ভিলিয়ার্সের টেষ্ট ক্যারিয়ারের পরিসমাপ্তি?

২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ আফিকার হয়ে খেলে ফেলেছেন ১০৬ টি টেষ্ট, যা দেশের পক্ষে এখন পর্যন্ত পঞ্চম সর্বাধিক ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ সর্বাধিক রান, চতুর্থ সর্বাধিক সেঞ্চুরি, দ্বিতীয় সর্বাধিক হাফ সেঞ্চুরি; ৭৯ তম ইনিংসে এসে প্রথম শুন্য, এরকম অনেক রেকর্ডের সাথে জড়িয়ে আছে তার নাম।

বলা হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার সুপারম্যান আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্সের কথা! ক্রিকেটের ব্যাকরনের বাহিরে মাঠের সব দিকেই শট খেলতে সিদ্ধহস্ত এবি ডি ভিলিয়ার্স। ২২ গজের ক্রিজে অসম্ভবকে সম্ভব করে অবিশ্বাস্য ফর্ম, দারুণ সব উদ্ভাবনী শটের কারণেই তো এবি ডি ভিলিয়ার্সকে সুপারম্যান বলা হয়।

গত একযুগ ধরে টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ এবি ডি ভিলিয়ার্স। ব্যাটিং, উইকেটকিপিং অথবা ফিল্ডিং- সর্বক্ষেত্রেই নিজেকে উজাড় করে দেয়া এক নাম। দেশের হয়ে খেলা ১০৬ টি টেষ্টে ৫০.৪৬ গড়ে রান ৮০৭৪, সেঞ্চুরি ২১ টি আর হাফ সেঞ্চুরি ৩৯টি। টেষ্ট আর ওয়ানডে, দুই ধরনের ক্রিকেটেই তার গড় ৫০ এর ওপরে!

দলের যেখানে প্রয়োজন সেখানেই নিজেকে উজাড় করে দেয়ায় তার জুড়ি মেলা ভার। টানা ১১ বছর একটি টেষ্ট ম্যাচ মিস না করে খেলেছেন দেশের হয়ে। দেশের হয়ে খেলে ফেলেছেন ১০৬ টি টেষ্ট, ২২২ টি ওয়ানডে এবং ৭৬ টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ। খেলেছেন দেশের হয়ে তিনটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, যেখনে কাপ ছোঁয়ার স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

এই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের কারনেই টেষ্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলার প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ফেলেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ৩৩ বছর বয়সী এবি ডি ভিলিয়ার্স ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে খেলার মত ফিট থাকার জন্য টেষ্ট ক্রিকেট ছাড়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।

নিজের সর্বশেষ টেষ্ট খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত জানুয়ারিতে। চার টেষ্টের সিরিজে এবি ডি ভিলিয়ার্সের সংগ্রহ এক হাফ সেঞ্চুরির সাহায্যে ২১০ রান, যা তার নামের সাথে একেবারেই বেমানান। দক্ষিণ আফ্রিকার পরবর্তী চারটি টেস্ট সিরিজ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ছাড়াই ফাফ ডু ফ্লেসিসের অধিনায়কত্বে খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

গত একযুগ যাবত দক্ষিন আফ্রিকার ক্রিকেটের সদা হাস্যোজ্জ্বল এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ছাড়া দল কল্পনা করা ভক্তদের জন্য কঠিন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনা বলে দেয় সাদা পোশাকে আর হয়ত কখনো দেখা যাবে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানকে। সম্ভবত বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের পূর্বেই চূড়ান্ত ঘোষনা দিবেন তিনি।

সম্প্রতি শেষ চার টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে ডু প্লেসিস বলেছেন, ‘আমি এবিকে খেলতে দেখতে পছন্দ করি – আমরা সবাই জানি যে তিনি কতটা ভাল খেলোয়াড়  এবং আমরা তাকে মিস করছি, কিন্তু আমরা অনেক বেশি সময় ব্যয় করেছি তার ফিরে আসার জন্য। আমাদেরকে তার ভূমিকা পালন করার জন্য অন্য কেউ খুঁজতে হবে। যদি এবি ফিরে আসে তবে এটি একটি বিশাল বোনাস, কিন্তু আমি তাকে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে আসার আশা করি না।’

দক্ষিন আফ্রিকার হয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে আর ফিরে না আসলে সম্ভবত সবচেয়ে বড় ক্ষতি দক্ষিণ আফ্রিকারই হবে। তবে ডি ভিলিয়ার্সের স্বপ্নের বিশ্বকাপ জয়ের বাসনা পূরণ তিনি করতে পারবেন কিনা তা সময়ই বলে দিবে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।