বোকা থেকে বিশ্বজয়, ভায়া বার্সেলোনা

১৯৮১ সালে যখন বার্সেলোনার সাথে ম্যারাডোনার আলাপ চলছিল, ঠিক তখনই তাকে সাইন করিয়ে নেয় বোকা জুনিওরস। কিন্তু তখনো হাল ছাড়েনি বার্সা বোর্ড, তাকে ইউরোপে ট্রান্সফার করানোর ব্যাপারে একপ্রকার জোর করে মৌখিক সম্মতি নিয়ে নেয়। বার্সার চির প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়েল মাদ্রিদ তখন বসে থাকে নি, তারাও ম্যারাডোনাকে সাইন করাতে উঠেপড়ে লেগে যায়।

সময়টা ১৯৮২ সাল। রিয়াল মাদ্রিদ তাদের দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় আলফ্রেডো ডি স্টেফানোকে। গ্রীষ্মকালীন দল-বদলের সময় মাদ্রিদ বোর্ড ম্যারাডোনাকে সাইন করানোর জন্য সর্বচ্চো চেষ্টা করে। কিন্তু না, ততক্ষণে সবাই জেনে যায়, ম্যারাডোনার সাথে বার্সার প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, বাকি শুধু ট্রান্সফার ফির দরকষাকষি। মাদ্রিদ থেকে ম্যারাডোনার স্বদেশী স্টেফানোকে পাঠানো হয়। রেকর্ড পরিমান ট্রান্সফার ফি, আর বেতনের অফার নিয়ে এসেছিলেন তিনি। ২২ বছর বয়সী ডিয়েগো ম্যারাডোনার সামনে তখন দু’টো অপশন, হয় বার্সা না হয় মাদ্রিদ।

নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতির হেরফের করেনি ম্যারাডোনা। স্পেনের বিশকাপ শেষ হওয়ার পর সেরে ফেলেন চুক্তির বাকি কাজ। তৎকালীন বিশ্বের সর্বচ্চো ট্রান্সফার ফি ৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে বোকা জুনিওরস থেকে নিজেরদের দলে সাইন করায় এফসি বার্সেলোনা। ট্রান্সফার সিজনের শেষ মুহূর্তে চুক্তি হওয়ায় জানুয়ারি পর্যন্ত বোকার হয়ে খেলতে হয় তাকে।

১৯৮৩ সালে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের কোচ সিজার লুইস মেনেত্তিকে নিয়োগ দেয় বার্সেলোনা, আর তার অধীনে বার্সায় ক্যারিয়ার শুরু করে ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা।

২৬ জুন, ১৯৮৩ এর এল ক্লাসিকো তে মাদ্রিদের গোল কিপার অগাস্তিনকে ড্রিবল করে গোল করেন ম্যারাডোনা। আর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেদিন প্রথম বার্সা খেলোয়াড় হিসেবে পান স্ট্যান্ডিং অভেশন, মাদ্রিদের ঘরের মাঠে এই সন্মান এখন পর্যন্ত শুধু রোনালদিনহো আর ইনিয়েস্তা পেয়েছে।

বার্সায় সিজার মেনেত্তির অধীনে প্রথম সিজনে ম্যারাডোনা ৩৫ ম্যাচে ২৩ গোল করেন, আর ট্রফি? লা লিগা এবং কোপা ডেল রে।

নতুন মৌসুমের শুরুতেই হেপাটাইসিস এ আক্রান্ত হন ম্যারাডোনা, এ জন্য তাকে মাঠের বাহিরে দীর্ঘ সময় থাকতে হয়েছে। হেপাটাইসিস থেকে সেরে উঠে মাঠে ফিরলেও, সেপ্টেম্বরে অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের সাথের ম্যাচে পা ভেঙে প্রায় ৩ মাস মাঠের বাহিরে ছিলেন।

ম্যারাডোনার বার্সা ক্যারিয়ারের শেষ হয় ১৯৮৪ এর কোপা ডেল রের ফাইনালে বিলবাও কোচ-খেলোয়াড়দের সাথে জড়িয়ে পড়া বিতর্কে। সেদিন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে স্পেনের রাজা জুয়ান কার্লোস এসেছিলেন খেলা দেখতে। ম্যাচের শেষের দিকে ম্যারাডোনাকে লাঞ্ছিত করা হয় আর এতে বিলবাও এর কোচ-খেলোয়াড়দের সাথে তিনি বিবাদের জড়িয়ে পড়েন। স্পেনের রাজা জুয়ান কার্লোস এতে মনঃক্ষুন হন, বার্সা সভাপতিকে ডেকে পাঠান।

১৯৮৪ সালে কোপা ডেল রে বিতর্কের কারণেই একপ্রকার বাধ্য হয়েই বার্সা বোর্ড ম্যারাডোনাকে রেকর্ড ৬.৯ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে নাপোলিতে পাঠিয়ে দেয়। এভাবেই শেষ হয় ডিয়াগো আর্মান্দো ম্যারাডোনার বার্সা ক্যারিয়ারের।

বাকি ইতিহাসটা সবার জানা। ন্যাপোলির হয়ে আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বজয় করেন তিনি। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন বিশ্বকাপ। হয়ে ওঠেন কিংবদন্তি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।