ইতিহাসের বিলুপ্ত ক্রিকেট দলের গল্প!

অন্য মহাদেশগুলার তুলনায় আফ্রিকা ক্রিকেটে তুলনামূলক পিছিয়ে ছিলো অনেকটা সময়। দক্ষিণ আফ্রিকা আর জিম্বাবুয়েকে বাদ দিলে বাকি দেশসমূহ নিজেরা একটা একাদশ বানাবে সেটা ছিলো প্রায় অসম্ভব এক ঘটনা।

তাই ইতিহাসে ‘ইস্ট আফ্রিকা ক্রিকেট দল’ নামে একটা আফ্রিকান দলের নাম পাওয়া যায়। কেনিয়া, তানজানিয়া এবং উগান্ডা নিয়ে গঠিত হতো এই দল। এরা সারা বছর নিজেরা নিজেদের ভেতর ক্রিকেট খেলতো এবং জাম্বিয়াকে নিয়ে একটি চার জাতি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতো বছরে একবার। জাম্বিয়া পরে ইস্ট আফ্রিকা দলে যুক্ত হয়। বলাই বাহুল্য এই ‘ইস্ট আফ্রিকা’ দলে কেনিয়ান ক্রিকেটারদের সংখ্যাই বেশি ছিলো। ১৯৬৬ সালে ইস্ট আফ্রিকা আইসিসির সহযোগী দেশের মর্যাদা লাভ করে।

১৯৬৭ সালে ভারত ইস্ট আফ্রিকা সফরে যায়, সে সময় কেনিয়ার সাথে তিন দিনের একটা ম্যাচ খেলে যেটা ড্র হয়। ইস্ট আফ্রিকা ১৯৭২ সালে ইংল্যান্ড সফরে যায় এবং ১৯৭৪ সালে নাইরোবির জিমখানা ক্লাব মাঠে এমসিসি এবং ইস্ট আফ্রিকার ভেতর প্রথম শ্রেনীর একটা ম্যাচ হয়।

১৯৭৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপে দুটি সহযোগী দেশ অংশ নেয়, ইস্ট আফ্রিকা এবং শ্রীলংকা। বিশ্বকাপের আগে সমারসেট, ওয়েলস এবং গ্ল্যামারগনের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ইস্ট আফ্রিকা। বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং ভারতের সাথে। তিন ম্যাচেই পরাজিত হয় তারা। ইস্ট আফ্রিকার ফ্রাসাত আলী নিউজিল্যান্ডের সাথে ৪৫ রান করেন। এছাড়া জুলফিকার আলি, জহির শাহ, মুহাম্মদ কুরেশি, ডিজে প্রিঙ্গেল, আর কে শেঠিরা আলোচিত হন। বিশ্বকাপ শেষে ইস্ট আফ্রিকা শ্রীলঙ্কার সাথে একটি প্রথম শ্রেনীর ম্যাচ খেলে।

ইস্ট আফ্রিকা ১৯৭৯ সালে আইসিসি ট্রফিতে অংশ নেয়। টুর্নামেন্টে তারা আর্জেন্টিনা এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয় লাভ করে। উইকেটরক্ষক নরেন্দ্র ঠাকুর আর্জন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ৪৪ রান করেন।

১৯৮১ সালে কেনিয়া ইস্ট আফ্রিকা দল থেকে বের হয়ে যায় এবং নিজেরা স্বাধীনভাবে আইসিসির সহযোগী দেশ হয়। ১৯৮২ সালের আইসিসি ট্রফিতে অংশ নিয়ে ফিজির সাথে একমাত্র জয় পায় ইস্ট আফ্রিকা।

ইস্ট অ্যান্ড সেন্ট্রাল আফ্রিকা দলের অফিশিয়াল লোগো।

১৯৮৬ সালে ইস্ট আফ্রিকা শেষ বারের মত আইসিসি ট্রফিতে অংশ নেয়। অবিশ্বাস্যভাবে ইস্ট আফ্রিকা বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পায়। সহযোগী দেশ হলেও বাংলাদেশ তখন সমীহ জাগানো দল, এশিয়া কাপে ওয়ানডে খেলা দল। আর বাংলাদেশের ক্রিকেট আফ্রিকার চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল।

প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ১৬২ রান করে, ইস্ট আফ্রিকার এসএম লাখা সেরা বোলার ছিলেন (৩১/৪), জবাবে দ্রুত তিন উইকেট হারালে চতুর্থ উইকেটে ১২৫ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ছয় উইকেটে হারিয়ে দেন বাউরি (৬৬*) এবং প্যাটেল (৫৩)।

পরের ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারায় ইস্ট আফ্রিকা। দুটি ম্যাচ জিতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ইস্ট আফ্রিকা।

ইস্ট আফ্রিকা তাদের প্রথম আন অফিশিয়াল টেস্ট খেলে ১৯৫৮ সালে নন-ইউরোপিয়ান সাউথ আফ্রিকা দলের সাথে।

কেনিয়া বের হয়ে যাবার পর তানজানিয়া, জাম্বিয়া এবং উগান্ডাকে নিয়ে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইস্ট আফ্রিকা ক্রিকেট দল আইসিসির সহযোগী সদস্য ছিলো। এরপর বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়। ইস্ট আফ্রিকাই একমাত্র বিশ্বকাপ খেলা দেশ যার কোন অস্তিত্ব বর্তমানে নেই।

তানজানিয়া, জাম্বিয়া, উগান্ডার সাথে মালায় এবং জাম্বিয়াকে নিয়ে ১৯৯০ সালে গঠিত হয় ‘ইস্ট এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকা’ ক্রিকেট দল। এই দলটি তাদের প্রথম আন অফিশিয়াল টেস্ট খেলে ৬ জুন ১৯৯০ সালে ডেনমার্কের সাথে নেদারল্যান্ডে।

আইসিসি ট্রফিতে দলটির ইতিহাস খুবই খারাপ।

১৯৯০ সাল: প্লেট চ্যাম্পিয়নশিপ

১৯৯৪ সাল: ১৮ তম

১৯৯৭ সাল: ১৭ তম

২০০১ সাল: প্রথম রাউন্ড

১৯৯৮ সালে উগান্ডা এবং ২০০১ সালে তানজানিয়া স্বাধীনভাবে আইসিসির সহযোগী দেশের মর্যাদা লাভ করে। ২০০৩ সালে জাম্বিয়া অ্যাসোসিয়েট দেশ এবং মালয় এফিলিয়েট সদস্যের মর্যাদা পেলে বিলুপ্ত হয়ে যায় ‘ইস্ট এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকা’ ক্রিকেট দল।

ইতিহাসের এই রকম আরেকটা দল ছিলো ওয়েস্ট আফ্রিকা ক্রিকেট দল (গাম্বিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া এবং সিয়েরা লিওন নিয়ে গঠিত)। ওয়েস্ট আফ্রিকা তাদের প্রথম আন অফিশিয়াল টেস্ট খেলে ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের সাথে (ইংল্যান্ডের মাটিতে)।

ওয়েস্ট আফ্রিকা ১৯৭৬ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত আইসিসির সহযোগী সদস্য ছিলো। ২০০৩ সালে নাইজেরিয়া সহযোগী দেশ এবং বাকিরা এফিলিয়েট দেশের মর্যাদা পেলে বিলুপ্ত করা হয় ওয়েস্ট আফ্রিকা ক্রিকেট দল। ওয়েস্ট আফ্রিকা ক্রিকেট দল একমাত্র দল যারা ইতিহাসে কোন ম্যাচ জেতেনি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।