বেকার || ছোটগল্প

দুপুরে কড়া রৌদ্রের মাঝে ফুটপাতের রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে রিয়াদ, গন্তব্য আপাদত জানা নেই। হয়তো সামনের কোন পার্কের ব্রেঞ্চটাতে বসতে হবে,পা যে আর চলছে না। ধীর পায়ে এগিয়ে চলছে রিয়াদ।ঘামে শরীরটা ভিজে গেছে।

হাতে একটা ফাইল, হ্যা আজ ওর চাকরির ইন্টার্ভিউ ছিলো। কিন্তু, সবার ভাগ্যটা সুপ্রশন্ন থাকে না। হয় নি চাকরিটা। হবেই বা কিভাবে ওর যে তাদের মত মামা-খালু নেই। চাকরিটা এ মুহূর্তে খুব দরকার ছিলো ওর। ওর বললে ভুল হবে পুরো পরিবারের জন্যই দরকার ছিলো।

ইচ্ছে করছে সার্টিফিকেট গুলোকে ছিড়ে ফেলে দিতে ।কিন্তু সে যে নিরুপায়। তাঁর মত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানের যে এটাই এক মাত্র স্বপ্ন।রাস্তার পাশের পার্কের ব্রেঞ্চটাতে ধপ করে বসে পড়লো রিয়াদ। খুব ক্ষুধা লেগেছে ওর।পকেটে আর মাত্র পঞ্চাঁশ টাকা।

আসার সময় ছোট বোনটা বার বার বলে দিয়েছে চকলেটের কথা। মাঝে মাঝে ছোট আবদার করে বোনটা কিন্তু সেটাও মিটাতে হিমশিম খায় সে। সামনের এক দোকান থেকে একটা কলা আর পাউরুটি কিনে খেতে শুরু করলো সে।আর সহ্য করতে পারছে না,সকাল বেলা না খেয়েই রওনা হয়েছিল ইন্টার্ভিউ দিতে।

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান রিয়াদ।গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে দু বছরের বেশি।মা-বাবা খুব কষ্ট করে মানুষ করেছে তাকে। অল্প আয়ের সংসারে অভাব জিনিসটা লেগে থাকাটাই স্বাভাবিক। তাঁর এক ছোট বোন আছে, অনেকটা তাঁর কলিজাই।

দু’বছরে কতই চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু কোথাও চাকরির সন্ধান পাই নি। কেনই বা দিবে ওর যে মামা নেই। মধ্যবিত্তদের এটাই বড় সমস্যা। বাসার সবাই আগ্রহ নিয়ে বসে আছে, হয়তো ভাবছে ছেলের চাকরিটা হয়ে গেছে। এবার তার বাবার কিছুটা বিশ্রামের সময় হয়েছে। কিন্তু তারা যে ভুল ভেবেছে, তাঁদের ছেলের কপালটা যে মন্দ।

কি করবে এখন! তাঁর বাবা আর কত দিন সংসার চালাবে। ছোট বোনের দিকে তাকাতেও খারাপ লাগে ওর, বড় ভাই যে কেন হয়েছে। কিচ্ছু মাথায় ঢুকছে না ওর। পানি পিপাঁসা লেগেছে খুব, কাছের টিওবয়েল থেকে পানি খেয়ে, এখনকার মত ক্ষুধাটাকে কিছুটা চাপা দিলো।

এদিকে আবার মেঘলার বাসা থেকে নাকি বিয়ে চাপ দিচ্ছে। আর কত দিনই বা মেয়েটা বুঝিয়ে রাখবে তাদের। সম্পর্কটা তো আর কম হলো না,প্রায় পাঁচ বছর। কিছুদিন যাবৎ তারা বেশি চাপ দিচ্ছে ব্যাপারটাতে, আর চাপটা এসে পড়ছে ওর ঘারে।

রিয়াদ নিজেও যে নিরুপায়, নিজেরই তো কোন গতি হয়নি। ওকে বিয়ে করে কি করবে। ওর মত মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানের ভাগ্যে প্রেম জিনিসটা আছে কিন্তু তাকে বিয়ে করার সামর্থ থাকে না। আর পারছে ও, ইচ্ছে করছে নিজেকে শেষ করে দিতে। পরিবারের কথা ভেবও কিছু কররতে পারছে না। দুনিয়ার মাঝে নিজেকে খুব অসহায় লাগছে! মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মানোটা কি ওর মত রিয়াদের জন্য দোষের। উত্তর ভেবে পায় না।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। এখন উঠতে হবে। কিন্তু এ মুখটা নিয়ে বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে না। আবার সে একই উত্তর দিতে হবে, এবারও দিলো না চাকরিটা তোমার অকর্মা ছেলেকে। মায়ের চোখ থেকে আবারো কিছুটা পানি ঝড়ে পড়বে, কিন্তু থামানোর যোগ্যতা তাঁর নেই।

রওনা হলো বাসার উদ্দেশ্যে। পা টা চলছে না যে আর, কিন্তু তার গন্তব্যটা যে বহু দূরের। এগিয়ে তাকে যেতেই হবে। বাধা থাকলেও। সে নিরুপায়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।