বয়স ১১ বছর, পেশায় পত্রিকার সম্পাদক!

একবার ভাবুন তো, ১০-১১ বছর বয়সে আপনি কি করতেন? দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাদের নামও কি ঠিকঠাক বলতে পারতেন? যে যুগ হয়েছে বাসি।

চলুন এবার, হিলডে কেট লিসিয়্যাকের সাথে পরিচিত হওয়া যাক। তার বয়স মাত্র ১১ বছর। তিনি খুব সুপরিচিত সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক ও পেনিসিলভানিয়ার সেলিন্সগ্রোভের ‘ওরেঞ্জ স্ট্রিট নিউজ’ নামের একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক।

এই বয়সেই তিনি মাদকাশক্তি, নির্যাতন, স্থানীয় খুন ও সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর খবর সংগ্রহ করে দুর্দান্ত সব রিপোর্ট লেখেন। মূলত বাবার অনুপ্রেরণাতেই এই পেশায় আগমন লিসিয়্যাকের। বাবা হলেন লেখক ও নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদক।

ওরেঞ্জ স্ট্রিট নিউজ যাত্রা শুরু করে ২০১৪ সালে। পত্রিকাটিতে সম্পাদক ছাড়া আছে আরো একজন বেতনভুক্ত কর্মী। তিনি হলেন লিসিয়্যাকের বড় বোন। তিনি ওয়েবসাইটটির দেখভালের সাথে সাথে ভিডিও সংগ্রহের কাজ করেন। তাকে প্রতিসপ্তাহে ২৫ ডলার করে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

সাংবাদিকতার নীতিমালার ক্ষেত্রে বেশ সচেতন লিসিয়্যাক। সব সময়ই ‘ফাইভ ডব্লিউ ওয়ান এইচ’ নীতি মানে ‘কে, কি, কখন, কোথায়, কেন ও কিভাবে’তে বিশ্বাস করেন তিনি।

যদিও, তিনি এখন অনেক উৎসাহ পাচ্ছেন, তবে তার এই যাত্রাটা সহজ ছিল না। মাত্র নয় বছর বয়সেই ক্রাইম রিপোর্টিং করে বেড়ানো মেয়েটির জন্য এই পেশাটা ঝুঁকিপূর্ণ – এমন মন্তব্য অনেকেই করেছিলেন।

তবে, সকল ঝুঁকি সকল কানকথাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এগিয়ে চলেছেন লিসিয়্যাক। একই সাথে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে নিতে অপরাধ ও তদন্তের ব্যাপারে করছেন পড়াশোনা।

নিজের মত কাগজে রঙ করে যাওয়ার বয়সে মেয়েটির হাতে এখন সাংবাদিকের প্যাড-কলম, করে চলেছেন অপরাধের সন্ধান, নিজের একটা পুরোদস্তর অনলাইন পত্রিকা দিব্যি সামলে নিচ্ছেন, কখনো সাংবাদিকদের কোনো সেমিনারে গণ্যমান্যদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন। রীতিমত অভাবনীয় এক ব্যাপার!

বিয়িং ইন্ডিয়ান ও দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।