বিরাটদের সর্বজয় ও পাকিস্তানের প্রত্যাবর্তন

দ্বিতীয়বারের মত এক বছরে বিরাট কোহলির হাজার রানের সংগ্রহে বছরজুড়ে জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে ভারত। বাংলাদেশকে একমাত্র টেস্টের আতিথেয়তা দিতে গিয়ে ভারতের করা ৬ উইকেটে ৬৮৭ রানে কোহলির যোগান ছিল ২০৪ রান। ম্যাচটি ছয় উইকেটে জয়লাভ করে স্বাগতিক ভারত। এরপর সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজটিও ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় ভারত।

পুনেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টটি অজিরা ৩৩৩ রানে জিতে নেয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে জয়ের ভাল সুযোগ পেয়েছিল অজিরা। তবে সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ব্যাঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অফ স্পিনার নাথান লিওঁ’র (৮/৫০) দুর্দান্ত বোলিং তোপে পড়ে প্রথম ইনিংসে ভারতীয়দের করা ১৮৯ রানের জবাবে ১১২ রানেই অল আউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ফলে ৭৫ রানে জয়লাভ করে ভারত।

রাঁচিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে অসি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের অপরাজিত ১৭৮ রানে ভর করে সফরকারীরা প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫১ রান সংগ্রহ করলেও জবাবে চেতেশ্বর পুজারার ২০২ ঋদ্ধিমান সাহার ১১৭ রানের সুবাদে ৬০৩ রান সংগ্রহের মাধ্যমে অজিদেরকেই রানের বোঝা চাপিয়ে দেয় ভারত। শেষ পর্যন্ত ড্র হয় ম্যাচটি।

হিমালয় পাদদেশ ধর্মশালায় অনুষ্ঠিত চতুর্থ ও শেষ ম্যাচটি ছিল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ। ওই ম্যাচে আজিঙ্কা রাহানের নেতৃত্বাধীন ভারত জয় পায় আট উইকেটে। এর পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রোহিত শর্মার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করে ভারত। আবারো ডাবল সেঞ্চুরি পেয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেকে আরো এক ধাপ ওপরে নিয়ে গেছেন রোহিত শর্মা।

বছরের মধ্যভাগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জয়ের মাধ্যমে ইউনিস খান ও মিসবাহ উল হককে আবেগময় বিদায় জানিয়েছে পাকিস্তান। এ সময় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করা ইংল্যান্ড বিশাল ব্যবধানে নিজ দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরেক সিরিজের প্রথম ম্যাচটি জয়লাভ করেছে ইনিংস ও ২০৯ রানের বিশাল ব্যবধানে।

এজবাস্টনে ওই হারে ক্যারিবীয়দের আদৌ টেস্ট খেলার যোগ্যতা রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্ন তুলেছিলেন ক্রিকেট পণ্ডিতরা। তবে হেডিংলিতে এসে ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ জিতে নেয় ৫ উইকেটে। শেষ পর্যন্ত লর্ডসে এসে সিরিজ নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

এদিকে শ্রীলঙ্কা সফরে এসে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ে ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

বছরের শেষভাগে এসে অর্থ আয়ের নেশায় মরিয়া হয়ে ওঠে শ্রীলঙ্কা। এ সময় তারা পরপর পূর্ণাঙ্গ সিরিজে অংশ নেয় ভারতের সঙ্গে। যেখানে তিন ফর্মেটেরই ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রথম সিরিজটি ছিল নিজ দেশে এবং ফিরতি সিরিজ ভারতে। প্রথমে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ভারতের কাছে যথাক্রমে ৩০৪ রান, এক ইনিংস ও ৫৩ রান এবং এক ইনিংস ও ১৭১ রানের ব্যবধানে হেরে হোয়াইট ওয়াশের লজ্জায় পড়ে।

এরপর তারা ওডিআই সিরিজেও হেরেছে ৫-০ ব্যবধানে। তবে ফিরতি সফরের টেস্ট সিরিজে বৃষ্টির সহায়াতা নিয়ে মাত্র ১-০ ব্যবধানে স্বাগতিক ভারতের কাছে হার মেনেছে শ্রীলঙ্কা। এর আগে অবশ্য দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেছে লঙ্কান দলটি।

বছরে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দলও। গত জুনে আন্ডারডগ হিসেবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়ে তারা চ্যাম্পিয়ন বনে গেছে। বাংলাদেশের যাত্রা ছিল সেমিফাইনাল অবধি। আর এই বাইরে পাকিস্তানের জন্য বড় সুসংবাদ হল, এ বছরই ২০০৯ সালে লাহোরে লঙ্কান দলের টিম বাসে বোমা হামলার পর আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্রিকেট ফিরেছে দেশটিতে। বিশ্ব একাদশের পর সেখানে খেলে এসেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলও।

বছরের শেষ ভাগে এসে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করেছে অস্ট্রেলিয়ান দল। পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম তিনটিতেই জিতে নিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, দেশের মাটিতে তারা সত্যিই বাঘ। অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে আরো এক ধাপ ওপরে নিয়ে গেছেন স্টিভেন স্মিথ।

এই বছরই টেস্টের ভবিষ্যৎ পাল্টে গেছে আইসিসির বৈঠকে। নতুন দু’টি দল যোগ হয়েছে টেস্ট আঙিনায় – আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান। আর্থিক কাঠামোর পাল্টে যাওয়ার সাথে সাথে অপেক্ষায় আছে টেস্ট ও ওয়ানডে লিগ।

বছরে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস। সিরিজ চলাকালে নাইট ক্লাবের বাইরে মারামারি করে অ্যালেক্স হেলসের সাথে তাঁর ওপর নেমে এসেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) নিষেধাজ্ঞা।ফলে, আর অ্যাশেজ খেলা হয়নি তাঁর। দলও হেরে গেছে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।