‘ভাল থেকো’ কি আদৌ ভাল রাখল?

‘ভাল থেকো’ নব্বই পরবর্তী সময় থেকে গত দশকের মাঝমাঝি সময়ের বানিজ্যিক রোমান্টিক ছবি গুলোর ফ্লেভারে নির্মিত। অনেকটা শাবনূর-রিয়াজ কিংবা শাবনূর-শাকিব খান জুটির ছবি গুলোর মত।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সে সব ছবিতে যেখানে শাবনূর-রিয়াজ কিংবা শাবনূর-শাকিবের অভিনয় এবং রসায়ন হল মাতিয়ে রাখতো সেখানে এ ছবিতে আরিফিন-শুভ আর তানহা তাসনিয়ার হাসির অভিনয়ে কান্না পায় আর কান্নার অভিনয়ে দর্শক হাততালি দিয়ে হাসে। আরিফিন শুভ এ ধরনের টিপিক্যাল লাভার বয় চরিত্রে কতটা বেমানান, কতটা অসহ্য তা ‘ভাল থেকো’ না দেখলে বুঝতে পারতাম না।

তাঁর অভিনয় দেখে মনে হচ্ছে তাকে চেপে ধরে যাত্রাপালার মঞ্চে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিনয়ে সে খুবই বিরক্তিকর এটা যেমন সত্য তেমনি আরো বড় সত্য হচ্ছে এমন লম্বা চওড়া পরিনত বয়স্ক যুবকের যে লুক তার সেটা কোন মতেই এ ধরনের টিপিক্যাল লাভার বয় চরিত্রে যায় না।

তাঁর শুভাকাঙ্খী হিসেবে পরামর্শ থাকবে দয়া করে বেকার থাকুন তবু এ ধরনের চরিত্র না। আপনি আরিফিন শুভই থাকুন, শাকিব খান হতে গিয়ে দর্শকদের বিরক্তের কারণ হবেন না।

তানহা তাসনিয়া যাত্রা পালার নায়িকার মতই অভিনয় করেছেন। নতুন অভিনেত্রী তাই তার সমালোচনা করলাম না। তাকে দেখতে খারাপ লাগেনি। চেষ্টা করলে হয়তো অভিনয়টা একদিন শিখবে। কাজী হায়াত আর বাকি সবাই অভিনয়ে কমপ্লিটলি ফ্লপ। তবে অরুনা বিশ্বাস মোটামুটি ভাল করেছে।

এমন বাজে অভিনয়ের মাঝেও একমাত্র স্বস্তির নিঃস্বাস আসিফ ইমরোজ। ছেলেটা চেহারায় যতটা সুন্দর অভিনয়ে তার চেয়েও অনেক ভাল। তার চরিত্র খুব একটা শক্তিশালী না তারপরও সে তার ন্যাচারাল অভিনয় দিয়ে চরম হতাশার মাঝে স্বস্তির নিঃস্বাস হয়ে এসেছে। মূলত আসিফ ইমরোজ পর্দায় আসার পরই ছবি কিছুটা জমেছে।

একজন ভাল অভিনেতা তার চরিত্রকে বুঝেন, বুঝেন অভিনয়ের পরিমিতিবোধ। আসিফ ইমরোজ তার প্রত্যেকটা দৃশ্যে এক্সপ্রেশন থেকে ডায়লগ ডেলিভারি সবকিছুতে রুচি এবং পরিমিতিবোধের স্পস্ট ছাপ রেখেছেন। অভিনয় যদি একটি শিল্প হয় তো আমি বলবো ইমরোজ নিঃসন্দেহে একজন ভাল শিল্পী।

আরিফিন শুভর চরিত্রে আসিফ ইমরোজ হলে এই ছবি তার অভিনয় দিয়েই জমিয়ে ফেলতে পারতো। শুভর চরিত্রে সেই স্পেসটা ছিলো। যেখানে সে পুরোপুরি ব্যার্থ হয়েছে। আর শুভর এই ব্যর্থতাই ভাল থেকোর জন্য ভারী পড়েছে।

জাকির হোসেন রাজু নির্মাতা হিসেবে বরাবরই মধ্যম মানের। তার কাজ না হয় ভাল, না হয় খারাপ। কোন রকম চলে আর কি। তবে তার গল্প সিলিকশন ভাল। ভাল থেকোর গল্প বানিজ্যিক রোমান্টিক সিনেমা্র গল্প হিসেবে খারাপ না। কিন্তু গল্প যত ভাল হোক, গল্প বলার ধরন অর্থাৎ চিত্রনাট্য ভাল না হলে গল্প প্রান পায় না।

বর্তমানে বাংলা ছবিতে চিত্রনাট্যের সংকট ভয়াবহ। দ্বিতীয় শ্রেনীর বাচ্চাও এর চেয়ে ভাল চিত্রনাট্য লিখতে পারে। বাংলা সিনেমার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সমস্যা হচ্ছে চিত্রনাট্যের এই বেহাল দশা।

যাইহোক, সবমিলিয়ে ভাল থেকোর প্রথম অর্ধেক আরিফিন শুভর বিরক্তিকর যাত্রাপালা হলেও দ্বিতীয় অর্ধেকে আসিফ ইমরোজ এসে ছবির গল্পে কিছুটা হলেও সিনেম্যাটিক ফিল দিয়েছে। বেশীর ভাগ বাংলা ছবি যেখানে দ্বিতীয়ার্ধে ঝুলে যায় সেখানে এ ছবি দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা হলেও জমেছে। ইনফ্যাক্ট ছবির শেষটাও খারাপ হয়নি।

ফলে আমি মনে করি শেষ পর্যন্ত এটা যতটা খারাপ হওয়ার কথা ছিলো ততোটা হয়নি। ছবির গল্পের দ্বিতীয়ার্ধ, ক্লাইম্যাক্স এবং আসিফ ইমরোজ ছবিটিকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ছবিটি আরো অনেক ভাল হতো পারতো যদি লিড রোলে আরিফিন শুভ এবং তানহা তাসনিয়ার জায়গায় অন্য কেউ থাকতো। না তারা ভাল অভিনয় করেছে না আছে তাদের মধ্যে ছিল কোনো রসায়ন।

আমি ছবিটিকে দিচ্ছি ২* অর্থাৎ ৪০% মার্কস বা গ্রেড – টেনেটুনে পাস!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।