ভীমতেজি এক ব্যঘ্রশাবকের বীরত্ব

সৈয়দপুর বিমানঘাঁটি। পাকিস্তানি সৈন্যদের জন্য রসদবোঝাই করে বিমান আসে এখানে। রসদ মানে অস্ত্র, গুলি, খাবার। প্রায় দুমাস যাবত বিমানঘাটি ও পাকি সৈন্যদের ওপর নজর রেখে চলেছে মুক্তিসেনাদের একটি দল। মুক্তি কমান্ডারের মাথায় একটাই চিন্তা, পাকবাহিনীর রসদ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু এত বড় বিমান, কি করে কি করবেন সেটাই বুঝতে পারছেন না।

মেশিনগান রাইফেলের ক্ষমতার বাইরে, দরকার এ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান। কিন্তু খাল ঘেরা বিমানঘাটি পর্যন্ত সেটা আনাও অসম্ভব। ভেবে ভেবে কুলকিনারাই হচ্ছিল না।

আবদুল হক, ক্যাম্পের ফুট ফরমাশ খাটত যে, বার তের বয়স অথচ যুদ্ধে যেতে মরিয়া ছিল, দুম করে বলে বসল- স্যার, মর্টার দিয়া ফালান যায় না?

কমান্ডার বললেন, খালের মধ্যে মর্টার কিভাবে বসাবি?

-নাওয়ে বসামু! -আবদুল হকের তরিৎ জবাব।

কমান্ডার দ্বিধা করেও অনুমতি দিলেন। আর যায় কোথা, হিসেবমত বিমান আসবার দিনে আবদুল হক’রা কোষা নৌকায় মর্টার নেয়। সাপোর্ট হিসেবে রাইফেল আর মেশিনগান নিয়ে খালপাড়ে অবস্থান নেয় আরো কিছু মুক্তিসেনা।

রসদবাহী বিমান নামছে, রেঞ্জে পাওয়ামাত্র মর্টার দাগে আবদুল হক, নিখুঁত নিশানা। বিমানের ডানায় আঘাত হানে গোলা, আগুন ধরে যায়। আর খালপাড়ের অবস্থান থেকে চলে বৃষ্টির মত গুলি। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। পাকবাহিনীর অসহায় চোখের সামনেই পুড়ে ছাই তাদের রসদ।

ও হ্যাঁ, মর্টার এর রিকয়েল এর ধাক্কায় নৌকা গেছিল উল্টে, আবদুল হক ও তার সঙ্গীরা পড়ে যান পানিতে!

যুদ্ধের বাকি কটা মাসে আর কোন বিমান নামেনি ওখানে। পাকবাহিনী তল্পি-তল্পা গোটাতে বাধ্য হয়। আর এসব হয়েছিল বারো বছরের ভীমতেজি এক ব্যঘ্রশাবকের বীরত্বে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।