বুড়িয়ে গেলেন তো হেরে গেলেন

বয়স কোনো ব্যাপার নয়। মনের জোরই আসল। আবারো সেটা প্রমান করলেন থাইল্যান্ডের কিমলান জিনাকুল। ৯১ বছর বয়সে এসে স্নাতক ডিগ্রী নিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন তিনি।

ব্যাংককের সুখোথাই থামমাথিরাত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত বুধবার হিউম্যান ইকোলজি বিষয়ে স্নাতকের সনদপত্র গ্রহণ করেন তিনি। যদিও, গ্যাজুয়েট হওয়ার রাস্তাটা সহজ ছিল না কিমলানের জন্য।

কনভোকেশন অনুষ্ঠানে কিমলান

প্রথম দফায় ১৯৯৮ সালে গ্র্যাজুয়েশন করার জন্য আবেদন করেছিলেন কিমলান। তখন তার বয়স ছিল ৭২। তবে, এরপর ১০ বছরেরও বেশি সময়ের শিক্ষবিরতির কারণে আরো এক দফা পিছিয়ে পড়তে হয় তাকে। আবারো ‍শুরু করেন ৮৫ বছর বয়সে এসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয় বৃদ্ধ বলে কিমলান কোনো রকম বাড়তি সুবিধা পাননি। এমনকি স্নাতকের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক কোর্সে প্রথমে তিনি ফেল করেন। পরে পুনরায় পরীক্ষাগুলোয় অংশ নিয়ে পাশ নম্বর তোলেন।

কিমলান বলেন, ‘ছোট বেলায় আমি পড়াশোনায় ভাল ছিলাম। ভাল নম্বর পেতাম। সব সময়ই পড়তে ভাল লাগতো। এমনকি বাসায় বাচ্চাদের পড়ানোর জন্যও আমি টিচিং ম্যানুয়াল এনে পড়তাম।’

উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্যরাও

কিমলান জানান, উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছেন নিজের পরিবারের কাছ থেকে। ২০১১ সালের মধ্যে তার ছেলে-মেয়ে, নাতি, নাতনিরা সবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নিয়ে ভাল ভাল চাকরি পেয়ে যায়। এই ঘটনাই তাকে উদ্বুদ্ধ করে।

সুখোথাই থামমাথিরাত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বৃদ্ধদের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে এখানে অধ্যয়নরত ১৯৯ জন শিক্ষার্থীর বয়স ৬০-এর ওপর। কিমলানের জন্য তারাও মনে করেন, ‘জ্ঞান অর্জনের সময় কখনো ফুরিয়ে যায় না!’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।