বিসিবি সভাপতি যখন একতা যুব সংঘের কর্তা!

‘সমস্যা মুশফিকের। এছাড়া আমার আর বলার কিছু নেই। মাশরাফি ক্যাপ্টেন্সি করে না? ও কখনও এরকম সমস্যার সম্মুখিন হয়নি। সাকিবকে দেওয়া হয়েছে টি-টেয়েন্টি। হি উইল নেভার ফেস, আমি লিখে দিতে পারি…’

– বিসিবি প্রধান

*কোনো দেশের টেস্ট অধিনায়ককে নিয়ে প্রকাশ্যে এভাবে বলতে পারেন সেই দেশেরই বোর্ড প্রধান, নিজের কানে রেকর্ডিং শুনেও বিশ্বাস হতে চায় না। তিন বার শুনলাম। মুশির অধিনায়কত্বের কিছু সমালোচনা, আরও গাটস দেখাতে না পারা বা আরেকটু সাহসী ও সৃষ্টিশীল হতে না পারা, এসব নিয়ে আমরা নানা সময় কথা বলেছি, বলি। তাই বলে নিজের বোর্ড প্রধান এভাবে প্রকাশ্যে বলবেন! ঘর নেই? আড়াল নেই? ফোন নেই? মিটিং নেই? তাছাড়া একজন বোর্ড প্রধান এসব বলবেনই বা কেন…! অন্য দুজন অধিনায়কের সঙ্গে এত বাজে ভাবে তুলনা প্রকাশ্যে, সংবাদ সম্মেলনে, অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হয়।

আই ফিল ফর মুশি। ওর উচিত, বোর্ড প্রধানের এই খোঁচার সূত্রে হলেও সামনে আত্মসম্মানের বড় কোনো উদাহরণ দেখানো।

__________

‘আগের দিনও আমি খবর পাঠিয়েছি, মুশফিককে চারে নামতে…’

‘ম্যাচের প্রথম দিন শেষেই সাকিব, মিরাজ, তাইজুলদের সঙ্গে আমি বসেছি,স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলাপ করেছি…’

‘খেলার সময় আমরা সাজেশন দেই। অনেকেই সাজেশন দেয়…’

– বিসিবি প্রধান

*হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনছেন। টেস্ট ম্যাচের আগে, টেস্ট ম্যাচ চলার সময়ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে ‘স্ট্র্যাটেজি’ নিয়ে আলাপ করেন বোর্ড প্রধান। সাকিবদের বলে দেন কিভাবে বল-টল করতে হবে। এবং সেসব কথা আবার প্রকাশ্যে বলেনও… গর্ব করে বলেন, খেলার সময় আমরা সাজেশন দেই!

ফাজলামো নয়, আপনি সত্যিটাই শুনছেন!

___________

‘আমরা ডানহাতি ব্যাটসম্যান খুঁজছি। বিজয় একটা অপশন হতে পারে। আপনারা জানলে অবাক হবেন, পরশু দিনই আমি বলেছি যে রাইটহান্ড অপশন কে কে আছে, দেখো… বলেছি সবার স্ট্যাটিসটিকস আনতে।’

‘…প্রথম তিন-চারের কথা চিন্তা করলে শান্ত খুব ভালো অপশন। কিন্তু ও তো বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। আমাদের খুব ভালো সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান। হয়ত ভালো খেলবে সামনে। কিন্তু ও তো বাঁহাতি… আমার সমস্যার সমাধান হচ্ছে না…।’

– বিসিবি প্রধান

* এই কথাটি সম্ভবত কোটিবারের মত বলছি। দল নির্বাচনে যাতে নিজের হস্তক্ষেপ করতে না হয়, এই জন্য কোচ-ম্যানেজার-ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান সবাইকেসহ ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় নির্বাচক প্যানেল করে দিয়েছেন বোর্ড প্রধান। অথচ তারপর থেকে দল নির্বাচনে তাকে ভূমিকা রাখতে হচ্ছে আরও বেশি!

কোচকে নির্বাচক করার পর তার ক্ষমতা আকাশ ছুঁয়েছে। প্রায় প্রতি সিরিজেই বিতর্ক হচ্ছে এবং বোর্ড প্রধানকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। আর এবার তো আরও এক কাঠি সরেস, নিজে থেকেই একজনের নাম সুপারিশ করে রেখেছেন!

সেই সুপারিশ তিনি করছেন কিসের ভিত্তিতে? ক্রাইটেরিয়া হলো, ডানহাতি-বাঁহাতি! শান্ত বাঁহাতি, তাই হাজার হাজার রান করলেও উপায় নাই, যেহেতু আমাদের অনেক বাঁহাতি! এটা কোনো কথা হলো? এটা কী পাড়ার ক্রিকেট!

আবার বলেছেন স্ট্যাটিসটিকস দেখতে। স্ট্যাটিসটিকস দেখে দল করতে হলে বাংলার ১৬ কোটি জাগ্রতা জনতা ৩২ কোটি দল গড়ে ফেলবে। নির্বাচকদের বিশাল বহর তাহলে কেন? ঘরে বসে স্ট্যাট দেখে দল করলেই হয়!

__________

উনি শুরু থেকেই ডিসিপ্লিনে জোর দিয়েছেন। উনি বিপিএলের ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে কঠোর ছিলেন। বিতর্ক শেষ করার স্বার্থে এক বছর বিপিএল করেননি। উনি সিনিয়র ক্রিকেটারদের মোটামুটি গুরুত্ব দেন। এরকম কিছু কিছু ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় বাজে নজীরের যে ভয়ঙ্কর বীজ বুনে দিচ্ছেন,সেটার প্রভাব ভবিষ্যতে কী হয়, কে জানে!

সবচেয়ে বড় কথা, ৫ বছর বোর্ড প্রধান থাকার পরও জানেন না মিডিয়ার সামনে কখন কোনটা কিভাবে বলা উচিত বা উচিত নয়! কথা বলেন পাড়ার একতা যুব সংঘের কোনো কর্তার মত!

শুরুতে অবিশ্বাস্য লাগত। এরপর হতাশ লাগত। তার পর মজা পেতাম । এখন সব অনুভুতি মিলিয়ে গা গুলিয়ে ওঠে!

– ফেসবুক থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।