মরতে বসেছিলেন হৃতিক

‘প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিভা’ – এই তকমা নিয়ে বলিউডে ক্যারিয়ার শুরু করার স্বপ্ন দেখেন প্রত্যেক অভিনয় শিল্পীই। প্রতিবছরই এই রোমাঞ্চকর দুনিয়াতে প্রবেশ করেন এক গাদা অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও অনান্য কলাকুশলী।

খুব কম লোকেরই এই স্বপ্ন পূরণ হয়। যাদের পূরণ হয় তারা ভাগ্যবান। সেদিক থেকে হৃতিক রোশনকে ভাগ্যবানদের তালিকাতেই রাখতে হয়। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তার নামের সাথে প্রতিভাবান তকমাটা লেগে আছে।

পরিচালক ও এক কালের স্বনামধন্য অভিনেতা রাকেশ রোশনের ছেলে বলে কথা। তাঁর শুরুটাও ছিল জম্পেশ। ‘কাহো না … প্যায়ার হ্যায়’ সিনেমাটা সে বার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সবগুলো পুরস্কারই জিতে নিয়েছিল। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া সেই সিনেমার সুবাদে হৃতিকের সাথে তারকা বনে গিয়েছিলেন নবাগত নায়িকা আমিশা প্যাটেলও।

এমন জাকজমকপূর্ণ সূচনা খুব কম তারকার জীবনেই এসেছে। যদিও সেই সিনেমা করতে গিয়েই মরতে বসেছিলেন এই সময়ের প্রতিষ্ঠিত এই অভিনেতা, সেটাও আবার পানিতে ডুবে। সেই দফায়, শুটিং চলাকালে অল্পের জন্য প্রাণ বাঁচে তাঁর।

সিনেমায় দ্বৈত চরিত্রে কাজ করেন হৃতিক। প্রথম অর্ধে তিনি ছিলেন রোহিত মেহরা, দ্বিতীয় অর্ধে তিনি ছিলেন রাজ চোপড়া। সিনেমার গল্প মতে, প্রথম অর্ধের শেষে মৃত্যু হয় রোহিতের। তাঁর মোটর বাইক ব্রিজ থেকে নদীতে পড়ে যায়।

দেখানো হয় যে, রোহিত সাঁতার জানেন না। তাই মৃত্যুকেই বরণ করে নিতে হয় তাঁকে। সম্প্রতি করণ থাপা’র ‘ফেস টু ফেস’ অনুষ্ঠানে এসে হৃতিক জানান সেই দৃশ্যটি করতে গিয়েই অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছিলেন তিনি।

দৃশ্যধারণ করা হয় পানির নিচে। সমতল থেকে সেটা ছিল ৪০-৪৫ ফিট নিচে। হৃতিক জানান ওই দৃশ্যে তিনি কোনো স্টানম্যান ব্যবহার করেননি। তিনি বলেন, ‘ওটা আমিই ছিলাম। ৪৫ ফিট নিচে চলে গিয়েছিলাম। ওখানে প্রায় তিন ঘণ্টা থাকতে হয়েছিল। সেটা ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা। প্রায় ডুবেই গিয়েছিলাম। তবে, ভাগ্য ভাল যে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। সবাই ঠিক ঠাক মত নিজেদের কাজটা করতে পেরেছেন। সিনেমায় দৃশ্যটা দেখতেও ভাল লেগেছিল।’

কাজের প্রতি হৃতিকের নিষ্ঠার পরিচয়টা তার এই অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়। আজো নিজের এই পেশাদারিত্বের জন্য বলিউডে তার সুনাম আছে।

নায়ক হিসেবে হৃতিকে অভিষেক ‘কাহো না… প্যায়ার হ্যা ‘ সিনেমায় হলেও এর আগেই ১৯৮৬ সালে রজনীকান্তের সিনেমা ‘ভগবান দাদা’তে তিনি ছিলেন শিশু চরিত্রে।

– বলিউড বাবল অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।