‘বড় দল’ এভাবেই জেতে!

প্রথম ওভারেই ইতিহাস। কমেন্ট্রি বক্স থেকে বলতে শোনা গেল, এর আগে কখনোই ওয়ানডেতে ইনিংসের প্রথম ওভার জোড়া আঘাত হানেনি বাংলাদেশ। এবার পারলেন সাকিব আল হাসান।  দুই রান তুলতে না তুলতেই সাজঘরে সলোমন মিরে ও ক্রেইগ আরভিন। তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে শুরুটা এমনই হওয়া উচিৎ ‘বড় দলের’।

এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ৩০ রানে তৃতীয়, ৫১ রানে চতুর্থ ও ৮১ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন হয়। এরপর পিটার মুরকে সাথে নিয়ে ক’দিন আগেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) খেলে যাওয়া সিকান্দার রাজা ৫০ রানের একটা জুটি গড়ে স্কোরটাকে অন্তত ২০০-এর ওপরে নিয়ে যাওয়ার একটা চেষ্টা করেছিলেন।

রাজা হাফ সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেও ২০০-এর ওপর যায়নি জিম্বাবুয়ের স্কোর। নিজেদের মাঠ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পূর্ণ সুবিধা নিয়ে বারবারই বোলিং দিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছে বাংলাদেশ। তুলনামূলক দূর্বল দল পেলে ‘বড় দল’ গুলো যা করে আর কি!

আগে দেখা যেত, বাংলাদেশ দলের গলার কাটা হয়ে টিকে যেতেন টেল এন্ডাররা। এবার আর সেটা হয়নি। মাত্র ১০ রানের মধ্যে শেষ চারটা উইকেটের পতন ঘটেছে। রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমানের পেসের তোপে দাঁড়াতেই পারেনি জিম্বাবুয়ের লেজ। এক ওভার বাকি থাকতে মাত্র ১৭০-এই শেষ জিম্বাবুয়ে। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছিলেন রুবেল। র‌্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে ‘বড় দল’-এর পেসারদের তো এমনই দাপট দেখানোর কথা।

হ্যাটট্রিক না হলেও অবশ্য একটা কীর্তি ঠিকই গড়ে ফেলেছেন রুবেল। পঞ্চম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন রুবেল। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, ও তিন বাঁ-হাতি স্পিনার – সাকিব আল হাসান, আব্দুর রাজ্জাক ও মোহাম্মদ রফিক।

এবার ব্যাটিংয়ের প্রসঙ্গে আসা যাক। ফেরাটা ঝড় দিয়ে করতে চেয়েছিলেন এনামুল হক বিজয়। তার চারটি বাউন্ডারি তেমন একটা কিছুরই আভাস দিচ্ছিল। যদিও ১৪ বলে ১৯ রান করার পর তিনি আর এগোতে পারেননি। ৩০ রানে প্রথম উইকেটের পতনের পর ৭৮ রানের জুটি গড়েন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। জুটির সময়কাল ১৫ ওভার।

এমন না যে তারা খুব মারমার-কাটকাট ব্যাটিং করেছেন। আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে যেমন দেখা যায়, বাজে বলকে বাউন্ডারিতে পাঠানো, স্ট্রাইক রোটেট করে খেলা – সবটাই ছিল এই দু’জনের জুটিতে। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের মত ছোট দল বলেই এসব ছোটখাটো ইস্যুতে নিখুঁত থাকা রীতিমত প্রেস্টিজ ইস্যু।

ব্যক্তিগত ৩৭ রানে সাজঘরে ফেরেন সাকিব আল হাসান। বাকিটা সময়ে কোনো বিপদ আসতে দেননি তামিম ও মুশফিকুর রহিম। ৯৩ বল ৮৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। ২১.৩ ওভার বাকি থাকতে আসে আট উইকেটের বড় জয়।

হ্যা, ‘বড় দল’ তুলনামূলক ছোট দলের বিপক্ষে এভাবেই জেতে!

 

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।