মধুর সুরে সম্পর্কের মানবিক টানাপোড়েন

আচ্ছা, যদি বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া কোন দুঃখদায়ক ঘটনাকে সম্পূর্ণভাবে ভুলে গিয়ে, কাল্পনিক জগৎকে আঁকড়ে ধরে, নিজের মতো করে সব ঘটনাকে সাজিয়ে নতুন করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা যায় তাহলে কেমন হয়?

প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা বুঝি খুব কঠিন হয়ে গেল, তাই না ? বেশ বেশ সকলের অনুমতি নিয়ে তবে আর একটা প্রশ্ন আমি করছি । ‘মিথ্যা কথা বলা মহাপাপ’ আমরা সকলেই তা জানি, এমনকি স্বয়ং মহাভারতেও বলা আছে যে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ চলাকালীন একটা ছোট্ট মিথ্যা কথা বলার অপরাধে যুধিষ্ঠিরকে সশরীরে শেষে একবার নরক দর্শনও করতে হয়েছিল । কিন্তু কোনও সত্য যদি কেউ সহ্য করার পরিস্থিতিতে না থাকে আর মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সেই পরিস্থিতি থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় তাহলে কি সেটা মহাপাপ?

নাহ্। পরিচালক অতনু ঘোষ ‘ময়ুরাক্ষী’ ছবিতে কোনভাবেই দর্শকদের এই ধরনের প্রশ্ন সরাসরি করেননি । এই ছবিটি অনেকটা সেই সব উপন্যাসের মতো যেখানে লেখক বা লেখিকা পুরোটা বলেননা বরং পাঠকরা পড়া শেষ হওয়ার পর নিজেদেরকেই নিজেরা প্রশ্ন করেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। তাই এই পিতা- পুত্রের ড্রামা ছবিটি দেখার পর আমার মনের মধ্যেও এই দুটি প্রশ্ন উদয় হয়েছিল। নিজের মতো করে গুছিয়ে নিয়ে উত্তরটা ও পেয়ে গেছি।

যাই হোক এইবার আসি অভিনয় প্রসঙ্গে। পিতা সুশোভন রায় চৌধুরীর ভূমিকায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় স্যারের অভিনয় নিয়ে নতুন কি আর বলবো। এক কথায় অসামান্য। পুত্র আর্যনীলের ভূমিকায় প্রসেনজিৎচট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ও খুব সুন্দর। তবে আর্যনীলের ছোটবেলার স্কুলের বান্ধবীর চরিত্রে ইন্দ্রানীদির অভিনয় এই ছবির আর এক দারুণ প্রাপ্তি। বাকিদের অভিনয় ও ভালোই।

ছবির খুঁত যদি কিছু থাকে তাহলে বলবো দ্বিতীয়ার্ধ বেশ টানটান হলেও প্রথমার্ধ খুব ধীরগতির। কিছুক্ষণ দেখার পরে অনেক দর্শক একটু ধৈর্য হারিয়ে ফেলতেই পারেন আর গোটা ছবিটা দেখে একটু অন্ধকারময় পরিবেশ লাগল। অবশ্য সেটা তেমন দোষ দিচ্ছি না সম্ভবত বর্ষাকালে শুটিং হয়েছে হয়ত।

সব শেষে এটুকুই বলবো যে এই ছবির গল্পটা ঠিক এমনি যে যদি আপনি নিজের মতো করে গুছিয়ে তুলতে পারেন তাহলে খুব ভালো লাগবে। আর যদি সেটা না করতে পারেন তাহলে মনে হবে একটা ম্যারমেড়ে ছবি দেখে এলেন। আমার ব্যক্তিগতভাবে কিন্তু ভালো লেগেছে ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।