অভিজ্ঞতার সিঁড়ি বেড়ে উঠছে বাংলাদেশ

সাকিব আল হাসান, মাশরাফি মুর্তজা, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল মাইলফলকে পৌঁছে গিয়েছিলেন আগেই। অপেক্ষা ছিল শুধু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জন্য। অবশেষে সেই অপেক্ষাও শেষ হয়েছে এ বছর। বর্তমান বাংলাদেশ দলের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এর বাইরে ইমরুল কায়েস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নয় বছর, রুবেল হোসেন আট বছর কাটিয়ে ফেলেছেন। অভিজ্ঞতায় অনেকটা পথ পারি দিয়ে এসেছে বাংলাদেশ।

অধিনায়ক মাশরাফির প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পাওয়া ২০০১ সালে। মুশফিকুর রহিমের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদচারণা শুরু ২০০৫ সালে, সাকিব আল হাসানের ২০০৬ সালে, আর তামিম ইকবালের ২০০৭ সালে। তামিমের সাথে একই বছরে যাত্রা শুরু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদেরও। সেই রিয়াদের এক দশক পূর্ণ হল গত ২৫ জুলাই। একই দলের ১১ জনের মধ্যে ৫ জনই ১০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন! বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন দলে কি এমন কোন নজির আছে? চলুন উত্তর খোঁজা যাক।

একসময় ভারতীয় দলে শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, ভিভিএস লক্ষ্মণ, রাহুল দ্রাবিড়, অনিল কুম্বলে, হরভজন সিংদের মত প্রচুর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় খেলেছেন একসাথে। কিন্তু তাদের সবার অবসরের পরে একঝাঁক নতুন খেলোয়াড় এসেছেন ভারত দলে। যার প্রমাণ, বর্তমান ভারত দলে অন্তত ১০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা আছে মাত্র তিনজনের, রোহিত শর্মা, মহেন্দ্র সিং ধোনি ও যুবরাজ সিং।

অধিনায়ক বিরাট কোহলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন প্রায় নয় বছর ধরে, ওপেনার মুরালি বিজয়ের অভিজ্ঞতাও প্রায় নয় বছরের। এছাড়া ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্যদের মধ্যে রবীন্দ্র জাদেজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা প্রায় আট বছরের। অমিত মিশ্র ও দীনেশ কার্তিক অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন প্রায় ১৩-১৪ বছর ধরে, কিন্তু দুজনের কেউই জাতীয় দলে মোটেও নিয়মিত সদস্য নন।

একসময়ের প্রবল প্রতাপশালী অস্ট্রেলিয়া দলেও ছিল অভিজ্ঞতার জয়জয়কার। ম্যাথিউ হেইডেন, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, রিকি পন্টিং, শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রাদের মত অভিজ্ঞতম খেলোয়াড়েরা খেলেছেন এক একাদশে। সেই অস্ট্রেলিয়া দলে এখন তারুণ্যের জয়গান। যার প্রমাণ, বর্তমান অস্ট্রেলিয়া দলে নিয়মিত খেলছেন এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে দশ বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নেই কোন ক্রিকেটারেরই!

অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ খেলছেন সাত বছর, ডেভিড ওয়ার্নার আট বছর, মিচেল স্টার্ক সাত বছর, নাথান লায়ন ও অ্যারন ফিঞ্চ খেলছেন ছয় বছর ধরে। শন মার্শ নয় বছর ধরে খেলছেন বটে, তবে এই নয় বছরের বেশিরভাগটাই কেটেছে দলে যাওয়া আসার মধ্যে। বর্তমান দলেও নিয়মিত মুখ নন তিনি।

ইংল্যান্ড দলে দশ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় অবশ্য বেশ কয়েকজন আছেন। সম্প্রতি টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে অবসর নেয়া অ্যালিস্টার কুক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলছেন ২০০৬ সাল থেকে। টেস্টে ইংলিশদের সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলিং জুটি জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রড আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আছেন যথাক্রমে ২০০২ ও ২০০৬ সাল থেকে। ইংল্যান্ড দলে দশ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন এই তিনজনই।

নিউজিল্যান্ড দলে বরাবরই তারুণ্যের আধিক্য থাকে। বর্তমান কিউই দলে দশ বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আছে মাত্র একজনেরই, রস টেলর। ২০০৬ সালে অভিষিক্ত টেলর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন প্রায় ১১ বছর ধরে। এছাড়া টিম সাউদি ও গ্র্যান্ট এলিয়ট খেলছেন নয় বছর ধরে, মার্টিন গাপটিলের অভিজ্ঞতা আট বছরের।

বিখ্যাত ত্রয়ী সাঙ্গা-মাহেলা-দিলশান অবসর নেয়ার পর শ্রীলঙ্কা এখন স্বাভাবিকভাবেই তরুণদের দল। তাও দলে দশ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন উপুল থারাঙ্গা, লাসিথ মালিঙ্গা ও রঙ্গনা হেরাথ। মালিঙ্গা খেলছেন ২০০৪ থেকে, থারাঙ্গা ২০০৫ থেকে আর হেরাথের আন্তর্জাতিক অভিষেক বিংশ শতাব্দীতে, ১৯৯৯ সালে। বাকিদের মধ্যে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস খেলছেন প্রায় নয় বছর ধরে।

পাকিস্তান দলে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন তিনজন, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ ও মোহাম্মদ হাফিজ। মালিক খেলছেন ১৯৯৯ সাল থেকে, সরফরাজ ২০০৭ থেকে আর হাফিজ ২০০৩ থেকে। বাকিদের মধ্যে ওয়াহাব রিয়াজ খেলছেন নয় বছর ধরে, আহমেদ শেহজাদ আট বছর।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকাই একমাত্র দল, যেখানে দশ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় খেলছেন ছয় জন। এবি ডি ভিলিয়ার্স, হাশিম আমলা, জেপি ডুমিনি ও ডেল স্টেইন প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা প্রায় ১৩ বছরের। এছাড়া মরনে মরকেল খেলছেন ১১ বছর ধরে ও ভার্নন ফিল্যান্ডার ১০ বছর ধরে।

অর্থাৎ অভিজ্ঞতার বিচারে বাংলাদেশ এখন পরাশক্তিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। অনেকদিন ধরে খেলার সুবাদে এই খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়াও অন্য যেকোনো দলের তুলনায় ভালো। এই বোঝাপড়া কাজে লাগিয়ে আসছে দিনে দলকে আরও সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবেন তারা, এমনটাই প্রত্যাশা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।