ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও বিপিএলের সমস্যা

বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটটা মূলত ব্যবসায়িক একটা ভাবনা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এখানে দল কেনে নিজেদের ব্যবসায়িক লাভের কথা চিন্তা করে।

নিজেদের লাভের কথা মাথায় রেখেই বিগ ব্যাশ, আইপিএলের দলগুলোর একটা পেশাদার সেট-আট, স্টাফ থাকো। কারো কারো একাডেমি থাকে। বছরে খেলা থাকে এক-দুই মাস। কিন্তু, সেটাকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম চলে সারা বছর।

ট্যালেন্ট হান্ট, কোচিং, ট্যালেন্ট নার্সিং এগুলো চলে বছরজুড়ে। এসব বিষয়গুলো আলটিমেটলি তাই অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের ক্রিকেটের জন্য সুফল বয়ে নিয়ে আসে। ভারতের বাসিল থাম্পিরা বছরজুড়ে এমন সব কার্যক্রমের প্রোডাকশন।

আমাদের বিপিএলের প্রোডাকশন কি? অনেকে তাসকিন আহমেদ, এনামুল হক বিজয়, আরাফাদ সানি বা সৌম্য সরকারের নাম বলবেন। যারা বলবেন, অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করের মত বলবেন। বিপিএল খেলতে আসার আগেই তারা ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ ছিলেন।

আফিফ হোসেন ধ্রুব কিংবা হাসানুজ্জামানের মত ক্রিকেটাররা বিপিএলে এসে পরিচিত পেলেও আগে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিকেটে নামডাক ‍কুড়িয়েছেন। এখন প্রশ্ন হতে পারে বিপিএলের একেবারেই কোনো নিজস্ব প্রোডাকশন নেই কেন? – সারাবছর কোনো কার্যক্রম না থাকলে প্রোডাকশন থাকবে কী করে!

আইপিএলের দলগুলো এক জার্সি বিক্রি করেই কোটি কোটি টাকা আয় করে ফেলে। সেখানে আমাদের বিপিএলে কি হয়? আমাদের দল মালিকরা ক্রিকেট দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং করে। তারা চায় নাম, যশ, খ্যাতি, সোশ্যাল স্ট্যাটাস।

এর মধ্যেও কোনো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের মত করে বছরজুড়ে নানা রকম ক্যাম্পেইন, ট্যালেন্ট হান্টের চেষ্টা করে। যদিও, সেটাও যথেষ্ট নয়। পুরো প্রক্রিয়া দেখভালের দায়িত্ব বিসিবির। কিন্তু, তারাও বিপিএলকে ঠিক প্রতিভা অন্বেষণের উপায় হিসেবে দেখে না।

সেজন্য, একাদশে সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি খেলানোর নিয়মেও আমাদের পোষায় না। সেটাকে বাড়িয়ে পাঁচজন করতে হয়। সারা দেশ থেকে প্রতিভা বের করে আনার কর্মসূচি আর বিসিবি একটু কঠোর হলেই এই দিন দেখতে হত না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।