মহানায়কের তিন নায়িকা

উত্তম কুমার ছিলেন তার যুগের সবচেয়ে আধুনিকদের একজন। বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক তো বটেই। ওই সময়ের তরুণরা চাইতো উত্তম হতে, আর তরুণীরা খুঁজতেন উত্তমের মত কাউকে। মুখে মুখে ঘুরতো তখন তাঁর সাথে সুচিত্রা সেনের জুটির কথা।

আমাদের এখনকার আয়োজনটা উত্তমের জনপ্রিয় সব জুটি নিয়েই। শুধু সুচিত্রাই নয়, ওই কালের ডাক সাইটে বেশ কয়েকজন নায়িকার সাথে পর্দায় দারুণ কেমিস্ট্রি ছিল উত্তমের।

সুচিত্রা সেন

সুচিত্রা সেন এবং উত্তম কুমার – এই দু’জন যেন দু’জনার। এই জুটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অমর জুটি নামে খ্যাত। তাঁরা দু’জন মিলে এক সাথে প্রায় ৩০ টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। বলাই বাহুল্য, প্রায় সবকয়টি ছবিই চুড়ান্ত সাফল্য পেয়েছিল বক্স অফিসে। দর্শকদের নয়নের মণি ছিলেন এই দু’জন।

হারানো সুর, অগ্নী পরীক্ষা, প্রিয় বান্ধবী, শাপমোচন, ইন্দ্রাণী, সপ্তপদী ইত্যাদি ছবি এই জুটি প্রায় ২০ বছর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছিলেন। ওই সময় কলকাতার সিনেমাপাড়ায় গুঞ্জন ছিল যে, পর্দার বাইরেও নাকি দু’জনের মাঝে রোম্যান্টিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সেসব নিয়ে যথেষ্ট জলঘোলাও হয়।

সুপ্রিয়া দেবী

সুচিত্রা সেন ছাড়াও উত্তম কুমারকে ভাবতে পারতো ওই আমলের পরিচালকরা। তাইতো, সুচিত্রার মত প্রায় সমান ভাবেই আলোচিত ছিলেন সুপ্রিয়া দেবী – আরেক কিংবদন্তিতুল্য নায়িকা। সোনার হরিণ থেকে তাদের জুটির এক সাথে পথচলা শুরু। এরপর তারা একে একে উত্তরায়ণ, কাল তুমি আলেয়া, সন্যাসী রাজা, বন পলাশীর পদাবলী, বাঘ বন্দীর খেলা’র মত জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেন।

পরবর্তীতে দু’জনের মধ্যে ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়। স্বামী বিশ্বনাথ চৌধুরীর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হলে তিনি ‍উত্তমের সাথে একই ছাদের নিচেই থাকতেন। যদিও, তাদের কখনো বিয়ে হয়নি।

সিনেমার জগত ছাড়াও বাস্তবেও সুপ্রিয়া দেবীর সাথে উত্তম কুমারের এক গভীর সম্পর্ক ছিল। নিজের স্ত্রী এবং বাড়ি ছেড়ে নিজের জীবনের শেষ সতের বছর তিনি সুপ্রিয়া দেবীর সাথেই কাটিয়েছেন। সুপ্রিয়া দেবীও নিজের স্বামীকে পাকাপাকি ভাবে ছেড়ে উত্তম কুমারের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়

উত্তম সুচিত্রা এবং উত্তম সুপ্রিয়াকে নিয়ে ক্রেজ তখন প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। একদম শেষ দিকে উত্তম কুমারের সাথে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জুটি খুবই জনপ্রিয় হয়। উত্তম কুমার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সাবিত্রীর বেশ ‍সুনাম গেয়েছেন। তার অভিনয়গুনে মুগ্ধ ছিলেন মহানায়ক। হাত বাড়ালেই বন্ধু, দুই ভাই, নিশি পদ্ম, মমের আলো ইত্যাদি সিনেমায় তাদের কেমিস্ট্রি প্রশংসিত হয়েছে।

ধন্যি মেয়ে বা মৌচাকের মত কমেডি ছবিতে সাবিত্রীর সাথে জুটি বেঁধে উত্তম কুমারের কমেডি চরিত্র রীতিমত লেখা হয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। তার সাথে অবশ্য উত্তম কুমারের কোনো অন্তরঙ্গতার খবর আসেনি। তিনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দাবী করেন, ‘উত্তম-সুচিত্রার মধ্যে কখনওই প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।