বলিউড ও রোম্যান্স: একটি ভালবাসার গল্প

বলিউডে সেলুলয়েডের ফ্রেমে বাধা পড়েছে দারুণ সব ভালোবাসার সিনেমা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম দর্শকদের মন জয় করে সিনেমাগুলো স্থান করে নিয়েছে কালজয়ী অ্যালবামে। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে বলিউডের অন্যতম সেরা দশ রোম্যান্টি সিনেমা নিয়ে আমাদের এই বিশেষ আয়োজন।

  • দেবদাস (১৯৫৫)

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর প্রেমের উপন্যাস অবলম্বনে বিমল করের সিনেমা দেবদাস, এই ছবিতে নাম ভূমিকায় দিলীপ কুমারের অভিনয় কালজয়ী হয়ে আছে, পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন। আরেক স্বনামখ্যাত অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালা করেছেন চন্দ্রমুখী চরিত্রটি। বেশ কয়েকটি শাখায় ফিল্মফেয়ার জিতে নিয়ে ছবিটি।

  • মুঘল-ই-আজম (১৯৬০)

পাঁচ যুগ পেরিয়ে গেছে, তার পরও এখনো অম্লান মুঘল-ই-আজম। শুধু সেরা প্রেমের ছবি হিসেবে নয়, বলিউড ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ছবির নাম নিলেও এ ছবিকে অগ্রাহ্য করা যাবে না। ১৯৬০ সালে মুক্তি পেয়েছিল পরিচালককে আসিফের একমাত্র সার্থক এই সৃষ্টি। মোগল সম্রাট আকবর-পুত্র সেলিমের সঙ্গে সাধারণ নর্তকী আনারকলির প্রেমকাহিনি নিয়ে নির্মিত এই ছবির অসাধারণ সেট, ধ্রুপদি নৃত্য, হূদয় ছুঁয়ে যাওয়া গানগুলো আজও প্রযোজক-পরিচালক থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শকদের সমানভাবে দোলা দেয়। ক্ল্যাসিক এই লাভস্টোরিতে অভিনয় করেছিলেন পৃথ্বিরাজ কাপুর, দিলীপ কুমার, মধুবালা।

  • সিলসিলা (১৯৮১)

প্রেম এবং পরকীয়া নিয়ে সিলসিলা ছবিটি নির্মাণ করে হিন্দি ছবির জগতে রীতিমতো আলোড়ন তুলেছিলেন প্রযোজক-পরিচালক যশ চোপড়া। অমিতাভ-রেখার প্রেমময় সম্পর্ক নিয়ে তখনবাস্তবে বেশ গুঞ্জন চলছিল। রেখার কারণে অমিতাভ-জয়ার দাম্পত্য জীবনে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। যশ চোপড়া ঠিক সেই সময়ে ত্রিভুজ সম্পর্কের অদ্ভুত এক প্রেমের গল্প নিয়ে সিলসিলা ছবিটি নির্মাণ করেন।

  • কেয়ামত সে কেয়ামত তক (১৯৮৮)

বলিউডের ইতিহাসে তুমুল সাড়া জাগানো সিনেমা আমির খান ও জুহি চাওলা অভিনীত কেয়ামত সে কেয়ামত তক। এই ছবি দিয়েই রাতারাতি তারকা হয়ে যান আমির খান। মনসুর খান পরিচালিত এ ছবিতে সেই সময়ের সম্পূর্ণ নতুন মুখের নায়ক-নায়িকা আমির খান ও জুহি চাওলা তাঁদের ‘ফ্রেশ লুক’ এবং চমৎকার সাবলীল রোমান্টিক অভিনয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবেই সবার হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন।

  • ম্যায়নে পেয়ার কিয়া (১৯৮৯)

ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে তৎকালীন সময়য়ে অন্যতম সেরা সিনেমা হিসেবে বিবেচিত ম্যায়নে পেয়ার কিয়া, গানগুলিও জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, বিশেষ করে ‘কবুতর যা যা’ এখনো সমান জনপ্রিয়। মিষ্টি প্রেমের কাহিনী নিয়ে নতুন মুখ সালমান খান ও ভাগ্যশ্রী অভিনীত এই ছবিটি মাইলফলক হয়ে আছে। সালমানের ক্যারিয়ারের যে শুভ সূচনা হয়েছিল, তা আজো চলমান।

  • দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে (১৯৯৫)

আদিত্য চোপড়া পরিচালিত এ ছবিতে শাহরুখ খান ও কাজলের মিষ্টি প্রেমের অভিনয় ছবিটিকে চির অমর করে রেখেছে। এ ছবির শেষ দৃশ্যে রেলস্টেশনে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার সময় কাজল আর শাহরুখের দৃশ্যটিকে বিবেচনা করা হয় বলিউডের সর্বকালের অন্যতম সেরা রোমান্টিক দৃশ্য হিসেবে। মিষ্টি প্রেমের গানগুলো আজো সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। ছবিটি ১০ টি শাখায় ফিল্মফেয়ার জিতে নেয়।

  • কুছ কুছ হোতা হ্যায় (১৯৯৮)

ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনি নিয়ে নির্মিত ছবিটিতে শাহরুখ খান ছাড়াও অভিনয় করেছেন কাজল ও রানী মুখার্জী। বিশেষ একটি চরিত্রে ছিলেন সালমান খান। অল্প বয়সী নির্মাতা করন জোহর প্রথম ছবিতেই সাফল্যের চমক দেখিয়ে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচালক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এই ছবির মাধ্যমে। সুপার হিট গানের এই ছবিটি জাতীয় পুরস্কার ও জিতে নেয়।

  • হাম দিল দে চুকে সানাম (১৯৯৯)

স্বনামখ্যাত নির্মাতা সঞ্জয়লীলা বানসালির হাম দিল দে চুকে সনম ছবিটি ছিল ঐ বছরের অন্যতম সেরা সিনেমা। অভিনয়-প্রতিভা দিয়ে ঐশ্বরিয়া বলিউডকে নিজের জাত চেনান এই ছবি দিয়েই। সালমান খান, ঐশ্বরিয়া রাই ও অজয় দেবগণ অভিনীত এ ছবির নির্মাণেও ছিল মুন্সিয়ানা। গানগুলি আজো সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।

  • বীর-জারা (২০০৪)

ভারতীয় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা বীর প্রতাপ সিং আর পাকিস্তানি তরুণী জারা হায়াত খানের হৃদয় ছোঁয়া প্রেমের গল্প বীরজারা। সীমান্ত পেরোনো প্রেমের একটা আলাদা আবেদন নিয়ে নির্মিত যশ চোপড়ার এই ছবিতে ছিলেন শাহরুখ খান ও প্রীতি জিনতা,এছাড়া রানী মূখ্যার্জী ছিলেন অন্যতম চরিত্রে। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটির জন্য যশ চোপড়া পান জাতীয় পুরস্কার, সিনেমাটিও জায়গা করে নিয়েছে দর্শকদের হৃদয়ে।

  • জাব উই মেট (২০০৭)

বিষন্ন এক ব্যবসায়ীর জীবনই পাল্টে গেল যখন তার সঙ্গে প্রাণোচ্ছ্বল এক মেয়ের দেখা হলো। দেখা থেকে বন্ধুত্ব এবং প্রেম। ইমতিয়াজ আলী পরিচালিত বলিউডে সাড়া জাগানো ছবি ‘জাব উই মেট’-এর মূল চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন শহীদ কাপুর ও কারিনা কাপুর। এই ছবিতে গান গেয়ে জাতীয় পুরস্কার পান শ্রেয়া ঘোষাল।

  • অক্টোবর (২০১৮)

‘অক্টোবর’ মাস শিউলি ফুল ফোটার মাস।শিউল ফুল ক্ষণস্থায়ী,অল্পতেই ঝড়ে যায় ।কিন্তু রেখে যায় সুশোভিত সুবাস, যা ভালোবাসার রঙে চেতনাদৃপ্ত। শিউলি ফুল হয়ে অক্টোবর মাস বার বার ফিরে আসে অপেক্ষারত ভালোবাসার মানুষদের কাছে। ‘অক্টোবর’ সিনেমার গল্প এই শিউলি ফুল আর অক্টোবর মাস কে ঘিরেই। সিনেমার নায়িকা শিউলি, আর তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ড্যান। সুজিত সরকারের এই ছবি দিয়ে অনেকদিন পর ভালোবাসার সিনেমা হিসেবে মন ছুঁয়ে গেছে। প্রেমিক- প্রেমিকার কোনো বাহুল্যতা নেই, আছে আস্থা আর বিশ্বাস। সুজিত সরকার তাঁর গল্প বলার স্টাইলে ছবিটাকে অন্যমাত্রায় নিয়ে গেছেন। অভিনয়ে বরুন ধাওয়ান নিজেকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন শিউলি ফুল ঝরে যায়, কিন্তু ড্যানের ভালোবাসা চিরতরে থেকে যায়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।