ভুতুড়ে, আপত্তিকর ও ভয়ংকর প্রেম

আলোর নিচেই থাকে অন্ধকার। বলিউডও তার ব্যতিক্রম। এখানে স্টারডম, খ্যাতি, সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক গাদা না বলা গল্প, অসমাপ্ত-অসুস্থ প্রেমের গল্প।

মান্দানা কারিমি–গৌরব গুপ্ত

ইরানি বংশোদ্ভুত মান্দানা কারিমির বলিউড যাত্রা শুরু হয়েছিল রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’–এর নবম আসরে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। এরপর সেক্স কমেডি ঘরনার ছবি ‘ক্যায়া কুল হ্যায় হাম–থ্রি’তে অভিনয় করে রুপালি পর্দায় মোটামুটি ভালই সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। ক্যামেরার সামনে মান্দানাকে যতটা ঝলমলে দেখায়, ক্যামেরার পিছনে তার ঘর ঠিক ততটাই অন্ধকার। মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানেই বিবাহিত জীবনে নেমে এলো ভাঙ্গনের সুর।

সম্প্রতি স্বামী গৌরব গুপ্ত’র বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ এনে সাবেক এই ‘বিগ বস’ প্রতিযোগী মুম্বাইয়ের আন্ধেরির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, হঠাৎ শ্বশুর বাড়ি থেকে তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং গৌরবও তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। মামলায় ভরণপোষণের জন্য মাসে ১০ লাখ রুপি দাবি করেছেন মান্দানা, একই সাথে তাঁর ক্যারিয়ার ও মানসিক অশান্তির ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ২ কোটি রুপি দাবি করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর প্রেম করার পর গত জানুয়ারিতে সাত পাকে বাঁধা পড়েন মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী গৌরব গুপ্ত ও মান্দানা কারিমি।

২. রতি অগ্নিহোত্রী–অনিল ভিরওয়ানি

আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রতি অগ্নিহোত্রী ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংসার করছেন স্থপতি ব্যবসায়ী অনিল ভিরওয়ানির সঙ্গে। সম্প্রতি স্বামী অনিলের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মুম্বাইয়ের ওরলি থানায় পুলিশি অভিযোগ দায়ের করেছেন ৫৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের প্রথম ২০ বছর সব ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু ২০০৫ সালে ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে অনিল রূঢ় আচরণ করা শুরু করেন। পান থেকে চুন খসলেই রতির গায়ে হাত তুলতেন তিনি। এক সময় আঘাত গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে হয়েছিল ‘এক দুজে কে লিয়ে’ খ্যাত এই তারকাকে।

সালমান খান–সোমি আলি

বলিউডের রঙ্গিন জগতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাই পাড়ি জমিয়েছিলেন পাকিস্তানি কিশোরী সোমি আলি। কিন্তু ১৯৯৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই সালমানের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ প্রেমের বিষয়টি একদমই মেনে নিতে পারেননি সোমির বাবা। কিন্তু এটা কোনো বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

সোমির সঙ্গে সালমানের প্রেম অনেকদিন টিকলেও স্থায়ী হয়ে ওঠেনি। গণমাধ্যমের সামনে সালমানের মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানে আসক্তি, রূঢ় আচরণ ও তার উপর শারীরিক নির্যাতনের কথা ফাঁস করে দিয়েছিলেন সোমি। তিনি আরও জানিয়েছেন, সালমান কোনো এক পার্টিতে সবার সামনে তার মাথায় হঠাৎ এক গ্লাস মদ ঢেলে দিয়েছিলেন! ব্যস, ধীরে ধীরে ভালবাসার সম্পর্কে ঘৃণা এসে ভর করতে থাকে। ফলাফল, ১৯৯৭ সালে সম্পর্ক ভেঙে যায়।

সালমান খান–ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন

১৯৯৯ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালীর ছবি ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ শুটিং সেটেই একে অপরকে মন দিয়ে বসেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও সালমান খান। বরাবরের মতো এ বিশ্বসুন্দরীর সঙ্গেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হন বলিউডের ভাইজান। যথারীতি এই ভাঙনের জন্যও দায়ী করা হয় সালমানের রগচটা স্বভাবকে।

সম্পর্ক থাকাকালীন প্রায় সময়েই পত্রিকায় সালমান কর্তৃক ঐশ্বরিয়ার নির্যাতিত হওয়ার খবর আসতো। একটি ঘটনা উল্লেখ করা যাক, ‘চলতে চলতে’ ছবির সেটে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে অশোভন আচরণ শুরু করলে সালমানকে শান্ত করার চেষ্টা করেন বলিউড কিং শাহরুখ খান। এতে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে শাহরুখের সঙ্গেও বাগবিতণ্ডা শুরু করে দেন সালমান। মূলত সেদিনই শাহরুখ-সালমান বন্ধুত্বে প্রথম চিড় ধরেছিল।

অতঃপর ২০০২ সালে সালমানের সঙ্গে সম্পর্কের চিরতরে বিচ্ছেদ করে দেন ঐশ্বরিয়া। বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সালমান মদ্যপ অবস্থায় এক রাতে হানা দেন ঐশ্বরিয়ার বাড়িতে। ঘরের আসবাব ভাঙচুর করেন এবং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন।

পরবর্তীতে একটি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘সালমান আমার গায়ে হাত পর্যন্ত তুলত। অনেকবার আমাকে মেরেছে। সৌভাগ্যবশত সেইসব মারের দাগ আমার শরীর থেকে মুছে গেছে। সালমানের হাতে নিগৃহীত হয়েও আমি মুখ বুজে আমার অভিনয় চালিয়ে গেছি।’

সঞ্জয় খান–জিনাত আমান

১৯৮০ সালে ‘আবদুল্লাহ’ ছবির সেটে সঞ্জয় খান ও অভিনেত্রী জিনাত আমানের কাছে আসা, অতঃপর প্রেম। অথচ, সঞ্জয় ছিলেন বিবাহিত এবং তার স্ত্রী জেরিন খান ছিলেন গর্ভবতী। ঠিক ওই সময়ই তিনি জিনাতের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। কিন্তু সে সম্পর্ক ভেঙ্গে পড়তে থাকে যখন জিনাত আমান একের পর এক নির্যাতনের শিকার হন। এমনকি মাঝে মাঝে জনসম্মুখেও জিনাতকে মারধর করতেন সঞ্জয়। তাদের এ সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। কিছুদিন পর তাঁদের সম্পর্কের চিরতরে পাঠ চুকে যায়, যখন মুম্বাইয়ের তাজমহল হোটেলে সঞ্জয় ও তার স্ত্রী মিলে জিনাতকে এমন অমানুষিক মারধর করে যে, তাঁর এক চোখ প্রায় অন্ধ হয়ে যায়!

প্রসঙ্গত, ঘটনার কিছুদিন পর টিভি সিরিয়াল ‘সোর্ড অব টার্জান’র শুটিং সেটে আগুন লেগে সঞ্জয়ের শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে যায়। অনেকে ধারণা করেন, এটা জিনাতের অভিশাপের ফল ছিল।

মাজহার খান–জিনাত আমান

বলিউডে জিনাত আমানই সম্ভবত একমাত্র অভিনেত্রী, যিনি নিজ গুণে গুণান্বিত হওয়া সত্ত্বেও ভালবাসার মানুষদের কাছে বারংবার শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। যাই হোক, এই অভিনেত্রী সঞ্জয় খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ১৯৮৫ সালে আবারও ভালবেসে বিয়ে করেন অভিনেতা মাজহার খানকে। কিন্তু এখানে এসেও শারীরিক নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি এই অভিনেত্রী। ফলে, নব্বইয়ের দশকেই আলাদা হয়ে যান তারা।

কঙ্গনা রৌনাত–আদিত্য পাঞ্চোলি

ছেলে সুরাজ পাঞ্চোলির চেয়ে বাবা আদিত্য পাঞ্চোলিও কোন অংশেই কম নয়। বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে এই বাপ-বেটা যে কতবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন, তার হিসেব নাই। ২০০৭ সালে এই বিবাহিত-প্রবীণ অভিনেতার সঙ্গে তরুণী অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে কঙ্গনার সঙ্গে থিতু হওয়ার ঘোষণা দিলেও শারীরিক নির্যাতনের কারণে আদিত্যর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙ্গে দেন এই অভিনেত্রী। পরে গণমাধ্যমের সামনে কঙ্গনা স্বীকার করেন যে, আদিত্য তাকে বিভিন্ন সময় পৈশাচিকভাবে মারধর করতেন!

পুজা ভাট-রণবীর শোরে

সব ঠিকঠাকই চলছিল। ২০০২ সালে এসে প্রেমিক রণবীর শোরে’র সাথে বাজে একটা ঝগড়ায় জড়িয়ে যান পুজা ভাট, এককালের ডাকসাইটে নায়িকা। জানা যায়, মদ খেয়ে মাতাল হয় পুজার গায়েও হাত তোলেন রণবীর। পুজার ভাই রাহুল ভাটও বোনের গায়ের হাত তোলার বদলা নেন। রণবীরকে পেটানোর সাথে সাথে তার গাড়িও ভাঙচুর করেন। পরে পুজা বলেন, রণবীর এমনিতে ভাল মানুষ ছিলেন, কিন্তু একবার মাতাল হলে নিজেকে ঠিক রাখতে পারতেন না।

– মিড ডে অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।