বীরত্ব নয়, পাগলামি

ক্রিকেটের সাথে হিরোইজম শব্দটা খুবই ভালো করেই জড়ানো, চাই আপনি সেটাকে আত্মবিশ্বাস বলুন আর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস।

আমি ছক্কা মারবো এই শব্দটার সাথে একটা গ্লামার জড়ানো, আলাদা একটা ভাব আছে। শুনতে একটু খারাপ শোনালেও বিষয়টা সত্য।

ক্রিকেটে ভুল হবেই – এটা একেবারে অলিখিত সত্য। যেখানে ভুল নেই সেটাকে আর যাই হোক না কেনো খেলা বলা যাবেনা, ঐশ্বরিক কিছু হয়ে যাবে। ম্যাচে সবার চেস্টা থাকে কে কত কম ভুল করবে,যে কম ভুল করবে জয়ী সে হবে।

এবার আসি আমাদের বিষয়ে, আমাদের নিয়ে যেনো একটা প্রবাদই চলে আসছে যে শেষ সেশনে আমরা উইকেট দিয়ে আসবোই, এতে অবস্থা যাই হোক না কেনো।

আমাদের বুদ্ধিবান ক্রিকেটাররা পুরা সেশন অসাধারন খেলেন, কখনো কখনো ইতিহাস রচনা করে ফেলেন কিন্তু তারপরেও কি থেকে কি হয়ে যায় কেউ জানেনা।

আর এই কি থেকে কি হয়ে যায় এর বলি হতে হয় আমাদের ম্যাচের ফলাফল দিয়ে। এই ক্রিকেটে ছোট থেকে ছোট ঘটনাও যে একটার সাথে আরেকটি ভালো করে জড়িয়ে আছে।

আজ তামিমের কথাই ধরুন না, ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে দিনের শেষ বলে ওভাবে ছক্কা হাঁকানোর কিন্তু দরকার ছিলো না। এমনিতেই আমরা ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে। এর মধ্যে তামিমকে হারানো আমরা কতটুকু অ্যাফোর্ড করতে পারতাম? না পারতাম না। মোটেও পারতাম না।

বিষয়টা যদি শুধু একজনের হতো তাহলে কথা ছিলো না, এই রোগে আক্রান্ত দলের প্রত্যেকটা ব্যাটসম্যান। চাই সে সাকিব হোক কিংবা মুশি, রিয়াদ হোক কিংবা সৌম্য।

আপনি কোনো ভাবেই এটাকে ডিফেন্ড করতে পারেন না, যদি কাল তামিম ডাবল সেঞ্চুরিও খেলে ফেলে তাও সেটা ডিফেন্ড হয় না, যেমনটা ডিফেন্ড হয়নি সাকিবের শ্রীলঙ্কাতে করা পাগলামি, পরের দিন কিন্তু সে সুবোধ বালকের মত ম্যাচজয়ী শতক করেছে।

আমরা ম্যাচ জিতে গেলেই কেনো জানি সব ভুল মাফ হয়ে যায়, তখন কারো আর ভুলের কথা মনে থাকেনা, কিন্তু বাস্তব আসলে বাস্তবই। যা ভুল সেটা ভুলই থাকে, কখনো ঠিক হয়ে যায় না।

এটা বীরত্ব নয়, বোকামী-পাগলামি। এই পাগলামির, এই খামখেলালিপনার মানসিকতাটা পাল্টানোর কোনো বিকল্প নেই তামিমের সামনে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।