে একে আরও নয়টি সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন।

তবে পূর্ণাঙ্গ নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় ১৯৯৯ সালে। রাঘাবেন্দ্র রাও পরিচালিত ‘রাজা কুমারুডু’ ছবির মাধ্যমে। বক্স অফিসে ছবিটি ওই সময় প্রায় ১১ কোটি রুপি আয় করে ফিল্মবোদ্ধাদের রীতিমতো চমকে দিয়েছিলো। তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে যা ছিলো অভিষিক্ত কোনো নায়কের ছবিতে সর্বোচ্চ কালেকশন। এই সাফল্যটা তার নামের সাথে ‘প্রিন্স’ টাইটেল জুড়ে দেয়।

এছাড়া এই ছবির জন্য তিনি সেরা নবাগত অভিনেতা ক্যাটাগরিতে নন্দি এওয়ার্ডও পেয়ে যান। ২০০০ সালে রিলিজ পায় তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘যুবরাজু’, একই বছর ‘ভামসি’ নামে আরও একটি সিনেমা আসে। ছবি দুটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হলেও ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুরারি’ ছিলো তার ক্যারিয়ারের একটি টার্নিং পয়েন্ট। কৃষ্ণা ভামসির পরিচালনায় এই ছবিটি অভাবনীয় সাফল্য পায়, এবং তাকে স্পেশাল নন্দি জুরি অ্যাওয়ার্ড এনে দেয়।

২০০৩ সালে মুক্তি পায় গুনাশেখরের ব্লকব্লাস্টার হিট ছবি ‘ওক্কাডু’। এতে তিনি একজন তরুণ কাবাডি খেলোয়ারের ভূমিকা প্লে করে দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। ছবিটিকে ওই সময়ের সর্বোচ্চ আয় করা তেলেগু সিনেমা হিসেবে গণ্য হয়।

সেই সাথে পুরো সাউথ ইন্ডিয়াজুড়েও ব্যাপক সাড়া জাগায়। ক্রিটিক ও দর্শকদের দ্বারা সর্বত্র প্রশংসিত হয়। এওয়ার্ডও চমক লাগানোর মতো, এই সিনেমা একাই চারটা ফিল্মফেয়ার, আটটা নন্দি, পাঁচটা সান্তোসাম-সহ আরও বেশ কিছু পুরস্কার জিতে নেয়।

২০০৫ সালে আসে ত্রিভিক্রম শ্রীনিবাসের ‘আতাডু’। ছবিটি তাকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিত করে তুলে। পরের বছর মুক্তি পাওয়া ‘পকিরি’ ছিলো মহেশের ক্যারিয়ারের একটি মাইলফলক। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এটি ছিলো সর্বোচ্চ আয় করা কোনো তেলেগু সিনেমা। দুবাইয়ে সপ্তম আইআইফা অ্যাওয়ার্ডে ছবিটির বিশেষ প্রিমিয়ার শো প্রদর্শিত হয়। এই ব্লকবাস্টার সিনেমাটি তামিল, হিন্দি এবং কানাড়া-সহ বিভিন্ন ভাষায় রিমেক হয়।

এরপর অজ্ঞাত কারণে প্রায় তিন বছর ঝলমলে দুনিয়ার বাইরে থাকেন এই সুপারস্টার! ২০১০ সালে ‘খালেজা’ দিয়ে সিলভার স্ক্রিনে কামব্যাক করলেও ছবিটি ব্যবসায়িক দিক থেকে বেশি একটা সুবিধা করতে পারেনি। তবে, পরের বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ডোকুডু’ বক্স অফিস কালেকশন ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যায়! এটাই প্রথম তেলেগু চলচ্চিত্র যা একই সাথে বিভিন্ন দেশে মুক্তি দেয়া হয়।

তার অভিনীত বক্স অফিসে সাড়া জাগানো আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘বিজনেসম্যান’ ‘শিথামা ভাকিতলো সিরিমাল্লে চেট্টু’ ও ‘নেনোক্কাডিন’। মহেশ বাবু তেলেগু নায়ক হলেও এই সিনেমাগুলো তাকে ধীরে ধীরে পুরো ভারতে জনপ্রিয় করে তুলে, এবং দক্ষিণের কিং হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট তামিল নাড়ুর চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া এই সুপারস্টারের পারিবারিক নাম মহেশ বাবু ঘাট্টামানেনি। পুকারসহ বেশ কয়েকটি বলিউডি সিনেমার অভিনেত্রী নম্রতা শিরোদকারের সাথে দীর্ঘ প্রেমের পর গাঁটছড়া বাঁধেন ২০০৫ সালে। ছেলে গৌতম আর মেয়ে সিতারাকে নিয়ে তার সাজানো সংসার।

সিনেমার মত সংসারের প্রতিও সমান মনোযোগ তাঁর। স্ত্রী নম্রতাই স্বামীর ম্যানেজারের দায়িত্বটা পালন করে যাচ্ছেন। আর এতেই যেন, যত সময় যাচ্ছে, ততই যেন নিজেকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন মহেশ!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।