ব্রুস লির অকালপ্রয়াণের অন্তরালে

কুং-ফু, তায়েকোন্দো, কারাতে – এসবের মধ্যে পার্থক্য আমরা ক’জনই বা জানি। অথচ, ব্রুস লি আর তার ট্রেড মার্ক চিৎকারের সাথে আমরা কম বেশি সবাই খুব পরিচিত। ব্রুস লি যে জমানার মানুষ তখন ইউটিউব না থাকলেও কেবল অপারেটরদের কারণে এই উপমহাদেশেও তিনি ছিলেন বেশ পরিচিত নাম।

চাক নরিসের সাথে তার আইকনিক ফাইট লোকেরা গোগ্রাসে গিলতো। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো কখন ব্রুস লি শেষ বারের মত একটা ঘুষি দিয়ে ঘায়েল করবেন কোনো প্রবল প্রতিপক্ষকে।

মার্শাল আর্ট অ্যাকশনে আজ অবধি ব্রুস লি’কে কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। যদিও, ব্রুস লি তার আসল নাম নয়। তার নাম লি জুন-ফ্যান। মার্শাল আর্টে দক্ষতার সাথে সাথে লি খুব প্রতিভাবান একজন কবি ছিলেন।

বিখ্যাত এক ঘুষিতে কোনো এক প্রতিপক্ষকে আটকে ফেলার পর তার এমন নামকরণ হয়েছিল। ১৯৬৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে আন্তর্জাতিক কারাটে টুর্নামেন্টে অংশ নেন তিনি। এরপরই খুব অল্প সময়ের জন্য সফল এক সময় কাটান রূপালি পর্দায়।

সব ঠিক ঠাক মতই চলছিল। ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই মাত্র ৩২ বছর বয়সে রহস্যময় এক মৃত্যুকে বরণ করে নেন তিনি। তখন গুঞ্জন উঠেছিল অজানা এক কারণে চীনা মাফিয়া সংগঠন ‘ট্রায়াড’ তাকে মেরে ফেলেছে।

যদিও, আসল ব্যাপারটা তেমন নয়। ব্রুস লি’র মৃত্যু হয় ‘সেরেব্রাল এডেমা’ নামক এক রোগে। এটা মস্তিস্কের একটা রোগ, এই রোগে মাঝেমধ্যে স্বাভাবিক নি:শ্বাস নিতেও খুব কষ্ট হয়। অকস্মাৎ আক্রমণে মানুষ তখন পাগলাটে আচরণ করে। ব্রুস লির ক্ষেত্রেও তাই ঘটতো। এমনকি বেশ কয়েকবার শ্যুটিং চলাকালেই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

যেদিন ব্রুস লি’র মিটিং হয় সেদিন গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং করেছিলেন তিনি। হংকংয়ে তার পরবর্তী সিনেমা ‘গেম অব ডেথ’-এর জন্য আলাপ করে এসেছিলেন পরিচালক রেমন্ড চো-এর সাথে।

মিটিংটা হয় আনুমানিক বিকাল চারটায়। সেখান থেকে ফিরে সন্ধ্যায় প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা অনুভব করেন লি। লি’র বান্ধবী ও সমসাময়িক অভিনেত্রী বেটি টিং পেই তাকে অ্যাসপিরিন ও মেপ্রোব্যামাটি ওষুধ মিলিয়ে খাওয়ান।

সেই সন্ধ্যাতেই জেমস বন্ড অভিনেতা জর্জ ল্যাজেনবাইয়ের সাথে ডিনার করার কথা ছিল ব্রুস লি’র। ‍দু’জনে মিলে একটা সিনেমা করার কথা ভাবছিলেন। তবে, সেই ডিনারে আর যাওয়া হয়নি ব্রুস লি’র।

বাড়িতেই প্রাথমিক ভাবে ডাক্তার ডাকা হয়। সেখান থেকে ওই ডাক্তারই তাকে কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই ব্রুস লি’র মৃত্যু হয়। পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে দেখা যায় অ্যাসপিরিন ও মেপ্রোব্যামাটি – এই দু’টি ওষুধের অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশনের কারণে তার মস্তিস্কের আকৃতি শতকরা ১৩ ভাগ কমে এসেছিল!

তাই খুব অল্প বয়সেই জীবন নদীর ওপারে চলে যেতে হয় এই কিংবদন্তিকে। বেঁচে থাকলে এখন তার বয়স হত ৭৭!

– বিয়িং ইন্ডিয়ান অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।