বিপিএল ২০১৭: নির্বাচিত সেরা একাদশ

সদ্যই শেষ হলে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসর। এবার টুর্নামেন্টের ময়নাতদন্ত করার পালা। সেরা তারকাদের খুঁজে বের করার মিশনে নেমেছে অলিগলি.কম। আমাদের সম্পাদকীয় প্যানেল বাছাই করেছে সেরা একাদশ।

টুর্নামেন্টের নিয়ম মাফিক সুযোগ দেওয়া হয়েছে ছয় দেশি ও পাঁচজন বিদেশি ক্রিকেটারকে। একজন আছেন দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে। অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের মাশরাফি বিন মুর্তজা।

টুর্নামেন্টের সেরা  একাদশ নির্বাচন করা সবসময়ই খুব কঠিন কাজ। হয়তো দলটা অনেকের মত মত হবে না। হয়তো একজনের জায়গায় আরেকজনকে রাখা যেত। তাই ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।

১২ জন ক্রিকেটারের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের। বিদেশিদের মধ্যে দু’জন ওয়েস্ট ইন্ডিজের, দু’জন পাকিস্তানের। ও বাকিজন ইংল্যান্ডের।

একাদশে চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স থেকে জায়গা পেয়েছেন সর্বোচ্চ চারজন ক্রিকেটার। রানার আপ ঢাকা ডায়নামাইটস থেকে তিনজন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স থেকে দু’জন ও দু’জন আছেন খুলনা টাইটান্স থেকে। দ্বাদশ ব্যক্তি এসেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে। কোচ রংপুর রাইডার্সের।

তামিম ইকবাল (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) – বাংলাদেশ

টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে কয়েকটি ম্যাচে তিনি ছিলেন না। সিলেট পর্বে তাকে না পেলেও চিটাগংয়ে ফিরেই চিনিয়েছেন নিজের জাত। দেশের সেরা এই ওপেনার ১০ ম্যাচে করেছেন ৩৩২ রান।

ক্রিস গেইল (রংপুর রাইডার্স) – ওয়েস্ট ইন্ডিজ

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ১২৬, ফাইনালে ১৪৬ রান। গোটা আসরে ১১ টি ম্যাচ খেলে ৪৮৫ রান। টুর্নামেন্টে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার নায়ক তো তিনিই।

এভিন লুইস (ঢাকা ডায়নামাইটস) – ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ঢাকার এই ক্যারিবিয়ান টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১২ ম্যাচে করেছেন ৩৬৫ রান। দলে এক গাদা তারকার মধ্যেও তিনি ছিলেন উজ্জ্বল।

মোহাম্মদ মিথুন (রংপুর রাইডার্স- উইকেটরক্ষক) – বাংলাদেশ

টপ অর্ডারে যে গুটিকয়েক বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান সুযোগ পেয়েছেন তাদের অন্যতম মিথুন। ১৫ ম্যাচে করেছেন ৩২৯ রান। আর উইকেটের পেছনেও ছিলেন দলের ভরসার প্রতীক। লুক রনকি কিংবা মুশফিকুর রহিমদের ছাপিয়ে তাই তাকে একাদশের উইকেটরক্ষক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে তাকে লড়াই করতে হয়েছে রাজশাহী কিংসের হয়ে আট ম্যাচে ১৬৯ রান করা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসানের সাথে।

সাকিব আল হাসান (ঢাকা ডায়নামাইটস) – বাংলাদেশ

অল্পের জন্য চ্যাম্পিন হতে পারেননি। তারপরও উজ্জ্বল ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার। ১৩ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা বোলার তিনি। ২১১ রানও এসেছে তার ব্যাট থেকে।

রবি বোপারা (রংপুর রাইডার্স) – ইংল্যান্ড

টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কার্যকর ক্রিকেটারদের একজন তিনি। দু’টি হাফ সেঞ্চুরিসহ করেছেন ৩৬৫ রান। মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে নিয়েছেন আট উইকেট। কে জানে, টুর্নামেন্টের শেষ বেলায় গেইল ঝড় না উঠলে হয়তো তার হাতেই উঠতো ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

আরিফুল হক (খুলনা টাইটান্স) – বাংলাদেশ

এবারের সারপ্রাইজ প্যাকেজ খুলনার আরিফুল। লোয়ার অর্ডারে ঝড় তুলে বেশ কয়েকটি ম্যাচ জিতিয়েছেন খুলনাকে। ১২ ম্যাচে করেছেন ২৩৭ রান।

শহীদ আফ্রিদি (ঢাকা ডায়নামাইটস) – পাকিস্তান

আট ম্যাচে করেছেন ১২৬ রান। বেশ কয়েকটা ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ছন্দ না থাকলেও বল হাতে সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছেন সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়ক। ১৫ টি উইকেট যোগ হয়েছে তার ঝুলিতে।

মাশরাফি বিন মুর্তজা (রংপুর রাইডার্স-অধিনায়ক) – বাংলাদেশ

নি:সন্দেহে তিনিই দলের অধিনায়ক। এবার জিতে নিলেন নিজের চতুর্থ বিপিএল শিরোপা। ব্যাটে-বলেও বড় অবদান আছে তার। ১৫ টি উইকেটের সাথে ১৩১ রান করেছেন তিনি ১৪ ম্যাচ খেলে।

হাসান আলী (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) – পাকিস্তান

কুমিল্লার এই পাকিস্তানি পেসার নয় ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১৬ উইকেট। একবার পেয়েছেন পাঁচ উইকেট। লোয়ার অর্ডারে পেয়েছেন টুকটাক রানও।

আবু জায়েদ রাহী (খুলনা টাইটান্স) – বাংলাদেশ

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী পেসার। ১২ ম্যাচ খেলে পেয়েছেন ১৮ উইকেট। মাশরাফি ও হাসান আলীদের সাথে পেস বিভাগে বড় একটা ভূমিকা পালন করতে হবে তাকে।

দ্বাদশ ব্যক্তি: মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) – বাংলাদেশ

অল্পের জন্য মূল একাদশে সুযোগ পাননি তিনি। চাইলে আফ্রিদির জায়গায় তাকে একাদশে রাখা যেত, তবে তাতে স্পিন বিভাগ দুর্বল হয়ে যেত। ১৩ ম্যাচে ১৬ উইকেট পেয়েছেন এই পেসার। এখানে বিবেচনায় রাখা হয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে ১৫ উইকেট পাওয়া পেসার আবু হায়দার রনিকে।

কোচ: টম মুডি (রংপুর রাইডার্স)

রংপুর রাইডার্সের শিরোপা জয়ে পর্দার আড়াল থেকে যারা কাজ করেছেন তাদের একজন হলেন কোচ টম মুডি। সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটা্র আইপিএলের শিরোপা জয়ের পর এবার জিতলেন বিপিএলের শিরোপা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।